ভারতে হু হু করে বাড়বে তাপপ্রবাহ, ধ্বস নামবে অর্থনীতিতেও? যে আশঙ্কা দানা বাঁধছে

Heat Wave: ভারত আগামী কয়েক দশকে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের শিকার হবে, বৃদ্ধি পাবে সাধারণ মানুষের হয়রানি।

Satyaki Tat
৩ মিনিট
ভারতে হু হু করে বাড়বে তাপপ্রবাহ, ধ্বস নামবে অর্থনীতিতেও? যে আশঙ্কা দানা বাঁধছে

২০২০ সালের আগে কতগুলি গ্রীষ্মে আপনি শিরোনামে বারবার 'তাপপ্রবাহ' শব্দটি দেখেছেন বা শুনেছেন? বিশ্ব উষ্ণায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও খুব একটা বেশি কথা শোনা গিয়েছে বলে মনে হয় না। যদিও বিজ্ঞানীরা তিন দশক আগে থেকে আমাদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই কেউ পাত্তা দেননি। তবে বিগত দুই-তিন বছরের বিভিন্ন বিপর্যয় ছবিটা সামান্য হলেও পাল্টেছে। কিন্তু আমরা কি অনেক দেরি করে ফেললাম? উত্তরটা হলো, হ্যাঁ।

কেন দেরি হয়েছে, সেই আলোচনায় আসার আগে আলোকপাত করা যাক বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টে। যাতে রয়েছে ভারতের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। কী আছে সেই রিপোর্টে? বিশ্ব ব‍্যাঙ্ক মনে করছে, আগামী দিনে তাপমাত্রার পারদ এতটাই চড়তে চলেছে, তাপপ্রবাহ এতটাই চরম রুপ নিতে চলেছে যে, তা মানুষের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাবে। শুধু মানুষের প্রাণহানি, স্বাস্থ্যহানি হবে না, সেই সঙ্গে অর্থনীতিও আক্রান্ত হবে চূড়ান্তভাবে।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্ট 'Climate Investment Opportunities in India's Cooling Sector'-এ বলা হয়েছে, দেশে গ্রীষ্মের আগমন স্বাভাবিকের অনেক আগে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্রীষ্মের দাবদাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। চলতি বছরেই মার্চে তাপমাত্রার পারদ বেড়ে গিয়ে ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, এই পারদের বৃদ্ধি পাওয়া এর বিপর্যয় হিসেবে গণ‍্য হবে না। তা পরিণত হবে স্বাভাবিকে।

এই রিপোর্টে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২১ সালের অগাস্টের জলবায়ু পরিবর্তনের মূল্যায়নের বিষয়টিও। সেখানেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশ আগামী কয়েক দশকে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের শিকার হবে, বৃদ্ধি পাবে সাধারণ মানুষের হয়রানি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লকডাউন তুললেই করোনায় আক্রান্ত ২০ লাখ! চিনে প্রমাদ গুণছেন স্বয়ং চিকিৎসকরাই....

China Zero Covid Policy: প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষমেশ কোভিড নিয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জিনপিং সরকার। তারপরও লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।

২০২২ সালে শুধু হয়রানি হয়নি, ভারতে মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। সরকারিভাবে যে মাসে গ্রীষ্ম শুরু হয়, অর্থাৎ এপ্রিল মাস, সেই সময়ে দিল্লির পারদ ছিল ৪৬ ডিগ্রির ঘরে। শুধু দিল্লি নয়, দেশের বেশিরভাগ অংশই প্রকৃতির এই রোষের শিকার হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই রিপোর্ট বলছে, এই সবে শুরু। কার্বন নিঃসরণের হার না কমলে ২০৩৫ থেকে ২০৬৫ সালের মধ্যে ভারতজুড়ে তাপপ্রবাহের হার বাড়বে ২৫ গুণ। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে তার স্থায়িত্ব।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বিপর্যয়গুলি আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, তার একটি বিশাল দিক হলো অর্থনীতি। যা নিয়ে খুব আশ্চর্যজনকভাবেই অর্থনীতির কারবারিরাই আলোকপাত করেন না। যদি সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসের কথাই বলা হয়, তাহলে দেখা যাবে, পাকিস্তানের বন্যার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। ভারতেও বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, বন্যা, দাবানলের কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, এই হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সবথেকে বেশি আক্রান্ত হবে দেশের উৎপাদনশীলতা। দেশের শ্রমশক্তির ৭৫ শতাংশ মানুষ কাজ করেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে এবং বেশিরভাগই কাজ করেন চূড়ান্ত তাপের মধ্যেই। এই হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি হতে থাকলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে বাধ্য। বিশেষ করে ভারী শ্রমের যে-সমস্ত কাজ রয়েছে। দেশ সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে পরিকাঠামো তৈরি এবং তার উন্নয়নের কাজে। সেই সঙ্গে ধাক্কা খাবে কৃষিকার্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কাজ হারাবেন আট কোটিরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে ভারতেরই প্রায় সাড়ে তিন কোটি শ্রমিক থাকতে পারেন।

প্রভাব পড়তে চলেছে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তাতেও, কারণ প্রলম্বিত তাপপ্রবাহ দেশের হিমঘরের পরিকাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে। সেই সঙ্গে কৃষিকাজ তো ব্যাহত হবেই।

ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং সংস্থা ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানি জানাচ্ছে, তাপপ্রবাহের কারণে যে হারে উৎপাদনকার্য ব্যাহত হবে তাতে দেশের জিডিপি হ্রাস পাবে প্রায় ৪.৫ শতাংশ, যা অঙ্কের হিসেবে দাঁড়ায় প্রায় দেড়শো থেকে আড়াইশো মার্কিন ডলার।

কিন্তু এই ধরনের রিপোর্ট তো বিজ্ঞানীরা প্রতি মাসেই প্রকাশ করছেন। কিছু লাভ হচ্ছে কি? হচ্ছে কি কোনও কাজের কাজ? উন্নয়নের দোহাই দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংস হওয়াও বন্ধ হচ্ছে না, কমানো হচ্ছে না জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও। নতুন কয়লাখনি চালু করার উদ্যোগ চলছে। এ কি দেশের মানুষকে বার্তা দেওয়া? যে দেশের মানুষকে এই তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা তৈরি করে নিতে হবে? সরকার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের মতো মুনাফা লুটে নেবে? তাদের জন্য তো শীতাতপনিয়ন্ত্রণ রইলই। আজকাল রাজনৈতিক নেতারা ভাষণ দেওয়ার সময়েও মঞ্চের পিছনে সেই যন্ত্র দেখা যায়। সাধারণ মানুষের তো কাজই সহ্য করা। তারা সেটা করে নেবে।

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

রেকর্ড ভাঙা সমুদ্রের উষ্ণতা: কতটা বিপদের মুখে পৃথিবী?

super el nino 2026: অক্টোবরে নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য, ২০১৫-১৬-র রেকর্ড ভেঙে ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে চলেছে। ডব্লিউএমও বলছে, এই এল নিনো ২০২৭ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভারতে বর্ষায় ১৩% ঘাটতি, ৩৯.৮% কৃষিজমিতে খরা, ফসল উৎপাদন ৪% কমার আশঙ্কা রয়েছে।