সত্যিই বিজেপির পুতুল হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর? ফলবে সব ভবিষ্যদ্বাণী?

Prashant Kishore: ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে পিকের বড় ভূমিকা ছিল। ১০ বছর পর ফের কি উঠে পড়ে লেগেছেন তিনি?

inscript
৩ মিনিট
সত্যিই বিজেপির পুতুল হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর? ফলবে সব ভবিষ্যদ্বাণী?

বিজেপি লোকসভা ভোটের আগে কোনও চালই প্রয়োগে বাকি রাখেনি। বছরের শুরুতে রামমন্দির, তারপরই একে একে বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের ইডি-সিবিআইয়ের ধরপাকড়, সিএএ চালু। ভোটের আগে বিজেপির হয়ে প্রচার করতে এবার কি প্রশান্ত কিশোরকে ব্যবহার করছেন নরেন্দ্র মোদি? প্রশান্ত কিশোরের মতো নির্বাচনী কৌশলী স্বাভাবিকভাবেই ভোটের আগে তাঁর মতামত জানাবেন। একের পর এক ভবিষ্যদ্বাণীও করে চলেছেন তিনি। কিন্তু তাতে পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট। ঠিক কী কী বলছেন পিকে?

প্রশান্ত কিশোর বলছেন রাহুল গান্ধির অবসর নেওয়া উচিত। পিকে দাবি করেছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের এক নম্বর দল হয়ে উঠতে পারে। বিজেপি গত বেশ কয়েক বছরে দক্ষিণ এবং পূর্ব ভারতে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছে। তাই পরিশ্রমের ফল মিলবে নাকি এবার। পিকে আরও বলছেন, ওড়িশাতেও বিজেপি বেশি আসন পাবে এমনকী বিজেডির চেয়েও বেশি! কংগ্রেস শাসিত তেলঙ্গানাতেও নাকি বিজেপি এক নম্বর দল হিসাবে উঠে আসতে পারে। তামিলনাড়ুতে ডবল ডিজিট ভোট পাবে বিজেপি, মনে করছেন পিকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দু'নম্বরে নামবে তৃণমূল! বাংলায় পিকে-র বাণী ফলার সম্ভাবনা কতটা?

Lok Sabha Election 2024: এ রাজ্যে এক নম্বরে উঠে আসতে চলেছে বিজেপিই। শুধু বাংলায় নয়, গোটা পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতেই চমকে দেওয়ার মতো ফল করতে চলেছে বিজেপি, তেমনই ভবিষ্যদ্বাণী প্রশান্ত কিশোরের।

মনে করতেই পারেন। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের কথা তো নেহাত ফেলনা নয়। সংসদীয় রাজনীতিতে কীভাবে ভোট পেতে হয় তা তিনি ছক কষে, কৌশল অবলম্বন করে করে দেখিয়েছেন। সবচেয়ে বড় উদাহরণ তো পশ্চিমবঙ্গই। প্রশান্ত কিশোর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে টুইটারে লিখে রেখেছিলেন বিজেপি ডবল ডিজিট পেরোতেই হিমশিম খাবে! অক্ষরে অক্ষরে মিলেছিল তা। ২০২১ বিধানসভায় তৃণমূল ব্যাপক জয়ী হয়। লোকসভা ভোটের আগে তাই পিকে-র কথা ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পিকে মানেই যে শেষ কথা তা কিন্তু নয়। প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী একাধিক ক্ষেত্রেই ব্যর্থও হয়েছে।

ভারত রাষ্ট্র সমিতি অর্থাৎ বিআরএসের হয়ে কাজ করেছিল পিকের আইপ্যাক। সেখানে বিআরএসের জেতার কথা পিকে বললেও, কংগ্রেস জিতেছিল, বিআরএস জিততে পারেনি। পিকে হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে বলেছিলেন, ৯৫% হিন্দুর বাস হিমাচলে তাই এখানে কংগ্রেসের জায়গা নেই। অথচ কংগ্রেস সেই রাজ্যে ৬০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জেতে। কর্ণাটকেও কংগ্রেসের জেতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন পিকে, অথচ কর্ণাটকে কংগ্রেস জেতে। কিন্তু এবার লোকসভা ভোটের আগে যেভাবে চারদিকে বিজেপির পতাকা দেখতে পাচ্ছেন পিকে, তাতে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবে।

মোদির বিরোধিতায় কংগ্রেসের ম্যানিফেস্টো মানুষের প্রকৃত উন্নয়নের কথা বলছে। অগ্নিবীর প্রকল্প বাতিল, করা, শিক্ষার অধিকার, মহিলাদের সংরক্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থানের মতো ইস্যু নিয়ে কথা বলছে কংগ্রেস। পিকে এত রকমের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন অথচ একবারও দেশের ব্যাপক বেকারত্ব, ভারত চিন সীমান্ত ইস্যু, লাদাখ ইস্যু, মণিপুর, সাম্প্রদায়িক হিংসা, দাম বৃদ্ধি নিয়ে একটা কথাও বলছেন না? মোদি কি তাহলে আন্ডারকভার এজেন্ট হিসেবে পিকেকে ব্যবহার করছেন? প্রশান্ত কিশোরের মতো একজন রাজনৈতিক কৌশলী ভোটের মুখে যত্রতত্র 'বাইট' দিয়ে চলেছেন কেন? রাজ বব্বরের মতো নেতা বলেছেন, তিনি প্রশান্তকে যতটা চেনেন, বিনামূল্যে কাজ করার লোক তিনি নন। তাহলে পিকে-কে এই রাজনৈতিক জ্ঞান দেওয়ার টাকা কে দিচ্ছে? ব্যতিক্রমী মিডিয়াগুলি একদিকে বিরোধীদের কথা বলছে, মোদির ব্যর্থতার কথা বলছে, অন্যদিকে গোদি মিডিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশব্যাপী গেরুয়া ঝড়ের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন পিকে। সবটাই বিনামূল্যে? সবটাই নিছক ভবিষ্যদ্বাণী?

মনে রাখতে হবে, রাহুল গান্ধির সঙ্গে জুড়তে চেয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু কংগ্রেস ভরসা করে উঠতে পারেনি তাঁকে। তাই কি লোকসভা ভোটের আগে এই জাতীয় কথাবার্তা বলছেন তিনি? সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন পিকে 'ওভাররেটেড'। এককালে যে তৃণমূলকে বাঁচালেন তিনি, এবার কি তার থেকেই শোধ নিচ্ছেন পিকে? ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে পিকের বড় ভূমিকা ছিল। ১০ বছর পর ফের কি উঠে পড়ে লেগেছেন তিনি? হাওয়ায় কথা ভাসিয়ে দিয়ে সাময়িক লাভ হতে পারে ঠিকই। কিন্তু নির্বাচনের ময়দানে পিকে খেপ খেলার খেলোয়াড় নন। তাই যে যে কথা তিনি বলছেন তা মাঠেঘাটের তথ্য না নিয়ে, হাওয়ার দিক না বুঝে বলছেন এমনও নয়। সত্যিই অপ্রত্যাশিত স্থানেও এবার বিজেপিরই দাপট দেখবে দেশ?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।