কেন চিন্ময় দাসের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন অর্জুন সিং, কার্তিক মহারাজরা?

Chinmoy Das Lawyer Rabindra Ghosh: রবীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি কোনও ভিসানীতি লঙ্ঘন করেননি। চিকিৎসা করানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন।

inscript
৩ মিনিট
কেন চিন্ময় দাসের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন অর্জুন সিং, কার্তিক মহারাজরা?

দেশদ্রোহিতার মামলায় চট্টগ্রামের জেলে বন্দি রয়েছেন বাংলাদেশের ধর্মীয় গুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ২ জানুয়ারি তাঁর হয়ে মামলা লড়তে বাংলাদেশে হাজির হবেন চিন্ময়ের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ। এই মুহূর্তে অবশ্য ভারতেই আছেন তিনি। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষকে ভারতে থাকাকালীন দেখা গিয়েছে এই বঙ্গের বেশ কিছু বিজেপি নেতার সঙ্গে। চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যারাকপুরে নিজের ফ্ল্যাটে এসে উঠেছেন রবীন্দ্র ঘোষ। গত মঙ্গলবার ওই বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান বিজেপির নেতা অর্জুন সিংহ, কৌস্তভ বাগচী, প্রদীপ্তানন্দ (কার্তিক) মহারাজও। কেন বিজেপির নেতাদের সঙ্গে এত সখ্য রবীন্দ্র ঘোষের? চিন্ময় দাসের হয়ে লড়ার জন্য কি পরোক্ষে বিজেপির মদত পাচ্ছেন তিনি?

রবীন্দ্র ঘোষকে বাংলাদেশের যমুনা টিভির এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এমন উত্তাল সময়ে তিনি ভারতে কেন? রবীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি কোনও ভিসানীতি লঙ্ঘন করেননি। চিকিৎসা করানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। যদিও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে তিনি ষড়যন্ত্র করছে ভারতে এসেছেন! রবীন্দ্র বলছেন, “হিন্দু নয় শুধু, সকলের জন্য আন্তরিকতা আছে আমার। আমি তো একজন মানবাধিকার কর্মী। আমি তো রাজনীতি করি না। আমি দল করি না। আমি আওয়ামী লীগও করি না, বিএনপিও করি না, জাতীয় পার্টিও করি না, ওই আরেকটা দল আছে যারা সবসময়ই টেররিজমের কথা বলে- সেটাও তো করি না।" বাংলাদেশে তাঁর কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি তাহলে আনুগত্য নেই। তাহলে ভারতে শাসকদল বিজেপি নেতারাই কেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ ইস্যুতে অতি সক্রিয় বিজেপি কি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাবে?

BJP on Bangladesh: 'হিন্দু'-দের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বিজেপি-আরএসএস-এর নেতৃত্বে বিশাল বিশাল সমাবেশে ক্রমেই ভিড় বাড়ছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই বাংলাদেশ কার্ড খেলছে গেরুয়া শিবির। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং বলেছেন, "বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকারের জন্য মাথা উঁচু রেখে লড়াই করার জন্য আমি তাঁকে স্যালুট জানাই।" চিন্ময় দাসের আইনজীবীর সঙ্গে বহুক্ষণ কথা বলেছেন সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজও। এমনকী ব্যারাকপুরে রবীন্দ্র ঘোষ যতদিন থাকবেন, ততদিন রাজ্য যাতে তাঁকে নিরাপত্তা দেয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন। রাজ্য তা না-দিলে কেন্দ্র এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন অর্জুন। ওই সাক্ষাৎকারেই উঠে এসেছে আরেকটি তথ্যও। রবীন্দ্র ঘোষ বাংলাদেশের নাগরিক হলেও, তাঁর পুত্ররা ভারতের নাগরিক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভিডিওতে ভাইরাল! অস্ত্র হাতে সত্যিই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান? জানুন আসল সত্য

