চিরকালের জন্য দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে রাসায়নিক রঙ, সতর্ক থাকুন

Holi Celebrations 2026: আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা রয়েছে রঙয়ের তুলনায় আবির বোধহয় কম ক্ষতিকারক।কিন্তু তা একেবারেই ঠিক নয়।

Piya Saha
২ মিনিট
চিরকালের জন্য দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে রাসায়নিক রঙ, সতর্ক থাকুন

আকাশ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে বসন্তের কোকিলের সুর। সকলেই কাছের মানুষদের সঙ্গে মেতে উঠছেন রঙ খেলায়। তবে সজাগ হোন রঙ কেনার সময়ে। একদিনের আনন্দ যেন আপনার শরীরের কাছে পীড়াদায়ক না হয়ে ওঠে। বাজারে বিভিন্ন গুণমানের রঙ পাওয়া গেলেও সবকটি ত্বক ও চুলের জন্য ভালো নয়। কিন্তু আপস করবেন না বছরের একটি দিন। দোল উৎসবে মন খুলে আনন্দ করুন ভেষজ আবিরে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে যেসব আবির পাওয়া যায় তার বেশিরভাগেই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থাকে। সীসার মত রাসায়নিক উপস্থিত রয়েছে বাজারের রঙ এবং আবিরে। ভেষজ বা প্রাকৃতিক আবির এক্ষেত্রে একমাত্র বিকল্প।

প্রাকৃতিক রঙ বা আবির কী?

সহজ কথায় বললে, প্রকৃতি থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে আমরা যে রঙ বানাতে পারি তাকেই বলে প্রাকৃতিক রঙ। অন্যভাবে বলা যায় প্রাকৃতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই রঙ বা আবির তৈরি করা হয়। কোনোপ্রকার রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না এই রঙ প্রস্তুত করতে।

যেহেতু বাজারের রঙে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তাই অনেকেই দোল খেলতে চান না। আবার অনেকে অ্যালার্জির সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের জন্যও রঙ মাখতে ভয় পান। তবে ভেষজ আবিরের ক্ষেত্রে এই ভয় নেই। নির্দ্বিধায় এমন মানুষেরা মেতে উঠতে পারেন দোলের হুল্লোড়ে।

রাসায়নিক রঙের ভয়াবহতা

বাজারের চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল রঙ শুধুমাত্র মানুষ নয় কুকুর বিড়াল বা যে কোনো প্রাণীর জন্যই ক্ষতিকারক। এমনকী পরিবেশ দূষণও হয় এই রঙের ব্যবহারে। আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা রয়েছে রঙয়ের তুলনায় আবির বোধহয় কম ক্ষতিকারক। কিন্তু তা একেবারেই ঠিক নয়। দেখা গেছে আবিরের রঙ ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। বিশেষত যাদের অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (ত্বকের প্রদাহ) এবং এক্সিমার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে আবির রোগগুলির প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আবিরকে আরও চকচকে করতে অভ্র এবং মিহি কাঁচের গুঁড়োর মতো উপাদান মেশানো হয়। এর ফলে মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। অ্যাকনের মত সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। বাতাসে মিশে থাকা আবিরের কণা শ্বাসনালীতে ঢুকে সর্দি, কাশি হওয়ার পাশাপাশি অ্যাজমার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়াও আবিরের রঙে রেড অক্সাইড,মেটানিল ইয়োলো এবং ম্যালাকাইট গ্রিন ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিক থেকে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। ক্ষতি হতে পারে চোখের কর্নিয়ার। বাচ্চাদের বিভিন্ন রকমের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবার বেশিরভাগ দোলের রঙ বিভিন্ন অক্সাইডাইজড ধাতু ও ইঞ্জিন তেল মিশিয়ে রঙ তৈরি করা হয়। যেমন, কপার সালফেট থেকে সবুজ রং, ক্রোমিয়াম আয়োডাইড থেকে বেগুনি রঙ, অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড থেকে রূপালী রঙ তৈরি করা হয়। এইসব রাসায়নিক উপাদানগুলি থেকে চামড়ার অ্যালার্জি, চোখ জ্বালা এমনকী অস্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে ।

ভেষজ আবির বা রঙ খুব সহজেই আপনি নিজেও বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে আপনিও সুস্থ থাকবেন এবং পরিবেশও রক্ষা পাবে।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।