পুজোয় জোয়ার ক্ষণিকের প্রেমেরই! কেন হু হু করে বাড়ছে 'ফেস্টিভাল ডেটিং'?

Festival Dating in Durga Puja 2023 : সোশ্যাল মিডিয়ায় দম্পতিদের, প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভালো সময় কাটাতে দেখার ছবি এর বড় কারণ।

inscript
৩ মিনিট
পুজোয় জোয়ার ক্ষণিকের প্রেমেরই! কেন হু হু করে বাড়ছে 'ফেস্টিভাল ডেটিং'?

উৎসবের মরসুম, প্যান্ডেলে ঝলমলে আলো, পেট ভর্তি বাইরের হাবিজাবি খাবার, গায়ে নয়া ঝকমারি বস্ত্র, পায়ে ভিড় ঠেলে লাইন দিয়ে তুলে আনা সেরা জুতোটি, অফিসও ছুটি। এবার জম্পেশ একখানা প্রেম হলেই পুজোটি সার্থক! এমন ভাবনা কয়েকবছর আগে অবধি জ্যান্ত ছিল। পুজোর প্রেম ধারণাটি পুজোর গান, পুজোসংখ্যার মতোই ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু। তা বলে কি মনের উচাটন, শরীরের দোলাচল কমে গিয়েছে? নাহ! আসলে বদলেছে প্রেমের দর্শন। পুজোয় প্রেম আজও খোঁজে মানুষ, নাম বদলে। পাড়ার সেই 'ক্রাশ'টিকে একঝলক দেখার অপেক্ষা ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে, বেড়েছে ডেটিং। বিবিধ অ্যাপের সৌজন্যে পুজোয় ডেটিং প্রবণতা Gen-Z এবং মিলেনিয়ালসদের মধ্যে বাড়ছে হু হু করে৷

ডেটিং অ্যাপ বাম্বল সম্প্রতি দেশজুড়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতেই ধরা পড়েছে উৎসবের সময় ডেটিংয়ের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা৷ সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন যে তারা উৎসবে ডেটিং করতে আগ্রহী। পুজোর মরসুমে তারা কারও না কারও সঙ্গে 'ডেট' করতে চান। এই জনপ্রিয় বিষয়টারই নাম ফেস্টিভাল ডেটিং! শব্দটি শুনেই বোঝা যাচ্ছে, ফেস্টিভাল ডেটিং মানে উৎসবের মরসুমে কাউকে ডেট করতে চাওয়া। প্রেমের সঙ্গে এই ডেটিংয়ের ফারাক কী? ধরা যাক আপনি অবিবাহিত, প্রেমও নেই সেই অর্থে, অথবা থাকলেও দূরত্বে। এদিকে উৎসবে প্রাণ-মন উথালপাথাল করে হরমোন খুঁজছে মনমতো সঙ্গী। সেই মুহূর্তে বিশল্যকরণী হয়ে হাজির ডেটিং অ্যাপ। সেখানে পছন্দসই সঙ্গী বাছাই করে, দেখা করে পাশে সেই বিশেষ সঙ্গীকে নিয়ে উৎসব উদযাপনের নামই ফেস্টিভাল ডেটিং। সম্পর্কের কপালে থাকলে উৎসবেই ইতি না হয়ে তা কিঞ্চিৎ এগোতেও পারে। কিন্তু কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে ফেস্টিভাল ডেটিং?

মনস্তত্ত্ব ও আচরণ বিজ্ঞান বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দম্পতিদের, প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভালো সময় কাটাতে দেখার ছবি এর বড় কারণ। হয়তো আপনার ফেসবুক জুড়ে কেবলই জুটিদের ভিড়, তারা কী করছে, কোথায় খেতে যাচ্ছে, কোন লোকেশনে গিয়ে প্রেমময় ছবি পোস্ট করছে এসব নিয়তই আপনার মোবাইল পর্দায় ভেসে উঠছে আর আপনি একাকী বোধ করছেন তত। এ খানিক প্রদর্শন প্রভাবই বলা যায়। উত্সব চলাকালীন একা থাকার বিষয়ে আত্মসচেতন হওয়া বেড়ে যায়। সারাবছর এই ছুটির জন্যই কেবল অপেক্ষা করে না মানুষ, এই ছুটি কার সঙ্গে কাটাবে সেই নিয়েও বিশেষ আকাঙ্খা তৈরিই থাকে মনে।