Bangladesh Video Fact Check: সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, যশোরে জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে। সেখানে জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

যমুনা টিভিকে সাক্ষাৎকারে রবীন্দ্র জানিয়েছেন, “ওদের যখন পাঁচ-দশ বছর বয়স তখনই আমি ওদের এখানে (ভারতে) পাঠিয়েছি লেখাপড়া করার জন্য। তারা এখানের নাগরিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমি তো সেইটা ভেবে পাঠাই নাই।" যখন ছেলেদের রবীন্দ্র ঘোষ ভারতে পাঠান সেই সময় বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগই। যদি আওয়ামী লীগের সময় বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদেই ছিলেন, কেন তবে ছেলেদের ভারতে পাঠালেন তিনি? রবীন্দ্র ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “না, তখনও 'সেফ' ছিল না। এরশাদের আমলেও সেফ ছিল না। যখন বাবরি মসজিদ ভাঙে তখন এরশাদ বাংলাদেশে এক হাজার মন্দির ভেঙেছে।" নিজের ছেলেদের ভারতে পাঠানোর বিষয়ে রবীন্দ্র ঘোষ বলছেন, “ছোটবেলা থেকেই ওদের চিন্তা ছিল। আমার ছেলেদের ভয় ছিল। আমাকে বলেছিল, নিরাপত্তার জন্য তুমি আমাদের এখানে রাখবে না।" প্রশ্ন হচ্ছে, পাঁচ বা দশ বছরের শিশুর কি এই নিরাপত্তার চিন্তা থাকতে পারে? উত্তরে অবশ্য স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি তিনি, স্রেফ বলেছেন, “ওরা ছোটবেলা থেকেই বলেছে বাইরে লেখাপড়া করব।"

আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে। গত পাঁচ অগাস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর কি তাহলে দুর্গাপুজোয় বাংলাদেশে আগের মতোই অশান্তি হয়েছে? রবীন্দ্র ঘোষের দাবি, আগের তুলনায় কম হলেও তা হয়েছে। তাহলে তাঁরা কি বাংলাদেশে সুরক্ষিত নন? স্পষ্ট জবাবে রবীন্দ্র ঘোষ বলেছেন, “আমি মনে করি সুরক্ষা অপ্রতুল।"

রবীন্দ্র ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়, যে মানবাধিকারের লড়াইয়ের কথা তিনি বলছেন, সেই লড়াইয়ে ভারতের কোনও সংগঠনের সমর্থন কি তিনি পেয়েছেন? রবীন্দ্র বলছেন, “না পাইনি। আমি সিম্পোজিয়মে আসতাম। সেখানে ডঃ মোহিত রায়, প্রফেসর তথাগত রায় (ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল) ওঁরা ডেকেছেন। আমি সেমিনারে গেছি- এতটুকুই।" কোনও সমর্থন যদি না-ই পেয়ে থাকেন তাহলে বঙ্গ বিজেপির এই প্রথমসারির মুখেরা কেন সম্বর্ধনা দিল তাঁকে? কেনই বা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে অর্জুন সিং চিন্তিত?

বরাবরই বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে যে বিজেপি সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ করে এই বাংলাদেশ ইস্যুতে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছে। চিন্ময় দাসের গ্রেফতারি একটি মোক্ষম অস্ত্রমাত্র। চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে যখন ২০২৩ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তখনই ইসকন ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন অফিস তাঁকে ১৮ বছরের কম বয়সি যেকোনও শিশুর থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। চিন্ময়কে সাময়িকভাবে সংগঠন থেকে বরখাস্তও করা হয়েছিল। ফলে, এই সমস্ত ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে হিন্দুদের নেতা হিসেবে চিন্ময় দাসকে তুলে ধরা এবং তাঁর আইনজীবীকে বিজেপির প্রচ্ছন্ন সমর্থন প্রমাণ করে দিচ্ছে এই ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শাসকদল লাভের গুড় তুলতেই চাইছে নিজের ঘরে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।