গালে ছুরি থেকেই নাম ফাটাকেষ্ট! এই কালীপুজোয় আসতেন বচ্চনও

Fatakeshto Kalipuja: ফাটাকেষ্টকে ঘিরেই এক ভিন্ন কালীপুজোর ইতিহাস বিরচিত হয় বারবার।

Ramen Das
৫ মিনিট
গালে ছুরি থেকেই নাম ফাটাকেষ্ট! এই কালীপুজোয় আসতেন বচ্চনও

'মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে!' মিঠুন চক্রবর্তীর মুখের এই সিনেমা-সংলাপ বিখ্যাত করেছিল পর্দার ফাটাকেষ্টকে। সিনেমার চরিত্রের লড়াইয়ে মেতেছিল বাংলা! কিন্তু বাস্তবেও ছিলেন এমনই একজন। যাঁর জীবন্ত লড়াই ছিল প্রায় রিলের মতোই। যাঁকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল একাধিক কথকতার ভিড়। তাঁকে ঘিরেই এক ভিন্ন কালীপুজোর ইতিহাস বিরচিত হয় বারবার।

কে এই মানুষটি? কী তাঁর ইতিহাস? কীভাবে তিনিই হয়ে উঠলেন বাস্তবের ফাটাকেষ্ট? অমিতাভ বচ্চন থেকে উত্তমকুমার, কেন জড়িয়ে গিয়েছিলেন ফাটাকেষ্টর কালীপুজোয়? একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেব আমরা। জানাব ফাটাকেষ্টময় এক যুগের পুজো-ইতিহাস।

ফাটাকেষ্ট কে

১৯৫০ সাল। কংগ্রেস শাসনের বাংলায় উদ্বুদ্ধ হল বামেরা। তীব্র শক্তিতে রাজপথ কাঁপল খাদ্য আন্দোলনের আবহে। এর সঙ্গেই কলকাতার সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের গোকুলে বেড়ে উঠছিলেন কৃষ্ণ। অর্থাৎ কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত। ১৯৭০-৭১ সাল। ফের উত্তপ্ত বাংলা। এবার শিয়রে নকশাল আন্দোলন। দিকে দিকে বোমা-গুলি-রক্ত আর প্রতিবাদের আগুনে পুড়ে খাক একাধিক। ঠিক এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাবার পানের দোকানে বসা ছোটখাটো কৃষ্ণ হয়ে উঠলেন কেষ্ট! নামের সঙ্গে ফাটা জুড়ল অনেক পরে। ওই এলাকার তিনজন কেষ্ট; বিড়ি, ড্রাইভার, পান। এই পানের আবহেই ক্রমশ পরিচিতি পেলেন এই কেষ্ট। যুগে যুগে সাহসী সত্তার আবির্ভাবের উদাহরণ সৃষ্টি করে, খানিকটা কংগ্রেসি রাজনীতির পরোক্ষ সাহায্যে নকশাল বিদ্রোহের আঁচ আটকে দিতে তৎপর হলেন পান-কেষ্ট।

একদিন নিজের বাড়ির কাছেই বরাহনগরের কুখ্যাত নীলু-কাণ্ডে, নিজের পাড়ার নকুলের ছুরিতে মুখ কাটল তাঁর। তারপর হাসপাতাল। সেখান থেকে ফিরেই নাম হলো ফাটাকেষ্ট। একবার বোমার আঘাতও হয় তাঁর ওপর। মির্জাপুর স্ট্রিটের গন্ডারের ছোড়া সেই বোমা ফাটেনি সেদিন। বরঞ্চ পাল্টা সেই বোমা ছুড়ে মারেন কেষ্ট!

এই কেষ্ট, অনুব্রত মণ্ডলের মতো গরু-কয়লা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন না। কিন্তু গুন্ডামি, ধনীদের ভয় পাওয়ানোয় ওস্তাদ ছিলেন তিনি। যদিও নাইট শো থেকে মেয়েদের ঘরে ফেরা থেকে শুরু করে এলাকার নারী নিরাপত্তায় দারুণ নজর ছিল তাঁর। নিজের দলের ছেলেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, মহিলাদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়।

বিয়ে করেছিলেন পালিয়ে। কথিত আছে, সেই লুকিয়ে বিয়ের পর বউমাকে নাকি স্বয়ং আশীর্বাদ করেছিলেন উত্তমকুমার! সোমেন মিত্র, কংগ্রেস। বাম। সব মিলিয়ে মধ্য কলকাতার অলিগলিতে মুখরিত হত ফাটাকেষ্টর নাম।

ফাটাকেষ্টর কালীপুজো

একদা বাঘে-গরুতে জল খেত যাঁর নামে, যাঁর নামে কাঁপত একটা এলাকা সেই ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর বহর বাড়তে থাকে নকশাল আমল থেকেই। পরাক্রমশালীর এই কালীপুজো এমন এক উৎসব হয়ে গিয়েছিল যে, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তা যেন ছিল, কলকাতার বিখ্যাত কোনও ক্লাবের বিরাট দুর্গাপুজোর মতো। এই পুজো নিয়ে যেমন তারকা-সংযোগ ছড়িয়ে আছে। ঠিক তেমনই এই পুজো নিয়ে আছে নানান কথকতাও।

