একদিনে সংক্রমণ পেরলো ৪ হাজার! কতটা ভয়ঙ্কর কোভিডের এই নয়া JN.1 স্টেন?

Covid-19 in India: মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০৯, বুধবার সেই সংখ্যাটা এক ধাক্কায় পৌঁছে যায় ৫২৯-এ।

Sohini Das
৩ মিনিট
একদিনে সংক্রমণ পেরলো ৪ হাজার! কতটা ভয়ঙ্কর কোভিডের এই নয়া JN.1 স্টেন?

দেশ জুড়ে ফের বাড়ছে করোনার দাপট। ফের কি দেশে ফিরতে চলেছে দুঃসহ সেসব দিন! দেশের প্রায় সব ক'টি রাজ্যেই বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের খবর। কোভিড নয়া ভেরিয়েন্ট JN.1 ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, ২৭ ডিসেম্বর, বুধবারই নতুন করে ৫২৯ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। সব মিলিয়ে দেশ জুড়ে সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৯৩।

কোভিডের নয়া সাব ভেরিয়েন্ট JN.1-র ফের সংক্রমণ ঘিরে ফের উদ্বিগ্ন দেশ। ফের কি ফিরতে চলেছে মাস্ক, লকডাউনের সেই ভয়াবহ দিন? সেই আশঙ্কাতেই কাঁপছে গোটা দেশ। ৫২৯ জন নতুন করোনা আক্রান্তের পাশাপাশি তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তার মধ্যে দু'জন কর্ণাটকের আর একজন গুজরাটের বাসিন্দা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে যে ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে, তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই শীতে ফিরছে কোভিড! বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা উস্কে কী জানাল হু?

Covid JN.1 subvariant cases Rise : কেবলমাত্র কোভিড-১৯ ভাইরাসটিই নয়; ইনফ্লুয়েঞ্জা, অন্যান্য ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ারও বিবর্তন হচ্ছে।

শীত পড়তে না পড়তেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে করোনার নয়া ভেরিয়েন্ট। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দেশে নতুন করে করোনার প্রকোপ বেড়েছে। গত ৫ ডিসেম্বর নাগাদ ডবল ডিজিটে পা দেয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। তার পরে মাত্র এক মাসের মধ্যেই পাঁচ হাজারের দরজায় পৌঁছে গিয়েছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা।

প্রাথমিক ভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, সংক্রমণ বাড়লেও তেমন কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। তেমন ভয়ঙ্কর নয় এই JN-1 ভ্যারিয়েন্টটি। সাধারণ ভাবে হাল্কা থেকে মাঝারি জ্বর, সর্দি , গলা ব্যথার মতো সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল হু-এর তরফে। তার সঙ্গে সামান্য শ্বাসকষ্টের উপসর্গের কথাও জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। খিদে কমে যাওয়া, বমির মতো উপসর্গের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভিড়ভাট্টাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে যাওয়া ও মুখে মাস্ক পরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনার নয়া ভেরিয়েন্ট JN.1? কী কী উপসর্গ জেনে নিন

Covid's JN.1 variant in India: দেশ জুড়ে বাড়াতে বলা হয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার কথা। একই সঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হলা হয়েছে। শুধু ভারতেই নয়, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও বেড়েছে কোভিড-১৯-র নয়া স্টেন।

করোনার এই ভয়াবহ দিক আগেই দেখে ফেলেছে গোটা বিশ্ব। রোগ-ব্যধি, মৃত্যুমিছিল। সংক্রমণ এড়াতে লকডাউন, আর সেই লকডাউনের জেরে ধ্বসে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতি। অসুখে মানুষ যত না মরেছে, তার চেয়েও বেশি প্রাণ কেড়েছে লকডাউনের ফলে মানুষের জীবিকাহীনতা, অনাহার। সেই ছবিটাই ফের ফিরতে চলেছে না তো। ২০২০ সাল থেকে পর পর তিনটি কোভিড ঢেউয়ের মুখে পড়েছে দেশবাসী। চার বছর ধরে তিনটি করোনার ঢেউ কেড়েছে অন্তত ৫.৩ লক্ষ প্রাণ। অন্তত সাড়ে চার কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে করোনায়। দেশ-বিদেশের সমস্ত বিজ্ঞানীর অবিরাম চেষ্টায় তৈরি হয়েছিল ভ্যাকসিন। কোভিড টিকাকরণ, দীর্ঘদিনের কোভিড-বিধি, মুখোশ পরার অভ্যাস ছেড়ে সবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিল দেশবাসী। তার মধ্যে ফের নতুন করে আতঙ্ক ফেরাচ্ছে JN-1 স্টেন।

মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০৯। গুজরাট থেকে ৩৬টি, কর্ণাটক থেকে ৩৪টি, গোয়া থেকে ১৪টি, মহারাষ্ট্র থেকে ৯টি, রাজস্থান থেকে চারটি, তামিলনাড়ু থেকে চারটি ও তেলঙ্গানা থেকে দুটি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। বুধবার সেই সংখ্যাটা এক ধাক্কায় পৌঁছে যায় ৫২৯-এ। করোনার এই বাড়বাড়ন্তের কারণ ঠিক কী? বিশেষজ্ঞদের অনেকে অবশ্য এর জন্য আবহাওয়া পরিবর্তনকেও দুষছেন। শীতকাল পড়লে এমনিতেই ভাইরাসজনীত অসুস্থতা বাড়ে। তার উপর পরিবেশ দূষণ যেভাবে বেড়েছে, তাতে শ্বাসকষ্টজনীত সমস্যা এমনিতেই বাড়ছে। কমছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর সেই সুযোগটা নিয়েই বাড়বাড়ন্ত বাড়ছে করোনার।

বিশেষজ্ঞরা আগে থেকে সতর্ক থাকার কথাই বারবার বলছেন। বাইরে মাস্ক ব্যবহার, ভিড়ভাট্টাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলা, যাতে সংক্রমণ না বাড়তে পারে, এবং স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। কোভিডের JN-1 ভেরিয়েন্ট জনীত অসুস্থতার নিরাময় বাড়িতেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রাজ্যপ্রশাসনগুলিকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে এ নিয়ে। প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতে রোগীর চিকিৎসা করানো যায়, সেই পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে। তবে ভয় বা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইনফ্লুয়ে়ঞ্জার মতোই কোভিডের এই JN-1 ভেরিয়েন্ট সংক্রমণ। কিন্তু সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও হু-এর তরফে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।