এক চিলতে জমি থেকেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, যে দাগ রেখে যাচ্ছে ছোট প্রকাশনা

International Kolkata Book Fair : 'মান্দাস', 'বৈভাষিক', 'ধানসিড়ি', 'তবুও প্রয়াস' সহ শতাধিক তথাকথিত ছোট ছোট প্রকাশন সংস্থাগুলিই এবছর কলকাতা বইমেলার মূল আকর্ষণ...

Kankana Mukherjee
৫ মিনিট
এক চিলতে জমি থেকেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, যে দাগ রেখে যাচ্ছে ছোট প্রকাশনা

সংখ্যাটা প্রায় ৩০০ ছুঁইছুঁই। কলকাতা বইমেলার এবারের মূল আকর্ষণ নামী, বেনামী অজস্র ছোট প্রকাশন সংস্থা। নামজাদাদের ভিড়ে একফালি টুকরো জমি জুটেছে যাদের, যারা ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেও প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বুনছে, সেই তথাকথিত কম নাম করা প্রকাশন সংস্থাগুলোই এবারের কলকাতা বইমেলার মূল আকর্ষণ। বইমেলার মস্ত বড় ম্যাপে আলাদা করে নাম রয়েছে তাদেরও।

কলকাতা বইমেলা, বইপ্রেমী বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ। সারা বছর বই নিয়ে চলা একটা যাপনের সামগ্রিক উদযাপন। বই পাড়ায় যাদের মস্ত দোকান, অথবা যাদের এক চিলতে ঘর ভাড়া দেওয়ারও পয়সা জোটে না, কিংবা যাদের ঘর নেই, সেই সবাই মিলেমিশে যায় করুণাময়ীর প্রাঙ্গণে। বছরে এই বারোটা দিন যেন লাগামছাড়া। পুরনো বন্ধুকে ফিরে পায় কেউ, কেউ আবার একাই ঘুরতে ঘুরতে নতুন কোনও বন্ধু খুঁজে পায় মেলা প্রাঙ্গণে। বইয়ের ভিড়ে কখনও উঁকি দেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, কখনও আবার তাদের ঠিক পাশেই জায়গা জুটে যায় নদিয়া অথবা বাঁকুড়ার কোনও অনামী লেখকেরও। মিলাবে... মিলিবে, এই আমাদের কলকাতা বইমেলা।

কোনওটার আনুষ্ঠানিক বয়স সাত বছর, কোনওটার আবার মাত্র সাত মাস, তবে ভাবনায় প্রত্যেকেই যৌবন পেরিয়েছে বলা চলে। স্কুলের ডেস্কে, কলেজ ক্যান্টিনের আড্ডায়, মিছিলের বন্ধুত্বে অথবা কাজের পরিসরে একটু একটু করে লালন করা ভাবনাগুলোই অতঃপর জন্ম দিয়েছে একটা প্রকাশনা সংস্থার। যে কোনও কাজই যখন শুরু হয় তখন তাকে আপাতভাবে মনে হয় ছোট। আজ যে সমস্ত প্রকাশনা খুব নাম করেছে, যেমন ধরা যাক, ‘দে’জ’ অথবা ‘আনন্দ’-এর মতো কিছু নাম, তাদেরও শুরুর দিনটাই এমন ভরপুর ছিল না। অনেক চড়াই উৎরাই, ভাঙা গড়ার সফর শেষে তবেই নতুন সূর্যের হদিশ মেলে। ঠিক যেমনটা মিলবেই ‘বৈভাষিক’, ‘মান্দাস’, ‘ধানসিড়ি’ অথবা ‘তবুও প্রয়াস’-এর মতো প্রকাশনীতেও।

‘বৈভাষিক’-এর অদ্বয় চৌধুরীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হতেই তিনি জানালেন, “বড়ো হোক বা ছোটো, প্রতিটি সংস্থার একেবারে নিজস্ব ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা আছে। সবাই নিজের নিজের জায়গায় সফল হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই একেবারেই। কিন্তু তাও স্বাতন্ত্র্য অবশ্যই আছে। হ্যাঁ, ছোটো সংস্থা অবশ্যই বড়ো সংস্থাকে দেখে শেখে। অগ্রজদের ফলো করার সুবিধে এই যে অনেক সময়েই তা ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণ করা থেকে আটকায় নিজেদের। মানে, ঠেকে এবং ঠকে শেখার হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু তারপরেও স্বাতন্ত্র্য বাই ডিফল্ট থেকেই যায়।”

