আস্থাভোটে সহজ জয়! কুর্সি দখল করে ফের ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রিসভা গড়লেন হেমন্তই

Hemant Soren: সোমবার বিধানসভায় সেই আস্থা ভোটে জিতে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। মোট ৭৬ সদস্যের বিধানসভায় ৪৫টি ভোট পেয়েছেন হেমন্ত।

Sohini Das
২ মিনিট
আস্থাভোটে সহজ জয়! কুর্সি দখল করে ফের ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রিসভা গড়লেন হেমন্তই

জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন হেমন্ত সোরেন। ইতিমধ্য়েই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পাই সোরেন। গত বৃহস্পতিবারই সরকার গড়ার জন্য রাজ্যপালের অনুমতি চেয়েছিলেন হেমন্ত। সূত্রের খবর, সেই অনুমতিও দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সোমবার আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার ছিল হেমন্তের।

গত ৪ জুলাই রাঁচির রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হেমন্ত। তার পরে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ফ্লোর টেস্ট হয় হেমন্ত সোরেনের। রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে মহাগাঠবন্ধনে রয়েছে হেমন্ত সোরেনের পার্টি জেএমএম। এর আগেও রাজ্যের দখল বিজেপির হাতে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে। সে সময় কোনও মতে বিজেপির হাত থেকে রাজ্যকে বাঁচিয়েছিলেন হেমন্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা, হেমন্ত ফিরতেই সরে দাঁড়ালেন চম্পাই

Hemant Soren: তবে হেমন্ত ফিরতেই সেই গদি ছেড়ে সরে দাঁড়াতে হল চম্পাইকে। বুধবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন চম্পাই সোরেন।

গত জানুয়ারি মাসে জমি দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন হেমন্ত। তার পর থেকে তিনি বন্দি ছিলেন রাঁচির বিরসা মুন্ডা জেলে। সম্প্রতি হাইকোর্টে সেই মামলায় জামিনে মুক্তি পান হেমন্ত। ভয় ছিল, ইডি যে কোনও মুহূর্তে ইডি সুপ্রিম কোর্টে সেই জামিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তবে তেমন কিছু হয়নি। বরং জেল থেকে বেরোতে না বেরোতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পাই। জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। ওই দিনই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার পরিষদীয় নেতাও নির্বাচিত হন হেমন্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাইকোর্টে মঞ্জুর জামিন! জমি-দুর্নীতি মামলায় তার পরেও জেলমুক্ত হতে পারবেন হেমন্ত?

Hemant Soren Case: তার প্রায় ৫ মাস বাদে সেই মামলায় জামিন মিলল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেনের। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম হাইকোর্টে মঞ্জুর হয়েছে তাঁর জামিনের আবেদন।

সোমবার বিধানসভায় সেই আস্থা ভোটে জিতে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। মোট ৭৬ সদস্যের বিধানসভায় ৪৫টি ভোট পেয়েছেন হেমন্ত। তার আগেই ভাষণে হেমন্ত বিজেপিকে আক্রমণ করে জানান, ক্ষমতার নেশায় মত্ত অহংকারীরা তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণের সমর্থনে তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এদিন আস্থা ভোট শুরু হতেই হট্টগোল বাধে বিধানসভায়। সেই শোরগোলের মধ্যে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যান বিরোধী শিবিরের লোকজন। ফলে আস্থা ভোটে সহজ জয় পেতে কোবও অসুবিধাই হয়নি হেমন্তের। বিধানসভায় ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার ২৭ জন বিধায়কের পাশাপাশি কংগ্রেসের ১৭টি এবং আরজেডির একজন বিধায়ক মিলে সোরেনের হাতে রয়েছে ৪৫ জনের সমর্থন। অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে মোটৎো ৩০ জন রয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনের কারণে কক্ষের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ায় ৩৮টি ভোটই যথেষ্ট ছিল আস্থা ভোটে জয়ী হতে। আস্থাভোট শুরু হতেই সোরেনের পক্ষে ভোট পড়ে ৪৫টি। বিরোধী শিবির ওয়াক আউট করলেও সংসদে ছিলেন নির্দল বিধায়ক সূর্য রায়। তিনি অবশ্য ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। আস্থা ভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে ঝাড়খণ্ডের কুর্সিতে পুনর্বহাল হলেন হেমন্ত সোরেন।

আস্থা ভোট জিতে সোমবারই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে মন দেন হেমন্ত। রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে সোমবার জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট সরকারের ১১ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। কংগ্রেসের রামেশ্বর ওরাওঁ, ইরফান আনসারি, বান্না গুপ্তা, দীপিকা পাণ্ডে সিংহ এবং আরজেডির বিধায়ক সত্যানন্দ ভক্তা রয়েছেন এই তালিকায়। হেমন্তের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনও। তিনি ছাড়াও রয়েছেন জেএমএমের বৈদ্যনাথ রাম, মিথিলেশ কুমার ঠাকুর, হাফিজুল হাসান, দীপক বিরুয়া, বেবি দেবীরাও। তাঁরাও এদিন শপথ নিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রীপদে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।