১০ বছর ধরে একটি কফি মেশিনের দিকে তাক করা ছিল বিশ্বের প্রথম ওয়েবক্যাম! কেন?

Coffee Pot Webcam : ট্রোজান রুম কফি পট সত্যিই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ইতিহাসে জায়গা করেছিল।

inscript
৩ মিনিট
১০ বছর ধরে একটি কফি মেশিনের দিকে তাক করা ছিল বিশ্বের প্রথম ওয়েবক্যাম! কেন?

ওয়েবক্যাম। ভাগ্যিস ছিল, নাহলে কোভিডের সেই দিনগুলিতে একে অপরের সঙ্গে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থেকেও জুড়ে থাকা যেত না সামাজিকভাবে। একসঙ্গে অনলাইনে গেম খেলা যেত না। দূরবর্তী স্থানে থেকেও অফিসের মিটিং করা যেত না। আবার ওয়েবক্যাম আছে বলেই গোপনে আমাদের কে বা কারা দেখে যায় নিয়ত, জানতেও পারি না। আমাদের গোপনীয়তা, আমাদের নিভৃত সময়ে কারা সব কিছু দেখে ফেলে আড়ালে বসেই, বোঝা যায় না। অথচ ওয়েবক্যামের কাজ কিন্তু মোটেও ছিল না এমন। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, ওয়েবক্যাম আসলে তৈরি হয়েছিল কফি দেখার জন্য!

কফি আবার দেখার কী আছে? চায়ের সঙ্গেই বিকল্প হিসেবে আসে কফির নাম। অনেকেই কফির নেশায় পড়ে যান। কিন্তু কফিকে ওয়েবক্যামে দেখার কী আছে এত? এই গল্প লুকিয়ে আছে 'ট্রোজান রুম কফি পট’-এ। বিষয়টার শুরু ১৯৯১ সালে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সবে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। কম্পিউটার বিজ্ঞানী কুয়েন্টিন স্ট্যাফোর্ড-ফ্রেসার, সহ গবেষক পল জার্ডেটস্কির সঙ্গে মিলে এই কফি পট ক্যাম তৈরি করেছিলেন।

১৯৯৫ সালে লেখা আত্মজীবনীতে কুয়েন্টিন স্ট্যাফোর্ড-ফ্রেসার বলছেন, "আমি ট্রোজান রুম নামে পরিচিত কম্পিউটার ল্যাবের একটি অংশে এটিএম নেটওয়ার্কে কাজ করছিলাম। আমাদের মধ্যে প্রায় পনেরো জন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় জড়িত ছিলাম। টাকাপয়সা ছিল না তেমন, গরিবই ছিলাম সবাই। ফলে আমাদের কেবল একটিই কফি ফিল্টার মেশিন ছিল, সেটি ট্রোজান রুমের ঠিক বাইরের করিডোরে থাকত।" সারাদিন গবেষণা ও কাজ করতে করতে বিরতিতে কফি যে কী গুরুত্বপূর্ণ পানীয় তা আর বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু কফি ফিল্টার মেশিন মাত্র একটা। ফলে সকলেই ওই একটিই কফি মেশিনের উপর চরম নির্ভরশীল। ফলে যা হওয়ার তাই, কিছু লোক কফি পায়, কিছুজনের ভাগ্যে লবডঙ্কা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সেলিব্রিটিদের পছন্দ, মল থেকে তৈরি এই কফির নেপথ্য ইতিহাস জানলে শিউরে উঠবেন

প্রাণীর মল থেকে কফি! তা-ও আবার এত দাম? কী ভাবে তৈরি করা হয় এই কফি?

কিছু গবেষক ওই বিল্ডিংয়ের অন্যান্য অংশে থাকতেন। কফির মেশিন অবধি আসার জন্য বহু সিঁড়ি ওঠানামা করে ঝক্কি পোহাতে হতো। এসেও হয়তো দেখতেন কফি নেই। স্ট্যাফোর্ড-ফ্রেসার বলছেন, বিষয়টা মনে হতেই পারে কী এমন আর! অথচ কম্পিউটার বিজ্ঞানের পুরো ভবিষ্যতই ক্ষতির মুখে ছিল! কফির অভাব থেকেই XCoffee প্রোগ্রামটির জন্ম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুফি সাধকদের রাতের ওষুধ! কীভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জন্মাল বিশ্ববিখ্যাত কফি 'মোকা'?

History of Mocha Coffee: ১৪৫০ সালে, ইয়েমেনের ইসলামিক সুফিরা গভীর রাতের প্রার্থনার সময় জেগে থাকার জন্য প্রথম মোকা কফি খেতে শুরু করেছিলেন।

স্ট্যাফোর্ড-ফ্রেসার লিখছেন, “আমরা একটি ক্যামেরা স্ট্যান্ডে বসাই, করিডোরের কফি মেশিনের দিকে ক্যামেরার চোখ ঘুরিয়ে রাখি এবং ট্রোজান রুমের নীচ দিয়ে তারগুলি নিয়ে আসি। জারডেটস্কি তারপরে একটি 'সার্ভার' প্রোগ্রাম লেখেন। মেশিনে সেই প্রোগ্রাম চালানো হয় এবং বিভিন্ন রেজোলিউশনে প্রতি কয়েক সেকেন্ডে কফি পটের ছবি তোলা হতে থাকে। আমি একটি 'ক্লায়েন্ট' প্রোগ্রাম লিখেছিলাম, এই প্রোগ্রাম প্রত্যেকে চালাতে পারে। প্রোগ্রামটি সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। কম্পিউটার স্ক্রিনের এক কোণে কফি পটের একটি আইকন দেখা যেত।"

১৯৯৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ট্রোজান রুম কফি পট সত্যিই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ইতিহাসে জায়গা করেছিল। মার্টিন জনসন ছিলে আরেক ক্যাফিনপ্রেমী কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তবে কেমব্রিজের ইন্টারনাল সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন না তিনি। ফলে এই XCoffee চালাতে পারেননি মার্টিন। প্রথম তিনিই প্রোগ্রামটি অনলাইন করে দেন।

২০১২ সালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে মার্টিন বলেন, যে ছবিগুলো তোলা হচ্ছিল সেগুলোকে নিয়ে একটি ছোট স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন তিনি। প্রথম সংস্করণটি সম্ভবত মাত্র ১২ লাইনের কোড ছিল। ছবিটি মিনিটে প্রায় তিনবার আপডেট করা হয়। কফির পাত্রটি যেহেতু ধীরে ধীরে ভরত তাই এই প্রতি মিনিটে তিনবার হিসেবটা খুব কমও না। ছবিও ছিল কেবল গ্রেস্কেলে। তাও ঠিকই ছিল, কারণ কফির রঙও তেমনই। ট্রোজান রুম কফি পট ৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ভাইরাল হয়ে যায়। সারা বিশ্বের মানুষই চাইলে কেমব্রিজের কফির অবস্থা দেখতে পেতেন।

এখন যদি দেখতে ইচ্ছে করে সেই কফির পাত্রটিকে? ওয়েবক্যামটি থেমে গিয়েছে। ২০০১ সালের ২২ অগাস্ট চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এই সিস্টেমটি৷ সফটওয়্যারটির দেখভাল হচ্ছিল না একেবারেই। ট্রোজান রুম কফি পটটিও অনলাইনে নিলাম ডেকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ৪,০৯৫ ডলারে বিক্রি হয় সেই পাত্র।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।