সকালে ইস্তফা, বিকেলে নিয়োগ! আরজি করের সন্দীপ ঘোষকে বাঁচাতেই উদ্যোগী সরকার?

RG Kar Sandip Ghosh: আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের পর সন্দীপ কেন বলেননি, ওই যুবতীর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হয়েছে, আত্মহত্যার বিষয়টি কেন উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি?

inscript
৩ মিনিট
সকালে ইস্তফা, বিকেলে নিয়োগ! আরজি করের সন্দীপ ঘোষকে বাঁচাতেই উদ্যোগী সরকার?

সোমবার সকালেই বলেছিলেন, তিনি অপমানিত। এতই অপমানিত যে তিনি আরজি করের অধ্যক্ষ পদে তো ইস্তফা দিয়েইছেন, চাকরিও নাকি ছেড়ে দেবেন। তিনি এও বলেছিলেন, ‘স্বেচ্ছায়’ ইস্তফা দিচ্ছেন। কোনও রাজনৈতিক চাপে নয়। কয়েক ঘণ্টা পরেই দেখা গেল, যে শহরের কলেজে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে, সেই কলকাতা শহরেরই অন্য একটি কলেজে তাঁকে সরকার বদলি করে দিল! অর্থাৎ তিনি থাকছেন। তাঁর উপর সরকারের ভরসাও থাকছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে, তৃণমূল সরকার কি এই ইস্তফার আড়ালে রক্ষা কবচ দিল আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে? আন্দোলন বাড়তে থাকায়, সরকার নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই কি সন্দীপকে একটি কলেজ থেকে সরিয়ে অন্যত্র পাকাপাকি বন্দোবস্ত করে দিল?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজেরই প্রাক্তনী ছিলেন সন্দীপ ঘোষ! তারই অধ্যক্ষ থাকাকালীন আরজি কর হাসপাতালে নারকীয় ধর্ষণ ও হত্যা ঘটে যায়। তাঁরই বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি এই ধর্ষণকাণ্ডে মৃতার দিকেই অভিযোগ তোলেন, এক মেয়ে অত রাতে ঘুরছিলেন কেন! অভিযোগ, সন্দীপ ঘোষই মৃতার বাড়িতে ফোন করে বলেন চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। বহুকাল থেকেই অভিযোগ রয়েছে, খোদ অধ্যক্ষ হাসপাতালের বহু দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। বহুবার তাঁর বদলি হলেও তিনি বহাল থেকে যান আরজি করেই। কার নির্দেশে? কার বরাভয়ে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃতকেই দুষেছিলেন, আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ আসলে কে?

RG Kar Rape Case গাফিলতি, দুর্নীতির পরও কেন রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ?

আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের পর সন্দীপ কেন বলেননি, ওই যুবতীর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হয়েছে, আত্মহত্যার বিষয়টি কেন উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি? নিজের গদি বাঁচাতে? যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সন্দীপ। তিনি বলেছেন, একা মেয়ের রাতে ঘোরা নিয়ে কিছুই বলেননি তিনি। তাঁর মুখে কথা বসানো হয়েছে। আত্মহত্যার কথাও নাকি তিনি বলেননি। চিকিৎসক সংগঠনের সদস্যেরা বলছেন, বদলি নয়। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত করতে হবে কারণ তিনি এই ঘটনার তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করেছেন।

সন্দীপ ঘোষ প্রভাবশালী এই নিয়ে সন্দেহ নেই। সরকারি নিরাপত্তা পেতেন সন্দীপ। তৃণমূলের প্রতি তাঁর আর তাঁর প্রতি তৃণমূলের সমাদর গভীরপ্রোথিত। লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের দিন তৃণমূলের জয়ের পর সবুজ আবির মেখে আঙুলে 'ভিক্ট্রি' চিহ্ন দেখিয়ে তাঁর ছবিও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে। অর্থাৎ সন্দীপ ঘোষ যে শাসকদলের আস্থাভাজন তা স্পষ্টই। তাই তাঁর ইস্তফাকে ‘লোকদেখানো’ বলেই মনে করছেন একাংশের নাগরিক। আসলে ইস্তফা দিয়ে নিজে নিরাপদে অন্যত্র চলে গেলেন তিনি, বলা ভালো তাঁকে এই নিরাপত্তার গ্রিন করিডোর করে দিল খোদ সরকারই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আন্দোলনের জের না উপরমহলের চাপ? কেন পদত্যাগ আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের?

R G Kar Rape Case: সোমবার পদত্যাগ করেছেন সন্দীপ ঘোষ! বলেছেন, ‘নৈতিক দায়িত্ব’-এর কারণেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।

আগেও তো একাধিক বার বদলি হয়েছিল। প্রতিবারই তিনি ফিরে আসেন আরজি করের অধ্যক্ষ পদে। এক বার সন্দীপের পরিবর্তে উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সনৎ ঘোষকে আরজি করে আনা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ফের সন্দীপ ওই পদে ফিরে আসেন। গত সেপ্টেম্বরে সন্দীপকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অস্থি বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। ২১ দিনের মাথায় আবার তিনি আরজি করে আসেন। আরজি করের অন্দরের খবর, সন্দীপ ঘোষ ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা চিকিৎসক শান্তনু সেনের বিরোধী গোষ্ঠীর। শোনা যায়, শান্তনু সেনকে রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানোর নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছিলেন সন্দীপই।

সোমবার সকালে আরজি করের অধ্যক্ষের পর থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে বিকেলেই তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষের পদে। আর তারপরেই সন্দীপের বিরুদ্ধে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পডুয়াদের একাংশও আন্দোলনে নামেন। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁরা। তালা ঝুলিয়ে দেন অধ্যক্ষের ঘরে। তাদে দাবি, কোনও অবস্থাতেই কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে সন্দীপকে মেনে নেবেন না পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ন্যাশনাল মেডিক্যালেও বাড়ছে আন্দোলনের আঁচ! যে অধ্যক্ষ পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও সরকারের বদলির নির্দেশিকাকে নিজের মতো বদলে বদলে আরজি করেই ফিরতে পারেন, এমন নারকীয় ঘটনার পরেও সরকার যে অধ্যক্ষকে অন্য কলেজে বদলি করে 'বাঁচাতে' চায় সেই অসীম ক্ষমতাধর সন্দীপ ঘোষকে তালা বন্ধ করে কি আটকাতে পারবেন পড়ুয়ারা?

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।