এবার সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে ডাক পড়ল রামদেবের! কী কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

Baba Ramdev: এবার সুপ্রিম কোর্ট রামদেবকে সোজা আদালতে ডেকে পাঠাল। শুধু যোগগুরু রামদেবই নয়, পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডিরেক্টের আচার্য বালকৃষ্ণকেও মঙ্গলবার সমন পাঠিয়েছে বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আসাদুদ্দিন আমানুল্লাহের বেঞ্চ।

Sohini Das
৩ মিনিট
এবার সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে ডাক পড়ল রামদেবের! কী কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা এসেছিল আগে। রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের বিজ্ঞাপনগুলিকে ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। এমনকী এ ব্যাপারে কেন্দ্রকেও তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। পতঞ্জলি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, যোগগুরু রামদেব নাকি ওই আয়ুর্বেদ সংস্থার কোনও পদেই নেই। তবে তিনি যতই গা বাঁচানোর চেষ্টা করুন না কেন, শেষরক্ষা হল না। এবার সুপ্রিম কোর্ট রামদেবকে সোজা আদালতে ডেকে পাঠাল। শুধু যোগগুরু রামদেবই নয়, পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডিরেক্টের আচার্য বালকৃষ্ণকেও মঙ্গলবার সমন পাঠিয়েছে বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আসাদুদ্দিন আমানুল্লাহের বেঞ্চ। এবার অভিযোগ আদালত অবমাননারও।

অনেক দিন ধরেই যোগগুরু রামদেবের আয়ুর্বেদ সংস্থা পতঞ্জলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত নভেম্বরেই সুপ্রিম কোর্টে জরিমানার মুখে পড়েছিল রামদেবের সংস্থাটি। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর একটি লিখিত আবেদনের শুনানি পর্বে মিথ্যা বিজ্ঞাপনীর প্রচারের জন্য জরিমানা করার কথা মৌখিক ভাবে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পতঞ্জলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোভিড প্রতিরোধী নাম দিয়ে ভুয়ো পণ্য বিক্রি করে আড়াইশো কোটি টাকা মুনাফা করেছিল সংস্থাটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দেন রামদেব! বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court on Baba Ramdev's Patanjali: এই বিজ্ঞাপনগুলো বিভ্রান্তিকর জানার পরেও কেন কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ করেনি , সে নিয়েও তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলাটি নিয়ে শীর্ষ আদালতে যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছে। গত বছর নভেম্বরেই পতঞ্জলী সংস্থার ভুয়ো বিজ্ঞাপন নিয়ে পদক্ষেপ করেছিল আদালত। সে ব্যাপারে পতঞ্জলি ও সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টের বালকৃষ্ণের অবস্থান স্পষ্ট করে আদালতকে জানানোর নির্দেশ জেওয়া হয়েছিল। পতঞ্জলির বিজ্ঞাপনে রামদেবের ছবি থাকার ফলে তাঁকেও মামলার একটি পক্ষ বলে ধরা হয়েছিল। তবে সে ব্যাপারে আদালতে কিছুই জানানো হয়নি পতঞ্জলি সংস্থার তরফ থেকে। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি ফের আদালতে ওঠে মামলাটি। সেসময় বালকৃষ্ণকে নোটিস পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নোটিসের এখনও কোনও জবাব দেননি তিনি। আর তাতেই ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এবার আর উত্তর তলব নয়, সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে খোদ রামদেবকে। একই সঙ্গে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরকেও পরবর্তী শুনানির দিন কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটাই সেরে ফেলতে হবে দু'সপ্তাহের মধ্যে। বারবার উত্তর চেয়েও না পেয়ে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। এবার রামদেব ও পতঞ্জলির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে বিচাপতিদের বেঞ্চ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আসল নাম রামকিষাণ যাদব! কীভাবে কোটি কোটি টাকার পতঞ্জলির ব্যবসা গড়লেন রামদেব?

Patanjali Ayurved Ramdev : পতঞ্জলিতে যারা কাজ করেন রামদেব এবং বালকৃষ্ণকে তাঁদের গুরু মানতে হয়। প্রতিবার এখানে প্রবেশের আগে চরণ স্পর্শ করতে হয় রামদেব ও বালকৃষ্ণের।

পতঞ্জলির তরফে মঙ্গলবার কোর্টে সওয়াল-জবাব করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী মুকুল রহোতাগি। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, পতঞ্জলির সঙ্গে যোগগুরু রামদেবের কোনও সম্মন্ধ নেই। শুধু তাই নয়, তিনি আরও দাবি করেছেন যে রামদেবকে শোকজ করার আগে তাঁর বক্তব্য়ও শোনা উচিত কোর্টের। রোহতাগির যুক্তিকে খণ্ডন করে কোর্ট বলছে, 'গত বারও এমন হয়েছিল যে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে বাবা রামদেব আমাদের আদেশ পাশ করার পরে একটি প্রেস কনফারেন্স ডেকেছিলেন। আমরা শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছি। তাঁকে সাড়া দিতে দিন।’

ওষুধের ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে রামদেব ও বালকৃষ্ণকে কাঠগড়ায় তুলেছে অভিযোগ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ড্রাগস অ্যান্ড রেমেডিস অ্যাক্টের ৩ এবং ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘনে প্রধান অভিযুক্ত রামদেব ও বালকৃষ্ণ। সেসব তো ছিলই, এবার তার সঙ্গে যোগ হল আদালত অবমাননার অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রামদেব। কেন্দ্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায় রামদেবকে। আবার রামদেবের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকেন বিজেপির বিশিষ্টরা। সামনেই ভোট। তার আগে সুপ্রিম কোর্টে রামদেবের হাজিরা কতটা অস্বস্তিতে ফেলতে চলেছে বিজেপি সরকার। আগের শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের ভালো রকম ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছিল কেন্দ্রকে। কী হতে চলেছে পরবর্তী শুনানিতে? আদালতের নির্দেশ মেনে দর্শন দেবেন রামদেব? নাকি এবারেও হাজিরা এড়াবেন? আপাতত সেটাই প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।