এই যে স্বাতন্ত্র্য-এর কথা উঠল, তার প্রমাণ অবশ্য মেলে এই সব সংস্থাগুলোর কাজেই। কথায় কথায় ‘তবুও প্রয়াসের’ সেলিম মন্ডল বলছিলেন, “নামী লোকেদের কথা তো অনেকেই বলেন। তবে নতুনদের কাজের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছিলাম আমরা। এই ধরুন গ্রাম মফস্বলের যে ছেলেটার কাজ কেবল সুযোগের অভাবে জনসমক্ষে আসতে পারেনি কোনও দিন, সেই কাজগুলোকে খুঁজে বের করাই আমাদের কাজ।”

বইমেলায় 'তবুও প্রয়াস'-এর স্টল

কোনও কাজ কে করছে সেটা বড় কথা নয়, বরং কাজটা কী? সেই কাজ থেকে মানুষ কী কী পেতে পারেন সেটাই হল ভালো কাজের স্বতন্ত্র হয়ে ওঠার মূল লক্ষ্য। ঠিক তাই ‘মান্দাস’ প্রকাশন সংস্থার প্রকাশিত বইয়ের তাকে জীবনানন্দের ঠিক পাশেই জায়গা পেয়ে যায় তরুণ লেখক অর্ক দেবের গবেষণামূলক বই ‘দিয়েগো থেকে মারাদোনা' অথবা রঙ্গন নিয়োগীর ‘বাঙাল বাড়ির রান্না’। শুধু যে জায়গা পেয়ে যায় এমন নয়, তার সঙ্গে বই বাজারের মনস্তত্ত্বের হদিশও খুঁজে নেয় তারা নিমেষেই। ব্যবসার হালচাল বুঝেই পাস বাড়ায় পাঠকের দিকে। তাই কর্ণধার সুকল্প চট্টোপাধ্যায়ের মুখে খুব সহজেই যথার্থ বলে মনে হয় ‘ভালো কাজই নির্বাচনের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে যে কোনও প্রকাশন সংস্থার’- এই কথাটি।

ছোট সংস্থার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, এদের ম্যান পাওয়ার কম, আর্থিক দিক থেকেও খানিক পিছিয়ে। তাই সিদ্ধান্ত ধার করার জন্য লোকও নেই আলাদা করে। নিজেদের ভাবনায় শান দিতে দিতেই এগিয়ে চলতে হয় তাদের। টোটাল জার্নিটাই একটা ট্রেনিং পিরিয়ড বলা চলে। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন করে শেখা। ধাক্কা খেতে খেতেই লক্ষ্যে পৌঁছনো। মুদ্রণশিল্প থেকে শুরু করে মার্কেটিং, ম্যান ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে বইয়ের যাবতীয় বিষয়গত পরিকল্পনা অথবা বিপণি সামলানো, এই সব কিছুতেই প্রতিনিয়ত নিজেরাই যেন নিজেদের শিক্ষক হয়ে ওঠে ছোট ছোট প্রকাশন সংস্থাগুলি। তারপর একটা, দুটো করে কবেই যেন তাক ভরে যায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যায়।

বইমেলার আসল আকর্ষণ বিবিধের মাঝে থেকেই মিলনের আত্মস্থল খুঁজে নেওয়া। প্রথম প্রথম তো স্টল ভাড়া নেওয়ার পয়সা জোটে না। হাতে হাতে ঘুরতে থাকে কত কত বই, যার কোনও একটাতেই হয়তো মিলে যায় অসাধারণত্ব-এর খোঁজ। হয়তো কারোর জন্য জোটে লিটিল ম্যাগাজিনের টেবিল। আর কেউ কেউ এক চিলতে একটা স্টল পেয়ে যায় ভাগ্যক্রমে। অতঃপর ‘দে’জ’, ‘আনন্দ’ অথবা ‘পত্রভারতীর’ বিরাট স্টলের দিকে তাকিয়ে আবার নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করে ‘মান্দাস’, ‘বৈভাষিক’ অথবা ‘ধানসিড়ি’রা।

