মদ না খেয়েই মাতাল! জানেন কোন কঠিন অসুখ বাসা বাঁধছে আপনার শরীরে

Auto Brewery Syndrome: ধরুন শরীর যদি নিজেই অ্যালকোহল তৈরি করে আপনাকে মদের নেশায় ডুবিয়ে দিত, তাহলে কেমন হতো?

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
মদ না খেয়েই মাতাল! জানেন কোন কঠিন অসুখ বাসা বাঁধছে আপনার শরীরে

সুরাপ্রেমীদের দিকে এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেওয়া যাক, যদি মদ্যপান না করেই মদের নেশা হতো বা ধরুন শরীর যদি নিজেই অ্যালকোহল তৈরি করে আপনাকে মদের নেশায় ডুবিয়ে দিত, তাহলে কেমন হতো?

বিষয়টা শুনে যেমনই লাগুক, মোটেই সুবিধের হবে না। যার প্রথম কারণ, মদ না খেয়েও আপনার রক্তে হু হু করে বাড়ত অ্যালকোহলের পরিমাণ। সেটা এতটাই বাড়ত যে, দেশের আইন-কানুন যে পরিমাণ অ্যালকোহল আপনার রক্তে বা নিঃশ্বাসে থাকলে আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করবে না, তার তুলনায় অনেকটা বেশি-ই হতো। যেমনটা হয়েছিল নিউ ইয়র্কের এক মাঝবয়সি মহিলার সঙ্গে। পুলিশ যখন তাঁকে পাকড়াও করেছে, তখন সেই মহিলার রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ আইন যা মান্যতা দেয়, তার থেকে চারগুণ বেশি। কিন্তু মহিলা দাবি করেন, তিনি মদ্যপান করেননি। পরে দেখা যায়, মহিলা সত্যি-ই মদ্যপান করেননি। তিনি অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভুগছেন। সেই রোগ, যেখানে শরীর নিজে থেকেই অ্যালকোহল উৎপাদন করে।

শরীরে কার্বোহাইড্রেট বা চিনিজাতীয় খাবার হজমের ফলে সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহল স্বাভাবিক অবস্থায় তৈরি হয়। কিন্তু যদি অ্যালকোহল উৎপাদনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা বেশি হয়, তখনই অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের মতো শারীরিক সমস্যা দেখা যায়।

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভোগার সম্ভাবনা বেশি কাদের?

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। কারও জন্মের সময় দেখেই দেখা যেতে পারে, অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম। তবে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম জিনগত কি না, তা জোর দিয়ে বলা চলে না। অন্তত এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে যা গবেষণা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে। তবে উল্লিখিত শারীরিক সমস্যা না থাকলেও অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম দেখা গেলেও যেতে পারে। যে শারীরিক সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ডায়াবেটিস, লিভারের সিরোসিস-সহ লিভারের অন্যান্য সমস্যা এবং স্থূলতা। তবে টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং লিভার সিরোসিস-সহ অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভোগেন যারা, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ ২২.৩ mg/dL-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

এর পাশাপাশি ক্রনস ডিজিজ থাকলে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম দেখা যেতে পারে। যদিও ক্রনস ডিজিজ জিনগত রোগ, কিন্তু এক্ষেত্রে জিনকে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের নেপথ্যে সরাসরি দায়ী করা যায় না।

এছাড়া শর্ট বাওয়েল সিন্ড্রোমে ভোগে যে-সমস্ত শিশু, তাদের মধ্যেও বাড়ে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভোগার সম্ভাবনা। শর্ট বাওয়েল সিন্ড্রোমে ভোগা তিন বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে একবার ফলের রস পান করে। যার মধ্যে অত্যধিক পরিমাণে চিনি আগে থেকেই মেশানো ছিলো। ফলস্বরূপ, মেয়েটির শরীরে তৈরি হয় অ্যালকোহল। এবং ওই একরত্তি মেয়েই তখন নেশার ঘোরে চলে যায় কেবল তার শারীরিক অবস্থার কারণে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন ঘুমের জন্য ওষুধের দরকার পড়ল মানুষের? অবাক করবে স্লিপিং পিল আবিষ্কারের ইতিহাস

Sleeping Pills: প্রথম দিকে ব্যবহার হওয়া ঘুমের ওষুধগুলি বেশি মাত্রায় নিলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটত। তাই ঘুমের ওষুধ হিসেবে বারবিটিউরেটস, মিথ্যাঅ্যাক্যুয়ালুন এবং গ্লুটেথিমাইডের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

শর্ট বাওয়েল সিন্ড্রোম বাদ দিলেও দায়ী করা যায় একাধিক শারীরিক অবস্থাকে। যাঁরা সিউডোঅবস্ট্রাকশন এবং স্মল ইন্টেস্টিনাল ব্যাক্টিরিয়াল ওভারগ্রোথের মতো শারিরীক সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের মধ্যেও বাড়ে অটো ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভোগার সম্ভাবনা।

তবে অপুষ্টি, অত্যধিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজি়জ়, দূর্বল ইমিউন সিস্টেম থাকলেও দেখা যেতে পারে অটো ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম। কারণ এই অবস্থাগুলির কোনও একটি থাকলেই শরীরে অ্যালকোহল উৎপাদনকারী ফানজাইয়ের (ছত্রাক) পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

শরীরে কী করে তৈরি হয় অ্যালকোহল?

