স্বপ্নের মধ্যে দুই মানুষের কথোপকথন সম্ভব!? চাঞ্চল্যকর যে দাবি বদলে দিতে পারে সব বোঝাপড়া

Lucid Dreamer Communication: দুই মানুষের মধ্যে কোনও কথোপকথ নেই, শারীরিক যোগ নেই। তবু তারা কথা বলছেন, স্বপ্নে! আসলে

inscript
৩ মিনিট
স্বপ্নের মধ্যে দুই মানুষের কথোপকথন সম্ভব!? চাঞ্চল্যকর যে দাবি বদলে দিতে পারে সব বোঝাপড়া

স্বপ্ন দেখছেন দু’জন। সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বপ্ন, ভিন্ন আবহে। এই দুই মানুষের মধ্যে কোনও কথোপকথ নেই, শারীরিক যোগ নেই। তবু তারা কথা বলছেন, স্বপ্নে! আসলে তাঁদের নয়, তাঁদের স্বপ্নের কথোপকথন হচ্ছে! হলিউডি সাই-ফাই নয়। বাস্তবে নাকি এমনটা ঘটানো সম্ভব! ক্যালিফোর্নিয়ার REMspace নামের এক স্টার্টআপ দাবি করেছে যে, স্বপ্ন দেখার সময় মানুষকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এমন এক উপায় খুঁজে পেয়েছে তারা। যদিও এখনও এই কোম্পানি তাদের দাবির সমর্থনে কোনও তথ্য বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রকাশ করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়াতে, REMspace-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল রাডুগা দাবি করেছেন, এই বিষয়ে বিশদে তথ্য প্রকাশ করতে বছর খানেক সময় লাগতে পারে। এই মুহূর্তে একটি সাংবাদিকদের জন্য তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যাতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দুই স্বপ্নদর্শীর মধ্যে সফল কথোপকথন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জম্বিদের মস্তিষ্ক কেমন? তিন 'মৃতের' মাথা পরীক্ষা করে শিউরে ওঠা তথ্য জানালেন গবেষকরা

Zombies of Haiti: তিনজন জম্বির ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি এবং ডিএনএ পরীক্ষা করে সত্যটা জানা যায় অবশেষে

রাডুগা বলছেন, ২৪ তারিখের পর আবার ৮ অক্টোবর এই পরীক্ষাটি করা হয়। দুই স্বপ্নদর্শীর মধ্যে কথোপকথনে প্রাথমিকভাবে একটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ দুই ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে কোনও একটি নির্দিষ্ট শব্দের আদানপ্রদান হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই আদানপ্রদান, কথোপকথন আরও জটিল হতে পারে। অর্থাৎ স্বপ্ন থেকে স্বপ্নের যোগাযোগে আরও বড় শব্দ, বাক্যের চলাফেরা সম্ভব। তবে এই বিষয়টি ঘটে একমাত্র লুসিড ড্রিমিংয়ের সময়।

লুসিড ড্রিমিং কী? এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে সচেতন যে তারা স্বপ্ন দেখছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে কিছু মানুষের সেই স্বপ্নলোকের কিছু দিক নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও থাকে। বিগত কয়েক বছর ধরে, রাডুগা এবং তার কোম্পানি সুস্পষ্ট স্বপ্নের সম্ভাবনাকে বোঝার প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। বিজ্ঞানীদের একাংশের বিশ্বাস, এই বিষয়টি মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা সমাধান করতে বা নতুন দক্ষতা শিখতে সাহায্য করতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হুইলচেয়ার চলবে রোগীর মস্তিষ্কের জোরে! আশ্চর্য আবিষ্কারে তোলপাড় বিশ্ব

Electrical Wheel Chair: প্যারালাইজ়ড রোগী চালাবেন নিজের হুইলচেয়ার! কীভাবে?

রাডুগা দাবি করেছেন তাঁর নিজের মস্তিষ্কে একটি চিপ ঢোকানো হয়েছে। এই চিপ ঢোকানোর পদ্ধতিতে নাকি তিনি প্রায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জাও লড়েছেন। তবে এমন বিচিত্র পদক্ষেপ করে আসলে তিনি কী অর্জন করতে চেয়েছিলেন বা চিপটির কাজ আসলে কী সেই সম্পর্কে কিছুই প্রাআয় জানা যায়নি। REMspace বিগত কয়েক বছরে কিছু অদ্ভুত পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। একটি এমন পরীক্ষার বর্ণনা দিয়েছে সংস্থা যাতে নাকি ঘুমন্ত অবস্থায়, লুসিড ড্রিমিংয়ের সময় মানুষ ভার্চুয়াল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।

কোম্পানির দাবি, তারা স্বপ্নদর্শীদের জন্য একটি বিশেষ ভাষায় কাজ করছে। রেমিও নামে পরিচিত এই সহজ উপভাষাটি ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি ব্যবহার করে বোঝা সম্ভব বলে মনে করা হয়। ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফিতে ঘুমন্ত মানুষদের মুখের পেশিতে ক্ষুদ্রতম নড়াচড়াও শনাক্ত করা যায়। যদিও এই পদ্ধতিটি এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও ফলাফল দিতে পারেনি।

নতুন পরীক্ষাটি বিষয়ে বলতে গিয়ে সংস্থাটি বলেছে, গবেষকরা ঘুমানোর সময় দু'জন ব্যক্তির মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দূর থেকে ট্র্যাক করেছেন। যখন প্রথম অংশগ্রহণকারীর রিডিং থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছিল যে তিনি স্বপ্নের মধ্যে ঢুকছেন, গবেষকরা সেই ব্যক্তির ইয়ারবাডের মাধ্যমে একটি একক রেমিও শব্দ পাঠিয়েছিলেন। তারপরে ঘুমন্ত ব্যক্তিরা তাদের স্পষ্ট স্বপ্নে শব্দটির পুনরাবৃত্তি করেন, এই প্রতিক্রিয়াটি একটি সার্ভারে ক্যাপচারে সংরক্ষণ করা হয়। এই রেকর্ডিংটি পরবর্তীতে দ্বিতীয় অংশগ্রহণকারীর কাছে পাঠানো হয় যখন তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এই ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে জানিয়েছিলেন যে শব্দটি তিনি পেয়েছিলেন।

তবে এই ফলাফলগুলি এখনও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি। তাই বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতিকে বৈধ না বলা পর্যন্ত, মান্যতা না দেওয়া পর্যন্ত, স্বপ্নের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি কাল্পনিকই থেকে যাচ্ছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।