হাসিনার পাশে নেই ভারত? বাংলাদেশ নিয়ে ক্রমেই স্পষ্ট অবস্থান

Bangladesh India Relation: বিদেশ সচিব বিক্রম বলছেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে কোনও পৃথক মঞ্চ দেয়নি

inscript
৩ মিনিট
হাসিনার পাশে নেই ভারত? বাংলাদেশ নিয়ে ক্রমেই স্পষ্ট অবস্থান

বাংলাদেশ ইস্যুতে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার দিকেই এগোচ্ছে ভারত। কিছুদিন আগেই ভারতের বিদেশ সচিব মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, আলোচনা করেছেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি বলেছিলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এবং দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে 'সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা' করতে চায়। এবার বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে যে সকল সমালোচনা করেন তা ভারত সমর্থন করে না।

১১ ডিসেম্বর কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সঙ্গে এক আলোচনাপর্বে বিক্রম মিসরি জানান, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই সম্পর্কের ভিত্তি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেই নিহিত। বিক্রম বলছেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে কোনও পৃথক মঞ্চ দেয়নি, বরং হাসিনা নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এইসব মন্তব্য করে চলেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জয় বাংলা বাতিল বাংলাদেশে? রইল আসল সত্য

Bangladesh Joy Bangla: জয় বাংলাকে স্লোগানটিকে ২০২০ সালে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করা হয়। সেই সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিক্রম মিসরি বলেছিলেন, "সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে দ্বিতীয় কোনও চিন্তা নেই। আমরা এটাকে দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক হিসেবে দেখছি। আমরা যেখানে বিষয়টি থামিয়েছিলাম, সেখান থেকেই আবার চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” ৪০ মিনিটের ওই বৈঠকে সংখ্যালঘুদের সমস্যা, ভুয়ো তথ্য প্রচার, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা হয়। মিসরি জানিয়েছেন, "আমাদের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেতে হবে। এটিই একটি প্রধান সম্পর্ক।"

মিসরি জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের এক ধরনের অস্বীকৃতি রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, এই হামলাগুলো আসলে আওয়ামী লীগের উপর হামলা। তবে মিসরি বলছেন, এমন যুক্তি এই ধরনের আক্রমণকে ‘ন্যায্য’ বলে প্রমাণ করতে পারে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ফেরাতেই হবে! পদক্ষেপ শুরু হলো দুই তরফেই

Yunus on Bangladesh India Relation: সংখ্যালঘু ইস্যু সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষা করতে এবং ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিক্রম মিসরি বাংলাদেশে মন্দির ও ইন্দিরা গান্ধি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ওপর হামলার ঘটনাগুলির সত্যতা মেনে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনায় যে ৮৮ জনকে গ্রেফতার করেছে, তা যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই উল্লেখ করেছেন বিক্রম। তবে ইসকনের প্রাক্তন নেতার গ্রেফতারের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কিছু সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সন্ত্রাসবাদী’ই ভারত-বিরোধী বক্তব্য প্রচার করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভুল তথ্য প্রচার করে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বিদেশ সচিব বলছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য ও সংযোগের কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ, বাস যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা ‘স্থগিত’ রয়েছে। বিক্রম বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত ১৬ লক্ষ ভিসা জারি করেছে।

ভারতের বিদেশ সচিবের সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসও বলছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখনও 'খুবই দৃঢ়' এবং 'ঘনিষ্ঠ'। সাম্প্রতিক হিংসা ও অস্থিরতার আবহে সেই সম্পর্কের উপর মেঘ জমেছে, একথা অস্বীকার করার নয়। তবে দীর্ঘদিনের বন্ধু, তথা নিকটতম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই মুহূর্তে যে কোনও পদক্ষেপ করলেই তা দুই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষদের উপরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক অজানা ছিল না। তবে পাল্টে যাওয়া পরিস্থিতিতে ভারত সরকার যে হাসিনার সঙ্গে নেই তাই যেন প্রমাণ করতে মরিয়া কেন্দ্র।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।

ব্যারিকেড ঘেরা দিল্লি, নজরদারির চোখে নাগরিক: নিরাপত্তা নাকি নিয়ন্ত্রণ?

Delhi Under Siege: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৩৫ হাজার পুলিশ, কাঁটাতারের ব্যারিকেড, ড্রোন নজরদারি, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেট শাটডাউন, ৭ হাজারের বেশি আটক। ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির অভিযোগ তুলেছেন, দিল্লিতে 'কাশ্মীর মডেল'-এর প্রয়োগ চলছে।

প্রতিবাদের মানচিত্র থেকে মুছে গেল যন্তর মন্তর

Jantar Mantar protest site: আঠারো শতকে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পাশের রাস্তা হয়ে ওঠে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবাদীদের মিলনস্থল।

‘দুই নেহা’-র কাণ্ডে বিভ্রান্ত দিল্লি পুলিশ! AISA নেত্রী-কে আটকানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই

AISA-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করতে গিয়ে তাঁরই মতো দেখতে এক মেয়েকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। অথচ সেই সময় আসল নেহা বোরা দিল্লির কনট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছিলেন।