শরীরে নিঃশব্দে বাড়ছে ক্যানসার! এবার যন্ত্র জানান দেবে এক দিনেই

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
শরীরে নিঃশব্দে বাড়ছে ক্যানসার! এবার যন্ত্র জানান দেবে এক দিনেই

নিউটাউনের ইন্টারন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি অফ পাব্লিক হেলথ অ্যান্ড টেকনোলজিতে বসল জিনোম সিকোয়েন্সিং মেশিন, যা এ শহরে প্রথম। জিনোম সিকোয়েন্সিং মেশিন দিয়ে খুব সহজেই কোনো মানুষের সমগ্র জিনের গঠন জানা যাবে, তাও একদিনে। এই মেশিনটির মডেল হল জেনেক্সাস সিকোয়েন্সার, যার নির্মাতা মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের থার্মো-ফিশার নামের একটি বহুজাতিক সংস্থা।

কী লাভ হবে জিন সিকোয়েন্সিং করে?

জিন সিকোয়েন্সিং-এর সাহায্যে জিনের গঠন জানা যায়, তা তো আগেই বলা হল। আমাদের জিনের গঠনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের আমাদের শারীরিক গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় শারীরিক কাজের রহস্য। শুধু এখানেই শেষ নয়, আমাদের জিনের গঠন দেখে বলে দেওয়া যায় আমাদের বা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদের কোনো বংশানুক্রমিক অর্থাৎ জিনগত অসুখ হতে পারে কিনা।

জিনগত অসুখের মধ্যে অন্যতম হল ক্যানসার, যা বাবা বা মায়ের পরিবার থেকে বাহিত জিন থেকে সন্তানের শরীরে আসতে পারে। ধরা যাক, বাবার মা, অর্থাৎ ঠাকুমার ক্যানসার আছে, তার পুত্রের তখনও ক্যানসার হয়নি অথচ শরীরে ক্যানসারের জিন রয়েছে। কিন্তু সেই জিন যে উপস্থিত আছে ইতিমধ্যেই পুত্রের শরীরে, তা কেউ টেরও পাননি। জিন সিকোয়েন্সিং করলে কিন্তু ধরা পড়বে পুত্রের শরীরে ক্যানসারের জিনের উপস্থিতি। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি আগেভাগেই নিজের শরীর নিয়ে সচেতন হবেন। এবং শুধু তাই নয় ওই ব্যক্তির পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদের ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনেক আগে থেকেই নিতে পারবেন।

এছাড়াও একাধিক বিরল জেনেটিক অসুখের জন্য দায়ী জিন বা জিনের পরিবর্তন ধরা পড়বে জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমেই। ন্যাশানাল পলিসি ফর ট্রিটমেন্ট অফ রেয়ার ডিজি়জে়র তথ্য অনুযায়ী ভারতীয়দের মধ্যে বিরল জেনেটিক অসুখগুলোর মধ্যে অন্যতম হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, সিকল-সেল অ্যানিমিয়া, ইম্যিউনো ডেফিসিয়েন্সি, লাইসোজো়মাল স্টোরেজ ডিসঅর্ডার, গশার্স ডিজি়জ়, সিস্টিক ফাইব্রোসিস প্রভৃতি।

প্রত্যেকটি রোগেরই ফলাফল মারাত্মক। এগুলির ফলে কেবল যে অবর্ণনীয় শারিরীক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা নয়, এর অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী।

জিন সিকোয়েন্সিং কী?

এবার আসা যাক আসল প্রশ্নে, তা হলো জিন সিকোয়েন্সিং কী। কিন্তু তার আগে জানতে হবে জিন কী এবং তার প্রাথমিক গঠন কী। জিন হল আমাদের ডিএনএ-এর একটি অংশ, যা এক বা একাধিক শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্যে দায়ী। সোজা কথায় জিন আদতে ডিএনএ বা ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের অংশ।

ডিএনএ-তে বা জিনে ক্রমান্বয়ে কতগুলো নাইট্রোজেন বেস সাজানো থাকে। প্রতিটি মানুষের ডিএনএ-তে কোন ক্রমে এই নাইট্রোজেন বেসগুলি সাজানো থাকবে, তা ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই একই। ওই ১ শতাংশ তফাতের জন্যে একটি মানুষ আরেকটি মানুষের থেকে এত ভিন্ন - তাকে দেখতে, তার চলন-বলন, তার শারীরবৃত্তীয় কাজের ধরণ কিংবা অসুখ-বিসুখের প্রকৃতি লক্ষ্যণীয় ভাবে আলাদা।

ডিএনএ-এর এই নাইট্রোজেন বেসগুলি কী কী? এগুলি হল অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, থিয়ামিন, এবং সাইটোসিন। এগুলি মানুষ নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট সিকোয়েন্স বা ক্রমে সাজানো থাকে। এই ক্রমই নির্ধারণ করে মানুষটির সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ কেমন হবে, এমনকি তাঁর কোনো জটিল রোগ আছে কিনা কিংবা ভবিষ্যতে কোনো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।

একাধিক জেনেটিক অসুখ থাকে, যা আবার জিনের পাকাপাকিভাবে রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে ঘটে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে মিউটেশন।

জিন সিকোয়েন্সিং করলে ধরা পড়বে মিউটেশন?

মিউটেশন হল জিনের স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন। একাধিক জিনগত অসুখের জন্য দায়ী এই মিউটেশন।

মিউটেশন ঘটতে পারে নানান ভাবে। এই যে নাইট্রোজেন বেসের বর্ণনা দেওয়া হল, দেখা গেল একটি বেস জিন থেকে উধাও হয়ে গেছে। বা নাইট্রোজেন বেসের আশাতীত ক্রমের মধ্যে থাকা উচিৎ নয়, অথচ একটি নাইট্রোজেন বেস এসে বসে পড়েছে। কিংবা দেখা গেল পুরো ক্রম বা সিকোয়েন্সটাই ওলোট-পালট হয়ে গেল।

মিউটেশন হলে বোঝা যায় না, যতক্ষণ না অসুখ হচ্ছে। মিউটেশন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বাহিত হয়। জিন সিকোয়েন্সিং যন্ত্রটিতে ধরা পড়ে সেরকম কোনো পরিবর্তন হলে। আগেভাগেই সে ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া যায়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?