গাঢ় নীল রঙের মাতৃ প্রতিমার দৈর্ঘ্য হয় বিরাট। যে রীতি পালিত হয় এখনও। সাবেকি প্রতিমার গয়না, নাকছাবি নিয়েও রয়েছে ইতিহাস। এই প্রতিমার ভাসান ছিল দেখার মতো। বহরে এখন অনেকটাই কমেছে ঠিকই, কিন্তু ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে এই পুজো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কীভাবে বাংলায় এল জনপ্রিয় ক্যাপ বন্দুক! অবাক করবে দুর্গাপুজোর এই খেলনার ইতিহাস

Cap Gun Nostalgia: সিভিল ওয়ারের পরবর্তীতে ১৯০০ সালের সময়কাল থেকে শুরু হয় সুপারহিরো সিনেমার চল। সেই সিনেমায় ব্যবহার করা হয় এই সমস্ত খেলনা বন্দুকের।

শোনা যায়, এই পুজোর সময় নাকি ভরে পড়তেন মহিলারা। একবার এক মহিলা বলেন, 'আমাকে (কালী) ছোট গ্লাসে জল দিস কেন!' সেই থেকে বড় গ্লাসে জল পান দেবী। আবার বিসর্জনের দিন বিরাট ব্যান্ড পার্টি আর লাইট সহযোগে শোভাযাত্রার সময় এক মহিলা ভরে পড়েন। তিনি জানান, 'আমাকে কাঁধে করে নিয়ে চল গঙ্গায়।' তারপর নাকি ওই বিরাট মূর্তি বহনে প্রচুর লোক লাগে। আবার এক মহিলার ভরে পড়ে লাল শাড়ি পরানোর আবদারও রাখতে হয় একবার।

ফাটাকেষ্টর পুজোয় তারকা-যোগ

ঠিক যে যে কারণে এই পুজো বিখ্যাত। তার মধ্যে অন্যতম এই পুজোর সঙ্গে তারকা-যোগ। উত্তম কুমার তো একবার নাকি বলেই ফেলেন, এই পুজো তাঁরও। আর তারপরেই উত্তম-পুত্রের দোকানের সামনে বোমা পড়ে। মারা যান এক মহিলা। তখন নকশাল আন্দোলন চলছে জোরকদমে। এই পুজোয় প্রতিবার উত্তম কুমারের যাতায়াত ছিল। আর সেই কারণেই মহানায়কীয় ছোঁয়ায় তখন বাদ যাননি টলিউডের অভিনেতা থেকে পরিচালক কেউ-ই। তারকা দেখতে এই পুজোয় ভিড় জমত আরও। একবার ১৯৮২ সাল নাগাদ মধ্যরাতে মঞ্চে উঠে গান গান আশা ভোঁসলে!

ফাটাকেষ্টর সঙ্গে কালীপুজোর তারকা অতিথি অমিতাভ বচ্চন ও বিনোদ খান্না

বিদেশ থেকে শুরু করে মুম্বই। দাউদ ইব্রাহিমের মতো না হলেও ফাটাকেষ্টর কালীর প্রভাব ছিল সর্বত্র। মূল পুজোর পিছন দিক থেকে ঢুকতেন তারকারা। রাজেশ খান্না, বিনোদ খান্না থেকে আরডি বর্মন। সমকালীন প্রায় কেউ-ই বাকি ছিলেন না ওই পুজোয় আসতে।

ফাটাকেষ্ট-অমিতাভ-নাকছাবি

পরিচালক দুলাল গুহর যাতায়াত ছিল ওই অঞ্চলের এক পানের দোকানে। ঠিক সেই সূত্রেই ফাটাকেষ্ট প্রবেশ করলেন গ্র্যান্ড হোটেলে। তখন অমিতাভ বচ্চন কলকাতায় এসেছেন 'দো আনজানে' ছবির শুটিং করতে। ফাটাকেষ্ট তাঁর ঘরে উপস্থিত হয়েই বলে ফেললেন, 'কবে যাবেন আমাদের পুজোয় বলুন!' বিস্মিত অমিতাভ রাজি হলেন। রাত দশটায় উপস্থিত হবেন পুজোয়। সেই মতো গাড়ি এল। অমিতাভ গেলেন ফাটাকেষ্টর পুজোয়। সংলাপ বললেন। দর্শকদের সামনে থাকলেন বহুক্ষণ। এর মধ্যেই কালী মূর্তির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন কয়েক মিনিট। এর পরে ফাটাকেষ্টর কালীর জন্য হিরে বসানো নাকছাবি পাঠান বিগ বি। যার মূল্য ছিল সেই সময়েই ৭৫ হাজার টাকা।

