গালওয়ান যুদ্ধের পর পাল্টা মার দিতে কীভাবে রণসাজে সেজেছিল ভারত!

Galwan Clash Indo China Tension: ভারতের ২০ জন সেনার মৃত্যু হলেও, চিনের নাকি তেমন ক্ষতিই হয়নি।

inscript
৩ মিনিট
গালওয়ান যুদ্ধের পর পাল্টা মার দিতে কীভাবে রণসাজে সেজেছিল ভারত!

দুর্বল অঞ্চল মানেই শত্রুর নজর সেই দিকেই। দুর্বলকে শুধু সাহস জোগালেই তো হয় না, মাঝেসাঝে অস্ত্রও জোগাতে হয়। যে অস্ত্রের দম্ভে ও ক্ষমতাতেই শত্রুকে 'বার্তা' দেবেন রাষ্ট্রনায়করা। দেশ বুঝবে, “দেশ সুরক্ষিত হ্যায়"। গালওয়ানের সংঘর্ষের পরে এভাবেই সীমান্তকে শক্তিশালী করতে ভারতীয় বিমান বাহিনী কয়েক হাজার সৈন্য এবং প্রচুর পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম, পদাতিক যুদ্ধ যান, ট্যাঙ্ক, বন্দুক, সারফেস-টু-এয়ার গাইডেড অস্ত্র এবং রাডার পাঠিয়েছিল পূর্ব লাদাখে। ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর চিনকে প্রতিহত করতে কোনওভাবেই সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে রাজি নয় ভারত। সেই সংঘর্ষের পর যে কোনও ধরনের সংঘর্ষ ঠেকাতে ভারত তৈরি হয়েছিল রণসাজে!

২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাস থেকেই পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক স্থবিরতা নেমে এসেছে। গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত ছয় দশকের প্রেক্ষিতে একেবারেই তলানিতে নেমে যায়। ভারতের দাবি ছিল, দেশ পাল্টা আঘাত করেছে চিনকে, আর তাতে মোক্ষম জবাবও দেওয়া গেছে। পিএলএ-এর হতাহতের সংখ্যা নাকি ভারতীয় সেনাবাহিনীর চেয়ে দ্বিগুণ ছিল। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যে সংঘর্ষে মাত্র চারজন চিনা সেনাই নিহত হয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আচমকা ভয়াবহ যুদ্ধ সীমান্তে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত-চিন সংঘাত

India China conflict : অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চিন সংঘর্ষ! জখম দু’পক্ষই

ভারতীয় বায়ুসেনা ৬৮,০০০ সৈন্য, ৩৩০ টি পদাতিক যুদ্ধ যান, ৯০টি ট্যাঙ্ক এবং বেশ কয়েকটি আর্টিলারি বন্দুক পূর্ব লাদাখে পাঠিয়েছিল গালওয়ান হামলার পরেই। গালওয়ান পর্বের পরে সীমান্তে পরিস্থিতি মোটেও সুবিধার নয়। এই মুহূর্তে সামান্য নজর ঘোরালেও তা বিপদ বাড়িয়ে তুলতে পারে কয়েকশো গুণ। তাই সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য বাহিনী বজায় রাখা এবং তাদের যথাযোগ্য প্রতিরোধমূলক সামরিক সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া ছাড়া ভারতের কাছে উপায়ও ছিল না। তাই এই রাশি রাশি অস্ত্র জোগানের কাজটি করে ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড। ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড আইএএফ-এর বৃহত্তম অপারেশনাল কমান্ড। গত তিন বছরে এভাবেই বিমান বাহিনী এয়ারলিফট করে ওই এলাকায় ৯,০০০ টন সামরিক সরঞ্জাম মজুত করেছে।

বায়ুসেনার বক্তব্য, সারফেস-টু-এয়ার গাইডেড অস্ত্র এবং রাডার ওই সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করে এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। সারফেস-টু-এয়ার গাইডেড অস্ত্র কী? এই অস্ত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে পারে। রাডারগুলি স্বাভাবিক যে কোনও রাডারের থেকে দেড় গুণ বেশি শক্তিশালী। সীমান্ত বরাবর চিন কী কৌশল নিচ্ছে, তাতে টানা নজর রাখতে রাডার স্থাপনের জন্য হেলিকপ্টার ব্যাবহৃত হয় ব্যাপকভাবে।

ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল, সুখোই-৩০ এবং মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমানও আকাশ পাহারায় মোতায়েন করে। ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমোট কন্ট্রোলড বিমান ব্যবস্থাও গত তিন বছরে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিন বছর আগে, ১৪-১৫ জুনের রাতে গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষ ভারত চিন সম্পর্ককে শেষ করে দেয়। গত ৪৫ বছরে সেই প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সৈন্যরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় মুখোমুখি মারাত্মক সংঘর্ষে জড়ায়। ভারতের ২০ জন সেনার মৃত্যু হলেও, চিনের নাকি তেমন ক্ষতিই হয়নি। অথচ বিভিন্ন দেশের কিছু প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ভারতীয় সেনার পাল্টা আক্রমণে গালওয়ান নদী পেরোতে গিয়েই নাকি ডুবে যায় ৩৮ জন চিনা সেনা। যদিও, চিন এই দাবি স্বীকার করেনি মোটেও।

গত তিন বছর ধরে, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক আলোচনা সত্ত্বেও সমস্যাগুলি মেটেনি। গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো, গোগরা (PP-17A) এবং হট স্প্রিংস (PP-15) থেকে চার বার সরে আসার পরেও ভারত এবং চিন, দুই পক্ষের সেনাবাহিনীই এখনও ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ সৈন্য রেখেছে সীমান্তে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।