ঐতিহ্যের সঙ্গে তারুণ্যের মেলবন্ধনে বিশ্বাস করে 'মান্দাস'

এরই মধ্যে বারবার সুদিন আসে। এই সমস্ত প্রকাশন সংস্থার হাত ধরেই পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়, ‘জীবনানন্দের অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ’ অথবা ‘বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর সেরা কাব্যগ্রন্থ’ -এর মতো কিছু অমূল্য সম্পদ। একই সঙ্গে এই ঐতিহ্যের হাত এসে ধরে তারুণ্য। উঠতি লেখকদের অসাধারণ কিছু কাজ নজর কেড়ে নেয়। হিসেবের খাতা খুলে মাঝে মাঝে খুব আনন্দ হয়, আবার কোনও সময় মনখারাপ গেঁড়ে বসে। কিন্তু কাজ থামে না। ‘চরৈবতি’ মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে আবার কলম তুলে নেন লেখকেরা। আর নতুন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে আবারও বড় নামজাদা প্রকাশন সংস্থাগুলির সঙ্গে পথে নামেন অজস্র ছোট প্রকাশন সংস্থাগুলিও।

বাধা নানারকম আসে। যা কিছু করা উচিত, তা অনেক সময়েই করে উঠতে পারে না সংস্থাগুলি। আবার, অনেক কিছু করার পরেও যা কিছু পাওয়া উচিত, তা হয়তো পায় না। এলেম অনুযায়ী সাফল্য আসে না সবসময়। তবে ‘বৈভাষিক' অদ্বয় চৌধুরী একটা দারুণ কথা বলেন এই ক্ষেত্রে, “ছোট প্রকাশনা সংস্থার কাছে মানসিক প্রশান্তিটাই বোধহয় বেশি প্রার্থনীয়, তাই ছোট ছোট টার্গেট সামনে রেখে এগিয়ে চলতে হয়। তাতে ওই মানসিক প্রশান্তিটা সহজে আসে, আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে না, বরং বাড়ে।”

সুতরাং, বই বাজারে কে ছোট আর কেই বা বড়! মেলায় ঢুকে একটা মস্ত ম্যাপ হাতে নিয়েও তো হিমসিম খেতে হয়। বই, শুধুই বই, আরও আরও বই। এই এত এত মানুষ গোটা বছরটা বই নিয়ে, লেখালিখি নিয়ে থাকেন? ভাবতে অবাক লাগে ভীষণ! এদের মধ্যে অনেকেই হয়তো দশটা পাঁচটার চাকরি করেন, তবুও দিন শেষে ঘরে ফিরে নতুন কাজের তরজমা করেন। প্রকাশক বন্ধুকে ফোন করে নতুন লেখার খসড়া শোনান। কখনও পুরনো লেখায় নতুন করে কলম চালান। আর বছর শেষে অপেক্ষা করেন এই একটা মেলার জন্যই। এই বারোটা দিনের মধ্যে বার কয়েক হয়তো অফিস কেটেই চলে যান বইমেলার প্রাঙ্গণে। যেখানে নতুন বইয়ের গন্ধে একটা অদ্ভুত নেশা আছে, একটা মায়া আছে। আর জাপটে ধরা একটা ঘোরতর আবেগ আছে। যে আবেগের বশেই কেবল ভালো কিছু কাজ এবং আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সঙ্গী করে ‘মান্দাস’, ‘ধানসিড়ি’, ‘তবুও প্রয়াস’ অথবা ‘বৈভাষিক’রা পাড়ি দেয় নতুন দিগন্তের পথে। হাতে মশালের বদলে থাকে ‘বই’, আর কলমের মুখে শব্দ নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন অসংখ্য নতুন এবং পুরনো লেখকেরা।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।