বাম্বলের ওই সমীক্ষা বলছে, ৩৬ শতাংশ ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গেই উৎসব উদযাপন করতে পছন্দ করেন। ফেস্টিভাল ডেটিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার পরিপ্রেক্ষিতে বাম্বল জানাচ্ছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ১৮ শতাংশ এইসব উৎসব অনুষ্ঠানগুলিতে 'ডেট' খোঁজার জন্য উন্মুখ। ২৭ শতাংশ ভারতীয়ই নিজেদের প্রেমের সঙ্গেই উৎসব কাটাতে পছন্দ করে। উৎসব কাটানো বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃৎশিল্পীর ভুলে দেবী হয়ে গেলেন নীল, কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস আজও বিস্ময় জাগায়

Durgapuja 2022: নদিয়া জেলার বহু বনেদিবাড়ি যুগ যুগ ধরে শামিল হচ্ছে এই উৎসবে। আজ মায়ের বিদায়-লগ্নে ছুঁয়ে দেখা সেইসব ঐতিহ্যকে।

সমীক্ষা বলছে ভারতীয়রা তাদের 'ডেট' বা সঙ্গীর সঙ্গে পুজোর কেনাকাটা করা, উৎসবে উপহার দেওয়া, উৎসবের সময় একসঙ্গে পার্টিতে যাওয়া এবং একসঙ্গে পুজো করতে আগ্রহী। বাম্বলের ইন্ডিয়া কমিউনিকেশন ডিরেক্টর সমর্পিতা সমাদ্দার জানাচ্ছেন, উৎসবের মরসুমে আকাশে বাতাসে রোম্যান্স থাকে একথা সত্য! এই উৎসবের ঋতুতে সারা দেশই একযোগে উত্সবে সামিল হতে চায়। নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি অন্য টান অনুভব করে, ঘরে ফেরার ডাক অনুভব করে। এই যে শিকড়ের প্রতি টান, তারই ডালপালা বেয়ে ওঠে প্রেম।

উৎসবগুলির সময় অনলাইনে 'ডেটিং' খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের কিছু পছন্দের তালিকা দেখলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। উৎসবের মজা পেতে চান, পছন্দের জায়গায় যেতে চান বা পছন্দের খাবার খেতে চান এমন সব পছন্দের উল্লেখ থাকায় মনের মতো সঙ্গী পাওয়ার বিষয়টি সহজ হয়ে যায় অনলাইন অ্যাপে। তবে, পাশাপাশি এই অ্যাপ ও ডেটিং প্রবণতাই বলে দেয় এই জীবন কতখানি টলমলে। ক্ষণিকের সুখ পেতে মরিয়া মানুষ আসলে কোন গভীর একাকীত্বে ভুগছেন টের পাওয়া যায়। সমীক্ষা বলছে, ৩০ শতাংশ ভারতীয়ই উৎসবের সময় একা থাকার বিষয়ে খুবই ছটফটে হয়ে যান, আত্মসচেতন হয়ে যান। ৩২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে কোনও 'ডেট' বা সঙ্গী ছাড়াই উৎসব আসলে বোরিং! সত্যিই কি তাই? একা বা অবিবাহিত মানুষের উত্সব কাটাতে সত্যিই 'প্রেম' দরকার?

কোনও সঙ্গী বা 'ডেট' না থাকলে উৎসবের সময় একা বোধ হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি নিজের শহর থেকে দূরে থাকেন৷ তবে সত্যকে স্বীকার করাই উচিত যে আপনিই এমন একমাত্র ব্যক্তি নন যিনি উৎসবে বাইরে আছেন বা একা আছেন। FOMO বা ফিয়ার অব মিসিং আউট-কে এত পাত্তা না দেওয়াই ভালো। আপনার বন্ধুরা নিজেদের 'ডেট' নিয়ে ব্যস্ত বা প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গেই উৎসব উদযাপন করছে দেখে নিজেকে একা ভাবা ঠিক না। অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে নিজেকেই আরও একঘরে করে দেওয়ার প্রবণতা মারাত্মক। এই জাতীয় ভাবনা থেকে দূরে থাকতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করুন। উত্সবের মরসুমে নিজের কথা ভাবুন, নিজেকে সময় দিন। কোনও 'ডেট' বা 'প্রেম' ছাড়াই উত্সব উপভোগ করতে পারেন৷ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে উত্সবে মাতুন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।