অস্তিত্ব সঙ্কট থেকে এখন শীর্ষ স্তরে! HAL-এর সঙ্গে যা যা করেছিল মোদি সরকার

HAL and Modi Govt: হ্যাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য কাজ করার চুক্তি হয়েছিল হ্যাল-এর সঙ্গে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
অস্তিত্ব সঙ্কট থেকে এখন শীর্ষ স্তরে! HAL-এর সঙ্গে যা যা করেছিল মোদি সরকার

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) 'নবরত্ন' থেকে 'মহারত্ন' পদমর্যাদা পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থসচিব টি ভি সোমনাথন সোমবার হ্যাল-এর এই উন্নতি নিয়ে সভা করেন। হ্যাল-কে ভারতের শীর্ষ স্তরের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (PSU) তালিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সংস্থাটির বাজার খ্যাতি এবং সংস্থাটির প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক হ্যাল-এর Su-30MKI এবং 240AL-31FP বিমানের ইঞ্জিনের জন্য ২৬,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে হ্যাল-এর শেয়ার ২.২৩% বেড়েও গিয়েছে। একটা সময় 'হ্যাল'-এর অস্তিত্ব সঙ্কটের কথা শোনা গিয়েছিল। চর্চা শুরু হয়েছিল সংস্থার কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সেখান থেকে হ্যাল-এর আজ এই উন্নতি। কিন্তু একটা সময় হ্যাল-এর সঙ্গে বৈমাত্রেয় আচরণ করেছিল এই মোদি সরকার। কেন এমন আচরণ?

হ্যাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য কাজ করার চুক্তি হয়েছিল হ্যাল-এর সঙ্গে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনিল আম্বানিকে সেই বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি অভিযোগ তুলেছিলেন, মোদি সরকারের নির্দেশেই হ্যাল-কে বঞ্চিত করে অনিল আম্বানির সংস্থার সঙ্গে অফসেট চুক্তি হয়েছিল দাসো-র। তাঁর দাবি ছিল, হ্যাল-কে এই বরাত দিলে আয় হতো। কয়েক হাজার কোটি টাকার বরাত বিনা টেন্ডারে অনিল আম্বানির সংস্থাকে দিয়েছিল কেন্দ্র। রাহুলের অভিযোগ ছিল, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ৫২৬ কোটি টাকায় রাফাল কিনবে কিন্তু তা ১,৬০০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কোনও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেন ফরাসি সংস্থাটি অনিলের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করল, সেই প্রশ্ন উঠছিলই। 'আনন্দবাজার অনলাইন'-এ লেখা হয়েছে, প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মোদিই নাকি দাবি তুলেছিলেন, রাফাল চুক্তির অংশীদারিত্ব অনিলের সংস্থাকে দিতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশের রদবদল কি আদানিদের বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুখবর?

Bangladesh Adani Power deal: ২০১৭ সালে তদানীন্তন হাসিনা সরকার আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎচুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ঝাড়খণ্ডে আদানিদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়

হ্যাল-এর প্রাক্তন প্রধান সুবর্ণ রাজু বলেছিলেন, হ্যাল রাফাল বানাতে পুরোপুরি সক্ষম ছিল কিন্তু নির্মলা সীতারমণ যুক্তি দিয়েছিলেন, হ্যাল নাকি এই যুদ্ধ বিমান গড়ে তুলতে অনেক সময় নিত। তার জন্যই চুক্তি মানা সম্ভব হয়নি। কংগ্রেসের রাফাল কমিটির প্রধান জয়পাল রেড্ডির দাবি ছিল, "রাফাল নিয়ে যা দুর্নীতি হয়েছে তাতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে হ্যাল-এর। কর্মীরা রোজগার হারাচ্ছেন। ইউপিএ-র সময়ের চুক্তি মেনে চললে কর্মীদের রোজগার হত।"

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দাসো ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকারী সংস্থা এমবিডি-এ ভারত এবং ফ্রান্সের মধ্যে যে রাফাল চুক্তি হয়েছিল সেখানে দুর্নীতি-বিরোধী শর্ত বাদ দিতে চাপ দিয়েছিল। ওই সংবাদমাধ্যমেই লেখা হয়েছে, ফরাসি প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, ২০১৫ সালের ওই চুক্তিতে দুর্নীতি-বিরোধী শর্ত কার্যকর হবে না কিন্তু ভারতীয় প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তে রাজি হননি। শেষে ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের নেতৃত্বে এক বৈঠকে ওই শর্ত মেনে নেয় কেন্দ্র। কংগ্রেস তখন প্রশ্ন তুলেছিল, প্রথমে 'না' বলে পরে কেন রাজি হয়েছিল বিজেপি সরকার? কী আড়াল করার উদ্দেশ্য ছিল দিল্লির?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক্সিট পোল ও শেয়ার বাজার: যে মহা কেলেঙ্কারি ঘটালেন মোদি-শাহ

Exit Poll Share Market Scam: ৩০ লক্ষ কোটি টাকার এই ধস ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

উল্লেখ্য, অনিল আম্বানির তিনটি সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্স, রিলায়েন্স ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স ইনফাস্ট্রাকচার এখন দেউলিয়ার পথে। রিলায়েন্স হোম ফাইনান্সকে ৬ মাসের জন্য শেয়ারবাজারে থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। সেবি নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৫ বছর সেবির তালিকাভুক্ত কোনও সংস্থার ডিরেক্টর বা পরিচালনা সংক্রান্ত পদে থাকতে পারবেন না অনিল। সেবি-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনিল ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। যখন রাফাল বিতর্কে কোণঠাসা ছিলেন অনিল, ঠিক সেই সময়ই মোদির রাজ্যে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ৬৪৮ কোটি টাকার বরাত পেয়েছিল তাঁর সংস্থা। অন্যদিকে, সেই সময় শীর্ষ আদালতেরও নির্দেশে ছিল, এরিকসনকে ১ মাসের মধ্যে ৪০০ কোটি টাকা দিতে হবে। আদালতের নির্দেশের পরও পাওনা মেটায়নি সংস্থা। ফের আদালত অবমাননার মামলা করেছিল এরিকসন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গুজরাতে বিমানবন্দর তৈরির বরাত পেয়েছিল রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

হ্যাল-এর তৈরি 'অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার' ভারতীয় বায়ুসেনা ছাড়াও ইজরায়েল, নেপাল, মলদ্বীপ এবং মরিশাসের বিমাবাহিনী ব্যাবহার করে। 'দ্য প্রিন্ট' সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি মাসেই আফ্রিকার প্রতিরক্ষা দফতরের একটি দল ভারতে আসছে। তারা এই কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতর এবং কারখানায় যাবেন। হ্যাল-এর থেকে ১৮টি তেজস মার্ক ১ যুদ্ধবিমান কিনতে পারে মিশর। চলতি বছরে মিশর হ্যাল-এর তৈরি হেলিকপ্টার ধ্রুব কিনতে পারে। মিশরের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতে এলেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে। দাবি করা হয়, তেজস যুদ্ধবিমানটি হালকা হলেও বিভিন্ন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম এবং শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়েও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে তা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। প্রয়োজনে আকাশপথে যুদ্ধ করার মতোও ক্ষমতা রয়েছে এই যুদ্ধবিমানটির।

বর্তমানে ভারতে 'মহারত্ন' পদমর্যাদায় ১৩টি পাবলিক সেক্টর ফার্ম রয়েছে। সেগুলি হল - BHEL, BPCL, Coal India, GAIL, HPCL, Indian oil, NTPC, ONGC, Power Grid SAIL, Oil India, REC এবং PFC। এই পদমর্যাদা অর্জনের জন্য একটি কোম্পানির বার্ষিক গড় লাভ ৫,০০০ কোটির বেশি থাকতে হয়। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র কেন 'হ্যাল'-এর দিকে নতুন করে তাকিয়েছে? তারা কি বুঝতে পেরেছে 'হ্যাল' লাভ দিতে সক্ষম? নাকি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই নেমেছে মোদি সরকার?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।