এক সময় 'নমকহারাম' ছবির সংলাপও এই পুজোয় গিয়ে বলেছেন অমিতাভ। যদিও এই নাকছাবি চুরি যায় পরে। একদিন ভোরে মঞ্চ ফাঁকা হতেই মূর্তির মাথার চুলের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পাড়ার একটি ছেলে চুরি করে। পরে ধরা পড়লেও বেচে দেওয়া নাকছাবি ততক্ষনে গলিয়ে ফেলেছেন স্যাঁকরা। যদিও এর পরিবর্তে সোনা দেওয়া হয়েছিল সেদিন।

সোমেন মিত্র-ফাটাকেষ্ট বিবাদ

সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের এই পুজো এবং সোমেন মিত্রের পুজো। যার অবস্থান ছিল আর্মস্ট্রিটে। এই দুই পুজোর মধ্যে ছিল ঠান্ডা লড়াই। কার পুজোর বহর কতবেশি, তাই নিয়ে একটা সময় চলত টানাপড়েন। ১৫ দিন ধরে প্রতিমা থাকত প্যান্ডেলে। এমন একটা অবস্থা ছিল, একে অন্যের তুলনায় প্রতিমা একদিন বেশি রাখতে পারলেই যেন যুদ্ধজয় হত! ফাটাকেষ্টর পুজোর ভাসান ছিল বিরাট। বহু আলোকের সমারোহ। বাজনা। সমগ্র মধ্য, উত্তর কলকাতার একটা বড় অংশ প্রদক্ষিণ করে এই পুজোর ভাসান হত। আবার সোমেন মিত্রের এলাকায় এই ঠাকুর পৌঁছলে তিনিই প্রণাম করতেন। ফাটাকেষ্টর সঙ্গে আলিঙ্গন করতেন। অনেকেই বলেন, ফাটাকেষ্টর বাড়ন্তে হাত ছিল সোমেন মিত্র-বিরোধী কংগ্রেসের একটা গোষ্ঠীর!

ফাটাকেষ্টর পুজো এবং বিতর্ক

একবার কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা আনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। নকশাল আন্দোলনে স্তব্ধ হয় সব। সেবার সোমেনের পুজোর ঠাকুরও আটকে যায়। কিন্তু ফাটাকেষ্ট প্রতিমা আনেন বিতর্ক কাটিয়ে। আবার বিসর্জনে একই সমস্যা হয় একবার। সেবারও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নিরঞ্জন হয় প্রতিমার। তখন প্রায় রোজ অভিযোগ উঠত, সমাজবিরোধীদের মদত দিচ্ছে কংগ্রেস সরকার। তাই এই বাড়াবাড়ি! যদিও তিনি কোন অর্থে সমাজবিরোধী ছিলেন, তা নিয়ে এখনও চলে তর্ক।

এদিকে ওই পুজোয় বহু শিল্পীর উপস্থিতি। লাখ লাখ টাকার যোগান নিয়ে প্রশ্ন উঠত বারবার। একাধিক বার পুলিশের সমস্যাও বাড়িয়ে দিতেন ফাটাকেষ্ট। অপরাধের ক্ষেত্রেও নাম জড়িয়ে গিয়েছে তাঁর। স্ত্রী নিয়েও একবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। আবার বাম-শাসনে কংগ্রেস ঘনিষ্ঠতা কমেছে ফাটাকেষ্টর। ক্রমশ এগিয়ে গিয়েছেন লালের দিকে।

ফাটাকেষ্টর প্রভাব

অনেকেই বলেন, এত তারকা সমাগম বা উত্তম কুমারের যোগ আসলে ভয়ের ফলেই। কারণ, অনেকেই জানতেন ওই সময়ে এমন কোনও লোকের সঙ্গে না থাকলে বিপদ আসতে পারে ঘনিয়ে! বিশেষভাবে কংগ্রেস, পরে বাম আমলে সিপিআইএম ঘেঁষা হয়েছিলেন ফাটাকেষ্ট। তাঁর পুজো চলত রাজনৈতিক সমর্থনেই। আয় কমেছিল ক্রমশ। কিন্তু প্রভাবে তিনিই ছিলেন সেই সময়ের সেরা।

ফাটাকেষ্ট-অবসান

তিনি ঠিক কতটা অবদান রেখেছেন সমাজে, এই নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বলা যায়, তিনিই এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যাঁর অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নারীর প্রতি ব্যবহার ছিল নিষ্কলঙ্ক। ফাটাকেষ্ট শুধু কালীপুজোয় বিখ্যাত নন, তিনি এক্ষেত্রেও ছিলেন অনন্য। এই লোকটি, যাঁর মৃত্যু হতে পারত বোমা, গুলি অথবা ছুরির আঘাতে। সেই লোকটি মারা গেলেন হৃদরোগে। ১৯৯২ সালে। তারপর থেকেও পুজো হয়। ফান্টাদের হাত ধরে আজও জেগে ওঠে দীপাবলির উৎসব। কিন্তু তিনি আর নেই! তাই জাঁকজমক হারিয়েছে এই পুজোও। শুধুই রয়ে গিয়েছে ইতিহাস আর ফেলে রাখা কিছু স্মৃতি।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।