হাজার বছর ধরে জাগ্রত, বাংলাদেশের যে হিন্দু মন্দিরগুলি এখনও নজর কাড়ে

Sindhu Som
৪ মিনিট
হাজার বছর ধরে জাগ্রত, বাংলাদেশের যে হিন্দু মন্দিরগুলি এখনও নজর কাড়ে

কাঁটাতারের আগে যে বিশাল একক বঙ্গ, তার অঙ্গের ভূষণ নানা ছাঁদের ধর্মপীঠ। বিভিন্ন ধরনের মন্দিরের শরীর বিভিন্ন কারিগরী শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে আজও। বাংলা ভাগ হওয়ার পর বঙ্গের এক বিপুল অংশ রয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। ফলত প্রাচীন হিন্দু মন্দির বাংলাদেশে কম নেই। হিন্দু জনসংখ্যার নিরিখেও বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এমনই কয়েকটি মন্দিরের কথা পাঠকের দরবারে পেশ করতে চাই , যা বাংলাদেশের মন্দির শিল্পরীতির ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির, ঢাকা

ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির। প্রাচীনতম মন্দিরের তকমাও জুটেছে তার। দ্বাদশ শতকে বল্লাল সেন এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী এই ঢাকেশ্বরী দেবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে অবস্থিত মন্দিরটি উজ্জ্বল হলুদ আর লালে সজ্জিত। মন্দিরের উত্তর পশ্চিমাংশে রয়েছে চারটি শিব মন্দির। ধাতুনির্মিত একটি বড় দূর্গা মূর্তি। ৮০০ বছর কেটে গেলেও মন্দিরের অবস্থা এখনও অত্যন্ত ভালো। বাংলাদেশের শারদোৎসবের কেন্দ্রবিন্দু এই মন্দির। এই কয়দিন হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন মন্দির প্রাঙ্গণে। ঢাকেশ্বরী মন্দির অঞ্চলের দুটি অংশ। একটি পুবে অবস্থিত অন্তর্মহল। এখানে মূল মন্দিরটি রয়েছে, নাটমন্দির। বহির্ভাগে বেশ কয়েকটি মন্দির, হোটেল এবং কিছু ঘরবাড়িও রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে একটি বড় দীঘির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে এক প্রাচীন বট যেন মহকালের আখর গুনে চলেছে।

১৯০৪-এ ফ্রিৎজ কাপের তোলা ছবি, উইকিপিডিয়া

কান্তজীর মন্দির, দিনাজপুর

নামেই বোঝা যায় এটি কৃষ্ণ মন্দির। মন্দিরের নামে এলাকার নামও কান্তনগর। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহারাজা সুমিত ধর শান্ত জন্মেছিলেন এই মন্দিরেই। দিনাজপুর-তেতুলিয়া হাইওয়ের পশ্চিমে ধেপা নদীর ধারে এই কান্তনগর গ্রাম। মূল দিনাজপুর থেকে প্রায় ২০ কিমি উত্তরে অবস্থিত। আঠেরো শতকের আশেপাশে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় দিনাজপুরের জমিদার ছিলেন মহারাজা প্রাণনাথ রায়। ভিত্তিপ্রস্তরের খোদাই অনুসারে মহারাজা শেষজীবনে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। ১৭২২ সালে মহারাজার মৃত্যু হলে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁরই দত্তক নেওয়া পুত্র মহারাজা রমানাথ রায় মন্দিরের কাজ শেষ করেন ১৭৫২ নাগাদ। সে সময় মন্দিরের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭০ ফুট। কিন্তু ১৮৯৭-এর প্রবল ভূমিকম্প্রে মন্দিরের সমস্ত চূড়াগুলি নষ্ট হয়ে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ মন্দিরটি সংস্কার করেন বটে, কিন্তু মন্দিরের গম্বুজগুলি আর নির্মিত হয়নি। মন্দিরটির অন্যতম আকর্ষণ সমগ্র গায়ে প্রায় ১৫০০০-এর উপর টেরাকোটার পাত। রামায়ণ, মহাভারত থেকে শুরু করে পুরাণের গল্প–সমস্তই স্থান পেয়েছে সেখানে।

মাটি থেকে তিনধাপ উঁচু। চারিদিকের সবগুলি আর্চের মধ্যে দিয়েই বিগ্রহ দর্শন করা যায়। মন্দিরটি আয়তকার, তবে যে পাথরটির ওপর মন্দিরটি স্থাপন করা হয়েছে তা ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের বর্গাকার একটি পাথর। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে একটি করে খিলান। এবং দুটি স্তম্ভ খিলানগুলিকে পৃথক করে রেখেছে। স্তম্ভের গায়ের নকশা কারুকাজ দেখলে স্তম্ভিত হতে হয়। মন্দিরের একতলায় সাকুল্যে ২১টি, দোতলায় ২৭টি, তিনতলায় ১২টি খিলান রয়েছে।