অত্যধিক পরিমাণে চিনি বা শর্করা-জাতীয় খাবার খেলে অন্ত্রে থাকা বিভিন্ন ফানজাই এবং ব্যাকটেরিয়া সেই চিনি বা শর্করা-জাতীয় খাবারকে ফার্মেন্ট করে- যাকে বাংলায় বলে গেঁজিয়ে তোলা। আর এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে চিনি বা শর্করা-জাতীয় খাবার থেকে তৈরি হয় ইথানল। যা আদতে অ্যালকোহলেরই একটি রূপ। আর শরীরে উৎপাদন হওয়া সেই অ্যালকোহলই মদ্যপান না করেও কাউকে নেশাচ্ছন্ন করে তোলার জন্য দায়ী।

তবে যে কোনও নয়, নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ফানজাই (ছত্রাক) চিনি বা শর্করা-জাতীয় খাবারকে গেঁজিয়ে তোলার জন্য দায়ী। এদের মধ্যে কোনও একটির শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে এবং তারা রোগসৃষ্টিকারী (Pathogenic) রূপ ধারণ করলে তখনই হয় বিপত্তি। তখনই তারা শরীরে ঢোকা শর্করা ও চিনি-সমৃদ্ধ খাবারকে আরও বেশি করে গেঁজিয়ে তোলার সুযোগ পায়।

এই ফানজাইগুলির মধ্যে অন্যতম স্যাকারোমাইসিস সেরেভিসি, স্যাকারোমাইসিস বোল্ডারডি, এবম ক্যান্ডিডা-র বিভিন্ন প্রজাতি, যার মধ্যে ক্যান্ডিডা গ্ল্যাব্রাটা, ক্যান্ডিডা অ্যালবিক্যান্স, ক্যান্ডিডা কেফির, ক্যান্ডিডা প্যারাসিলোসিস। এদের মধ্যে বেশ কিছু ফানজাই আবার আদতেই ব্রিউয়িং, অর্থাৎ মদ বানাতে ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে চিনি বা শর্করা-জাতীয় খাবারকে গেঁজিয়ে তোলার জন্যে দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলির মধ্যে অন্যতম ক্লেবসিয়েল্লা নিউমোনিয়া, এন্টেরোকক্কাস ফেশিয়াম, সাইট্রোব্যাক্টার ফ্রেয়ান্ডাই প্রভৃতি।

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ঠিক কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে স্বভাবতই রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ হু হু করে বাড়ে, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বমি হওয়া, ক্রমাগত ক্লান্তিতে ভোগা (ক্রনিক ফ্যাটিগ সিন্ড্রোম), ঘুম ঘুম পাওয়া, নিজের আশেপাশের অধিকাংশ বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যের অভাব বোধ করা, ইরিটেবল বাওয়াল সিন্ড্রোমের (পেটের সমস্যা ও বারবার মলত্যাগের ইচ্ছে) মতো সমস্যা দেখা যায়।

তবে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমে ভুগলে প্রাথমিকভাবে উপরোক্ত বাহ্যিক লক্ষণগুলি দেখা না-ও যেতে পারে। অনেকেই সেক্ষেত্রে মনে করেন, স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন ব্যক্তিটি।

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের সমাধান কী?

পরিবারে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের ইতিহাস থাকলে সতর্ক হতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া টাইপ-টু ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস বা লিভারের অন্য যে কোনও সমস্যা, ক্রনস ডিজিজ, শর্ট বাওয়েল সিন্ড্রোম থাকলে সাবধান হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। কমাতে হবে চিনি বা শর্করা-সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। সেক্ষেত্রে মদও নৈব নৈব চ।

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের পরীক্ষার জন্যে সিবিসি, মেটাবলিক প্যানেল, রক্ত পরীক্ষা, ড্রাগ স্ক্রিনিং, মল পরীক্ষা করা যেতে পারে। মল পরীক্ষার ফলাফলই জানিয়ে দেবে পেটে অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের জন্য দায়ী ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া হু হু করে বাড়ছে কি না। একই বিষয় জানা যেতে পারে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢোকা গ্লুকোজ কত দ্রুত হারে অ্যালকোহলে পরিণত হচ্ছে, বলে দেবে BAC ও BrAC টেস্টিং।

অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোম ধরা পড়লে অ্যাজোল বা পলিয়েনস ছাড়াও বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যেতে পারে। তবে তা ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া না নেওয়াই ভালো। এর পাশাপাশি পেটে উপকারী ও রোগসৃষ্টিকারী ব্যকটেরিয়ার সাম্য ফেরাতে প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট এবং প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই সমস্তকিছুর আগে যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা হলো খাবারে শর্করা ও চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা‌।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।