১০০-তে শূন্য! প্রকৃতি সংরক্ষণ সূচকে কেন এমন লজ্জাজনক অবস্থা ভারতের?

India Nature Conservation Index Rank: বিশ্বের অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

inscript
৩ মিনিট
১০০-তে শূন্য! প্রকৃতি সংরক্ষণ সূচকে কেন এমন লজ্জাজনক অবস্থা ভারতের?

প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু দ্রুত বদলে যাচ্ছে। খুব তথ্য ও তত্ত্বগত ধ্যানধারণা ছাড়াই যে কোনও সাধারণ মানুষ খালি চোখেই তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। এককালে ভারতের পিঠে উন্নয়নশীল দেশের ট্যাগ ছিল। এখন সরকার বলেছে দেশ এতই এগিয়ে গেছে যে বিশ্বের এই বৃহত্তম গণতন্ত্র জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভের দিকে এগোচ্ছে। কোন কোন মাপকাঠিতে এগোচ্ছে তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরির মতো মানবকল্যাণ বিষয় এখানে যে উপেক্ষিত তা কয়েদিক আগেই জাতিসংঘের এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বাস ভারতে। মানুষের কল্যাণই যেখানে গৌণ সেখানে প্রকৃতির দফারফা হবে সেই স্বাভাবিক। প্রকৃতি সংরক্ষণ সূচক বলছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারত ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৬ তম স্থানে রয়েছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে আমাদের দেশ পেয়েছে ৪৫.৫।

প্রকৃতি সংরক্ষণ সূচকের জন্য দেশগুলিকে তাদের প্রচেষ্টার ভিত্তিতে চারটি মাপকাঠিতে বিচার করা হয়েছিল: সুরক্ষিত অঞ্চল পরিচালনা, জীববৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে হুমকির মোকাবিলা, প্রকৃতি এবং সংরক্ষণ আর একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের ভাবনা। গোল্ডম্যান সোনেনফেল্ড স্কুল অফ সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং BioDB.com-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, “যদিও ভারতের স্থলভাগের ৭.৫ শতাংশ সুরক্ষিতই, তবে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকায় উন্নতির প্রয়োজন। এখানে মাত্র ০.২ শতাংশ জাতীয় জলের অংশ এবং কোনটিই এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে পড়ছে না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাতাসে শ্বাস নেওয়া ভার, নদীতে বিষ! কোন পথে দূষণ-রাক্ষসকে রুখবে রাজধানী দিল্লি?

Delhi Pollution: শুধু দিল্লি নয়। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নাকি পড়শি দেশ পাকিস্তানের। শীত আসতে না আসতেই সেখানে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছেছে বাতাসের গুণগতমান।

এই সূচকে প্রকৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যে রয়েছে লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক, জিম্বাবুয়ে এবং কোস্টারিকা সহ অন্য কিছু দেশ। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশটি কিরিবাতি। এই সূচকে ১৮০ নম্বর স্থানে রয়েছে এই দেশ। ভারত তার কয়েক ধাপ আগে, ১৭৬ নম্বর স্থানে। এই উপমহাদেশের একমাত্র দেশ যেটি সেরা ১৫ টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, তা হল ভুটান। ভুটান বাসস্থান, সুরক্ষিত এলাকা এবং সংরক্ষণের জন্য অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি ও প্রচেষ্টার জন্য প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বে।

যে চারটি মূল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এই সূচক নির্ধারিত হয়েছে তাতে মোট ২৫ টি মাপকাঠি ছিল। প্রতিটি দেশকে তার প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ভারত সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার মতো কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে ফল খারাপ করেনি। তবে সমস্ত নম্বর কাটা গিয়েছে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে নিষ্ক্রিয়তার কারণে। সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের নানা প্রজাতির সুরক্ষায় ভারত ১০০-র মধ্যে ০ পেয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাকিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ! বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ ভারতেই, জানাচ্ছে রিপোর্ট

Highest Poverty in India: ভারতে মোট ২৩৪ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ভারতের বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক এলাকার কারণে, দেশে সংরক্ষণ যোগ্য বেশ কয়েকটি 'অনন্য আবাসস্থল' রয়েছে এবং ভারত সেগুলির সংরক্ষণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো কাজ করছে। মাটির স্বাস্থ্য এবং দূষণের গুরুত্বের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বিশেষ করে দেশে ব্যাপক পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটির যে ক্ষতি হচ্ছে তার আশু সমাধান প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। শিল্প ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে বনভূমিকে কেটে ফেলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ছাড়া আরেকটি ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থা তথৈবচ। দেশে ব্যাপক পরিমাণে বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা চলছে বলে দেখা গেছে সমীক্ষায়।

স্থলজ প্রজাতির সুরক্ষায় ভারত ১০০-র মধ্যে ৭৩ পেয়েছে। পাশাপাশি এও উঠে এসেছে যে, বিশ্বের অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। বন্যপ্রাণীর বেচাকেনায় বার্ষিক আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের এই ব্যবসার অংশ ভারত। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত। সম্পদ সীমিত অথচ বাড়ছে জনসংখ্যা। ফলে দ্রুতই প্রকৃতিকে শেষ করে চলছে মানব উন্নয়ন। ভবিষ্যতে ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এই জনসংখ্যাই! প্রাকৃতিক সংরক্ষণ অবশ্যই জনসংখ্যার ঘনত্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে। যদি এই ব্যাপক জনসংখ্যা আগামীতে আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রকৃতি সংরক্ষণ নিছকই প্রহসন হবে বলা বাহুল্য।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?