১৮৭১-এ তোলা কান্তজীর মন্দিরের ছবি

চন্দ্রনাথ মন্দির, সীতাকুণ্ডা

সীতাকুণ্ডায় অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মপীঠ রয়েছে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ৩৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরটি তাদের মধ্যে অন্যতম। অনেকে একে একান্ন পীঠের একটি বলেও গণ্য করে থাকেন। এটি সীতাকুণ্ডা মন্দির নামেও পরিচিত। শিবরাত্রির শিবচতুর্দশী তিথিতে এখানে একটি বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজো উপলক্ষ্যে সীতাকুণ্ডায় বিরাট মেলা বসে। শিবচতুর্দশীর মেলা নামে এই মেলা জগদ্বিখ্যাত।

মহেশখালির আদিনাথ মন্দির

বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ১২ কিমি দূরে মহেশখালি দ্বীপে অবস্থিত এই মন্দিরটি অত্যন্ত বিখ্যাত। মন্দিরটি স্থানীয় লোকের মুখে শিব মন্দির নামেই পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশের এই দ্বীপের জঙ্গলে এক চাষী একটি মহাদেবের মূর্তি কুড়িয়ে পান। তিনিই মন্দির নির্মাণ করে সেই মূর্তিটি মহেশমূর্তি রূপে প্রতিষ্ঠা করেন। শোনা যায় এই দেবতা অত্যন্ত জাগ্রত দেবতা।

রাজশাহীর পুঁথিয়া মন্দির চত্বর

রাজশাহীর ২৩ কিমি পুবে পুঁথিয়া অঞ্চল হিন্দু মন্দিরের প্রাচুর্যের জন্য বিখ্যাত। এইসব মন্দিরের সিংহভাগ এ অঞ্চলের জমিদার বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। টেরাকোটার এত সুন্দর অবিশ্বাস্য কাজ এবং মনোরম স্থাপত্য শৈলীর মেলবন্ধন বাংলার একান্ত নিজস্ব সংস্কৃতির ছাপ রেখেছে। মূলত ইন্দো-সেরাসেনিক স্থাপত্য শৈলীতে মন্দিরটি তৈরি। এই রীতির স্থাপত্য গুলির মধ্যে হিন্দু স্থাপত্যরীতি ও রেঁনেসা যুগের ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির মিশ্রণ দেখা যায়। মন্দির চত্বরে একটি দীর্ঘ সবুজ ঘাসে ঢাকা প্রাঙ্গণ রয়েছে। একপাশে সুবিশাল এক দীঘি। ইতিহাস বলছে এই অঞ্চলের আদি শাসক ছিলেন লস্করি খান। আকবরের শাসনকালে লস্করি খান বিদ্রোহ করলে সেনাপতি মানসিংহ, এই অঞ্চলের রাজত্ব তুলে দেন রাজা পীতামবরের হাতে। এই পীতাম্বরই পুঁথিয়ার জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ব্রিটিশ শাসিত বাংলায় পুঁথিয়ার জমিদার বংশের জমিদারী ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম জমিদারী। সম্পত্তির দিক দিয়ে তাঁরা ছিলেন সবথেকে ধনী জমিদার। দেশভাগের সময় পাকিস্তান সরকার জমিদারদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলে পুঁথিয়ার জমিদারেরা এপার বাংলায় পালিয়ে আসেন।

পুঁথিয়ার রাজবাড়ি

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম, নারায়ণগঞ্জ

ঢাকার নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত সোনারগাঁও উপজেলার বারদি অঞ্চলে এই আশ্রম অবস্থিত। বাবা লোকনাথের জীবনী অনুযায়ী, বারদিতে থাকাকালীন বাবা লোকানাথের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সেই থেকে তাঁর জন্মতিথিতে এই মন্দিরটিতে এক বিরাট মেলার আয়োজন হয়। ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি বিভিন্ন দেশ-বিদেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক আসে এই মেলায় যোগ দিতে।

কাল ভৈরবের মন্দির, ব্রাহ্মণবেড়িয়া

তিতাস নদীর নাম শুনেছেন অনেকেই। অদ্বৈত মল্ল বর্মণ রচিত উপন্যাসের সেই বিখ্যাত নদীর তীরে, ব্রাহ্মণবেড়িয়া জেলায় অবস্থিত কাল ভৈরবের মন্দির। ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে এর খ্যাতি রয়েছে। মন্দিরের মূল আকর্ষণ কাল ভৈরবের ২৮ ফুট দীর্ঘ মূর্তি। ১৯০৫ নাগাদ এই বিশাল মূর্তি স্থাপিত হয়। প্রথমবার এ মূর্তি দর্শনে ভয় পাবেন অনেকেই। ভয়বহ এই বিগ্রহের বাঁদিকে রয়েছে কালিমূর্তি, ডান দিকে রয়েছে পার্বতীর মূর্তি।

তথ্যঋণ–

“Ancient Temples of Bangladesh: Remembering Their Past Glory.” Unb.Com.Bd.

“History of the 4 Oldest Temples of Bangladesh - Bproperty.” 2021. A Blog about Homes, Trends, Tips & Life | Bproperty (blog). January 14, 2021.

“Millennium-Old Hindu Temple Discovered in Bangladesh - The Hindu.” n.d.

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।