অশরীরীর কান্না, রহস্যময় গোলকধাঁধা! পুজোর ছুটিতে গা ছমছমে সফর সারুন নবাবদের শহরে

পুজোর ছুটিতে ঘুরতে পারবেন এই ঐতিহাসিক শহর, তেমন অল্প-স্বল্প স্বাদও পেতে পারেন ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাওয়া রহস্যের।

Sanchari Bhowmik
৩ মিনিট
অশরীরীর কান্না, রহস্যময় গোলকধাঁধা! পুজোর ছুটিতে গা ছমছমে সফর সারুন নবাবদের শহরে

ভাদ্রর আকাশ জানান দিচ্ছে, পুজো আর মাত্র ক'টা দিন পরেই। ছুটি বলতে এই পুজোর সময়েই যা পাওয়া যায়, তাই মনের স্বাদ মেটাতে এক মুহূর্ত কেউ নষ্ট করতে চান না। তবে অনেকেই পছন্দ করেন অ্যাডভেঞ্চার, ছুঁতে চান রহস্যের নানা পরতকে। ভূতুড়ে, গা ছমছমে অভিজ্ঞতা লাভ করতে চাইলে এই ছুটিতে পাড়ি দিতে পারেন লখনউতে। রথ দেখা ও কলা বেচা দুই-ই হবে এই সুযোগে। পুজোর ছুটিতে ঘুরতে পারবেন এই ঐতিহাসিক শহর, তেমন অল্প-স্বল্প স্বাদও পেতে পারেন ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাওয়া রহস্যের। এমনিতেই লখনউকে বলা হয় নবাবদের শহর।

এই শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে রয়েছে রহস্য ও ইতিহাস। এখানে অতীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিরীহ মানুষ নবাবদের অত্যাচারে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাঁদেরই অতৃপ্ত আত্মা নাকি এখনও ঘুরে-ফিরে বেড়ায় লখনউতে। বিখ্যাত সিকান্দারবাগ, বড় ইমামবাড়া থেকে শুরু করে ওইএল হাউস এবং বলরামপুর হাসপাতালকে নিয়ে রয়েছে নানা রকমের ভয়ার্ত কাহিনি। আপনি যদি ভূতে বিশ্বাস না করেন, তাহলে একবার রাত কাটিয়ে আসতেই পারেন এই জায়গাগুলো থেকে। রইল হদিশ।

ওইএল হাউস

লখনউয়ের ওইএল হাউসটিকে নিয়ে এমন সব গল্প রয়েছে, যা আপনাকে সারারাত জাগিয়ে রাখবে। নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ-র বাসভবন ছিল এটা। ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের সময় বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ সৈনিককে মেরে কুয়োর ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়। ওখানকার স্থানীয় মানুষেরা এখনও বিশ্বাস করেন যে, ওই সৈন্যদের আত্মারা গোটা বাড়ি দখল করে রেখেছেন। এই ঘটনা আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে, যখন একটি বাচ্চা ছেলেকে কুয়োর পাশে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন যে, বাচ্চাটি কুয়োতে ঢিল মেরে মৃত সৈন্যদের বিরক্ত করছিল বলে অকালে তাকে প্রাণ দিতে হয়।

ওইএল হাউজ

বড় ইমামবড়া

বড় ইমামবড়ার ভেতরে এমন সব ম্যাজ রয়েছে, স্থাপত্য রয়েছে- যা দেখলে আপনার গা একটু হলেও ছমছম করবে। একবার যদি কোনও ব্যক্তি এর মধ্যে হারিয়ে যান, তাহলে তাঁর বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিলের। এছাড়াও এর ভেতরে প্রতিটা পরতে রয়েছে রহস্য। শোনা যায়, ব্রিটিশরা ভারতীয় পুরুষদের এর ভেতরে নিয়ে এসে বন্দি করে রাখত!

বড় ইমামবড়া

বাড়া ইমামবড়ার সবথেকে আকর্ষণীয় জায়গা হলো এই ভুলভুলাইয়া। এখানে ১০২৪টি প্রবেশপথ রয়েছে; যেগুলির কোনও একটি দিয়ে আপনি ঢুকতে পারবেন। তবে বেরনোর পথমাত্র ২টি। তাই বহু মানুষ এখানে এসে হারিয়ে যান। এই গোলকধাঁধার জায়গাটি ইমামবড়ার একদম শীর্ষে অবস্থিত। ছোট ছোট অন্ধকার একাধিক সিঁড়ি অতিক্রম করতে করতে কখন খোলা বারান্দার ছাদে পৌঁছে যাবেন, তা বুঝতে পারবেন না। এই গোলকধাঁধাও সৃষ্টি করে ভৌতিক আবহাওয়া।

রেলওয়ে কোয়ার্টারস

এখানে গল্পটা শুরু হয়েছিল প্রেম দিয়ে, কিন্তু তার শেষটা মোটেও সুখকর ছিল না। এখানকার রেল কোয়ার্টারের একটি ঘর বরাদ্দ হয় বিল টার্নার নামে একজন ইঞ্জিনিয়ারের নামে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী এখানে থাকতেন। একদিন তিনি কাজ থেকে বাড়ি ফিরে তাঁর সুন্দরী স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখেন। আর তখনই তিনি তাঁর রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বন্দুক বের করে হত্যা করেন স্ত্রীকে। আর এরপর থেকেই এই কোয়ার্টারটি ভূতুড়ে বলে পরিচিত ওখানকার বাসিন্দাদের কাছে।

রেলওয়ে কোয়ার্টারস, লখনউ

সিকান্দরবাগ

লখনউয়ের অন্যতম বিখ্যাত জায়গা হলো সিকান্দরবাগ। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস, ভূতুড়ে রহস্য। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বহু মানুষকে হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। তাঁদেরই আত্মা এখনও ছড়িয়ে রয়েছে ওখানে, এমন দাবি করেন অনেকে। সূর্যাস্তের পর আর কেউ ওখানে যান না, রাতে ওই এলাকা হিমশীতল হয়ে আসে বলে শোনা যায়। এছাড়াও অনেকেই নাকি ওখান থেকে কান্নার শব্দ এখনও শুনতে পান।

বলরামপুর হসপিটাল

লখনউ শহরে এই হাসপাতালকে দেখলেই যেন শরীরের সব রক্ত শীতল হয়ে যায়। শোনা যায়, ব্রিটিশরা একটি কবরস্থানের ওপর এই হাসপাতালটি নির্মাণ করেছিলেন। যাঁরা নিজেদের সাহসের ওপর যথেষ্ট ভরসা করেন, তাঁরা চাইলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন এই হাসপাতালের, তবে এখনও পর্যন্ত নাকি সেখানে কিছু সমাধিও দেখতে পাওয়া যায়। এই হাসপাতালের রোগীরাও বিভিন্ন সময়ে নানা ভৌতিক ঘটনা অনুভব করেছেন বলে শোনা গেছে। তাই দুর্বল হৃদয়ের মানুষদের জন্য এই স্থানগুলো একেবারেই নিরাপদ নয়।

লিখেছেন
Sanchari Bhowmik
Sanchari Bhowmik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।