'রেল মস্ত ভুল করছে'! কেন বলছেন খোদ বন্দে ভারতের নির্মাতা?

Indian Railway: সরকারের রেল সব মানুষের, কেবল উচ্চবিত্তদের নয়। তাই সরকারকে সাধারণ মানুষের জন্যও ব্যবস্থা করতে হবে।

inscript
৩ মিনিট
'রেল মস্ত ভুল করছে'! কেন বলছেন খোদ বন্দে ভারতের নির্মাতা?

বন্দে ভারত হয়েছ, কিন্তু তা হয়েছে ভারতের জনতার নিরাপত্তার বিনিময়ে! ভারতীয় রেলের সমস্ত ঝাঁ চকচকে আতিশয্য বহিরঙ্গে হলেও ভিতরে কী পরিমাণ ফাঁপা বন্দোবস্ত তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একের পর রেল দুর্ঘটনা। প্রাক্তন রেল অফিসার সুধাংশু মণি ছিলেন বন্দে ভারত-এর নেপথ্যের মূল মস্তিষ্ক। সেই তিনিই বলছেন, কেন্দ্র সরকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের দিকে নজর না দিয়ে মস্ত ভুল করছে। সুধাংশু বলছেন, গত কয়েক বছরে, সরকারের সব লক্ষ্যমাত্রা স্থির হচ্ছে বন্দে ভারতকে ঘিরে। যারা আমজনতা, যারা রোজ লোকাল ট্রেন, সাধারণ আসনে, অসংরক্ষিত আসনে যাতায়াত করেন, যাদের এসিতে ভ্রমণের সামর্থ্য নেই, তাঁদের দিকে নজর দিচ্ছে না রেল।

সুধাংশু মণি ভারতীয় রেলওয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে জেনারেল ম্যানেজার পদে কাজ করেছেন ২০১৬ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সুধাংশু বলছেন, বন্দে ভারত উচ্চবিত্ত যাত্রীদের জন্য ভালো ট্রেন। এই যাত্রীরা আরামের জন্য একটু বেশি টাকা দিতে ইচ্ছুক৷ কিন্তু ভারতীয় রেল হচ্ছে দেশের সুলভতম পরিবহণ ব্যবস্থা। দেশের কোটি কোটি মানুষ সাধারণ জনতা যারা লোকাল ট্রেন বা সাধারণ আসনের যাত্রী। সাধারণ মানুষের কাছে আরামের চেয়েও জরুরি ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আর সময়ানুবর্তিতা। সুধাংশু বলছেন, সরকারের রেল সব মানুষের, কেবল উচ্চবিত্তদের নয়। তাই সরকারকে সাধারণ মানুষের জন্যও ব্যবস্থা করতে হবে। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেধেন তিনি৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রিল তৈরিতেই ব্যস্ত! রেলের কবচের ব্যবস্থা কেন করতে পারলেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী?

Kanchanjunga Express Accident Kavach: মানুষের প্রাণের মূল্য নেই অথচ স্টেশনগুলিকে প্রায় শপিংমল করে তোলার যুক্তি কোথায়?

গত কয়েক বছরে দেখা গেছে এসি কোচে অসংরক্ষিত যাত্রীরা ঢুকে পড়ছেন। সারা দেশজুড়েই ঘটছে এমন ঘটনা। রেলের কথা ছিল দেশজুড়েই রেল পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাবে, স্টেশনগুলিকে উন্নত করবে, অসংরক্ষিত কোচের যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত কাজ করবে। অথচ সেসব কিছুই না হয়ে ভারতীয় রেল যেন কেবলই উচ্চবিত্তদের যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠছে।

সুধাংশু মণির কথানুযায়ী, শ্রমিক বা ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই টিকিট ছাড়াই সংরক্ষিত বগিতে উঠে পড়েন। আগেও এই অবস্থা ছিল, পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। "আগে কিছু রাজ্যে, বিশেষ করে বিহার, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়ার সময়, শ্রমজীবী মানুষ পড়ুয়ারা পরীক্ষা দিয়ে যাওয়ার সময় টিকিট ছাড়াই সংরক্ষিত বগিতে চড়ত। আমি অনেক ভিডিও দেখেছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে পরিস্থিতি আগের তুলনায় সত্যিই খারাপ হয়েছে," বলছেন সুধাংশু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিনের পর দিন বিনিদ্র ডিউটি! চালক নাকি রেলকর্তৃপক্ষ, দুর্ঘটনার আসল দায় কার?

Kanchenjunga Express Tragedy: অনেকেই দুর্ঘটনার দায় ঠেলেছেন চালকের ঘাড়ে। কিন্তু সত্যিই কি দোষ দেওয়া যায় তাঁদের। সিগন্যালজনীত ত্রুটি, আনুষাঙ্গিক ভুল-ভ্রান্তির সঙ্গে যে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে যে বিষয়টি বারবার উঠে আসছে, তা হল লোকো পাইলটদের শারীরিক ক্লান্তি।

প্রাক্তন প্রকৌশলী সুধাংশু আরও বলছেন, এখন এসি কোচ তৈরিতে আরও জোর দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নন-এসি কোচের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। পীযূষ গোয়ালের আমলে ঘোষণা করা হয়েছিল যে ধীরে ধীরে সমস্ত ট্রেনই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি বলছেন, কম ভাড়ায় প্রত্যেককে এসির সুবিধা দেওয়ার বিষয়টা ভালো হলেও তা বাস্তবে হয়নি। সরকার নীতি পরিবর্তন করেছে, কম এসি কোচ এবং বেশি নন-এসি তৈরি করেছে। পরে রেল অনেক ট্রেনেই এসি কোচ বাড়িয়েছে, যার ফলে সংরক্ষিত স্লিপার কোচের সংখ্যা কমেছে এবং সম্ভবত অসংরক্ষিত আসনও কমেছে। তাহলে এই যাত্রীরা যাবেন কোথায়? তাদের যাতায়াত করতে হবে বলেই তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসে ঢুকে পড়েছেন।

রেল বন্দে ভারত নিয়ে মাতামাতির পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের চাহিদার কথা ভাবলে কাজের কাজ হতো বলে মনে করছেন তিনি। এমনকী এই ঘটনা নির্বাচনী হাওয়াকেও খানিক উলটোপথে ঘুরিয়েছে বলে দাবি তাঁর। বিরোধীরা বারবার মানুষকে বুঝিয়েছে যে, শুধুমাত্র অভিজাত যাত্রীদের প্রতিই রেল মনোযোগ দেয়, সাধারণ মানুষের কোনও গুরুত্ব নেই এখানে আর। এখন রেল আবার ভুল সংশোধনের জন্য এসি কোচ তৈরি কমিয়ে নন-এসি বাড়াচ্ছে। "আমার মতে, এটাও ভুল। আরও এসি কোচ তৈরি করা উচিত, তবে সাধারণ মানুষের জন্যঈ আসন বৃদ্ধি করা উচিত," মনে করছেন সুধাংশু।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।