৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ! যে ভয়াবহ অভিযোগ উঠছে হাসিনা ও পরিবারের বিরুদ্ধে

Sheikh Hasina Corruption: অভিযোগ, শেখ হাসিনা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক তাঁদের মালয়েশিয়ার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার লোপাট করেছেন।

inscript
৩ মিনিট
৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ! যে ভয়াবহ অভিযোগ উঠছে হাসিনা ও পরিবারের বিরুদ্ধে

ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করতে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটিও গড়েছিল। অভিযোগ ছিল, ১৫ বছরের শাসনামলে সরকারের নানা কাজে যেসব পণ্য ও পরিষেবা কেনা হয়েছে তাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। আর এই টাকার মধ্যে কেবল ঘুষ দিতেই নাকি ব্যবহার হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা! অভিযোগ, ঘুষ নিয়েছেন আওয়ামী লীগেরই রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও তাঁদের সহযোগীরা। এবার হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেও ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও তাঁর বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক-সহ পরিবারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিপুল অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুতির পরে গত ১৯ অগাস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনার পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে সেদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় নানা প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক তাঁদের মালয়েশিয়ার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম মালয়েশিয়ার একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বিপুল টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে আর এর মধ্যস্থতা করেছেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভিডিওতে ভাইরাল! অস্ত্র হাতে সত্যিই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান? জানুন আসল সত্য

Bangladesh Video Fact Check: সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, যশোরে জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে। সেখানে জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে খরচ হয়েছিল এক হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় এই টাকা অনেকটাই বেশি। মালয়েশিয়ার একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বিশাল বাজেট থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম। নিজের ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিকের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যস্থতার বিনিময়ে পাচার করা অর্থের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ রেহানা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।

২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, সেই সময় ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তির মধ্যস্থতাও করেন তিনি। অভিযোগ, ২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়ো কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ রেহানা ও কাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। যুক্তরাষ্ট্রেও ‘জুমানা ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি কোম্পানি রয়েছে তাদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন চিন্ময় দাসের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন অর্জুন সিং, কার্তিক মহারাজরা?

Chinmoy Das Lawyer Rabindra Ghosh: রবীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি কোনও ভিসানীতি লঙ্ঘন করেননি। চিকিৎসা করানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের অভিযোগ, এ কোম্পানির মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের অফশোর অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার করতেন শেখ হাসিনা। এই কোম্পানিটি ডেস্টিনি গ্রুপ নামে একটি চিটিং ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করে বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঘুষের টাকার মধ্যে ৭৭ হাজার থেকে ৯৮ হাজার কোটি টাকা গেছে আমলাদের কাছে। রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের সহযোগীরা পেয়েছেন ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রকের হিসাব বলছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আমলে জমতে থাকা ঋণের পরিমাণ এখন ১৫৫ বিলিয়ন ডলার!

শ্বেতপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে নাকি গড়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অর্থাৎ গত ১৫ বছরে বিদেশে ২৪০ বিলিয়ন বা ২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যে যে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল সেই ২৯টি বৃহদাকার প্রকল্পের মধ্যে বড় প্রকল্পের প্রতিটিতে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ। ২৯টি বড় প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৮৭ বিলিয়ন ডলার বা ৭ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭টি প্রকল্পের আনুমানিক প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।

শ্বেতপত্র জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে ব্যাঙ্কখাতে ব্যাপক তছরুপ হয়েছে। ব্যাঙ্কে খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য ঋণ কেলেঙ্কারি, প্রতারণা, ভুয়ো ঋণ ও ঋণের অপব্যবহারের বিভিন্ন ঘটনা ফাঁস করেছে ওই প্রতিবেদন। দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প, বেজা এবং বেপজার মতো ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী–সহ প্রায় ২৫০ জনের বিরুদ্ধেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।