সুচ থেকে মুক্তি, বাজারে আসবে নেজাল কোভিড ভ্যাকসিন, কার্যকরী হবে তো?

By: Madhurima Pattanayak

January 6, 2022

Share

প্রতীকী চিত্র

তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার হিসেবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেতে চলেছে ভারত বায়োটেকের দ্বারা নির্মিত নেজাল কোভিড ভ্যাকসিন (বা BBV15)।  সব ঠিক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নেজার ভ্যাকসিন ভারতের বাজারে মিলবে। নেজা়ল কোভিড ভ্যাকসিন, প্রচলিত ভাবে প্রয়োগ করা ইন্ট্রামাস্ক্যুলার কোভিড ভ্যাকসিনের থেকে অনেক বেশি কার্যকর, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

যারা ভ্যাকসিনের প্রথম দুটি ডোজে় কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন, তাঁরা অনায়াসে তৃতীয় ডোজ় বা বুস্টার হিসেবে পেতে পারেন নেজা়ল কোভিড ভ্যাকসিন। শুধু তাই-ই নয়, এই ভ্যাকসিন শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে এবার সুচের ভয় যাদের রয়েছে, তারা রেহাই পেতে চলেছেন।  সুচ না ফুটিয়েই, খুব নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে কেবল নাসারন্ধ্রে স্প্রে করেই এবার পেতে পারবেন ভ্যাকসিন।

কেন নেজা়ল কোভিড ভ্যাকসিন বেশি কার্যকরী?

 প্রচলিত ভাবে প্রয়োগ করা ভ্যাকসিন বা ইন্ট্রামাস্ক্যুলার ভ্যাকসিন সরাসরি আমাদের মাসল বা পেশিতে দেওয়া হয়। যে কোনও ভ্যাকসিনেরই মূল কাজের ধরন একই। কোভিড ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে  ভ্যাকসিনে উপস্থিত ডিএনএ কিংবা আরএনএ আমাদের শরীরে প্রবেশ করে  এমন কিছু প্রোটিন তৈরি করে যা নোভেল করোনা ভাইরাসেও উপস্থিত। আর আমাদের শরীরে যখনই এই প্রোটিনগুলি তৈরি হয়, শরীর মনে করে সত্যি বুঝি ভাইরাস আক্রমণ করল। ফলে সে-ও ভাইরাসকে প্রতিরোধ করবে বলে দেহে অ্যান্টিজেন তৈরি করে। আর এই অ্যান্টিজেন শরীরে বেশ কয়েক মাস কার্যকারীতা দেখায় নোভেল করোনাভাইরাসের সাম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে।

ইন্ট্রামাস্ক্যুলার ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে প্রথমে পেশির কোশ থেকে রক্তে মেশে। তারপর রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে। অন্য দিকে ইন্ট্রানেজাল ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে, ওই টিকা মিউকোজাল মেম্ব্রেন দিয়ে প্রবেশ করে, শ্বাসনালি সংলগ্ন অংশে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সেই অ্যান্টিবডি শ্বাসনালি ও ফুসফুসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

আর যেহেতু নোভেল করোনাভাইরাস প্রাথমিক ভাবে নাক-মুখ  থেকে শ্বাসনালিতে ও ফুসফুসে ছড়ায়, তাই ভাইরাসের প্রাথমিক প্রবেশ প্রথেই অ্যান্টিবডিগুলি অতন্দ্র প্রহরীর মত উপস্থিত থাকে। পাশাপাশি যেহেতু প্রশ্বাসের মাধ্যমেই মূলত ছড়ায় নোভেল করোনাভাইরাস, তাই এই অংশে সেই অ্যান্টিবডি তৈরি হলে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে, এমনই ধারণা ভ্যাকসিন নির্মাতাদের।

ইন্ট্রানেজাল আর ইন্ট্রামাস্ক্যুলার ভ্যাকসিনের আরেকটি তফাৎ হল, প্রথমটি শ্বাসনালী ও তার সংলগ্ন অংশে গিয়ে যে ইমিউনোগ্লোবিউলিন-এ জাতীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি আমাদের শরীরে ইমিউনোগ্লোবিউলিন-জি জাতীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। ইমিউনোগ্লোবিউলিন-এ অত্যন্ত শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে কোভিডের বিরুদ্ধে এবং কোভিড সংক্রমণের প্রাথমিক ধাপেই ভাইরাসকে নষ্ট করে। অন্যদিকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন-জি-এর কর্মক্ষমতা ইমিউনোগ্লোবিউলিন-এ-এর মত এত শক্তিশালী নয়।

ইন্ট্রানেজা়ল ভ্যাকসিন কি ওমিক্রন বা ডেল্টা স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে?

গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ইন্ট্রানেজাল ভ্যাকসিন ইঁদুরের শরীরে একাধিক রেস্পিরেটরি ভাইরাস – অর্থাৎ শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটানো ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয়। শুধু তাই নয়, ইন্ট্রানেজাল ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি একাধিক ফ্ল্যু ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকরী। এই জাতীয় ভ্যাক্সিন কেবল কোভিডই নয়, একাধিক রেস্পিরেটরি বা ফ্লু ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী। ইয়েল ইউনিভার্সিটির ইমিউনোবায়োলজিস্ট আকিকো ইওয়াসাকির মতে, যেহেতু ভাইরাসকে তার প্রবেশ পথেই প্রতিহত করে ইন্ট্রানেজা়ল ভ্যাকসিন, তাই আশা করা যায় কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিন কার্যকরী হবে।

কবে থেকে আমরা পেতে পারি এই ভ্যাকসিন? দামই বা কেমন হবে?

আশা করা যাচ্ছে ইন্ট্রানেজা়ল ভ্যাক্সিন, প্রচলিত ভাবে ব্যবহৃত ইন্ট্রামাস্ক্যুলার ভ্যাকসিনের থেকে সস্তা হবে। তবে কবে থেকে পাওয়া যাবে এই ভ্যাকসিন সেই বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সফল ভাবে প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করে, এই ভ্যাক্সিন দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছে।

More Articles