গাজার শরণার্থী শিবিরে ভয়ঙ্কর হামলা! ফের নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভিজল নেতানিয়াহুর হাত

Israel’s war on Gaza: মধ্য গাজার একটি স্কুলকেই শরণার্থী শিবির করে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সহায়সম্বলহীন গাজাবাসী। আর সেই স্কুলেই আকাশপথে হামলা চালানো হয় বৃহস্পতিবার।

Sohini Das
২ মিনিট
গাজার শরণার্থী শিবিরে ভয়ঙ্কর হামলা! ফের নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভিজল নেতানিয়াহুর হাত

গাজায় ইজরায়েলি হামলার কোনও বিরাম নেই যেন। রাফাহতে অগুনতি হামলা চালিয়েও শেষ হয়নি ইজরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন। এবার মধ্য গাজার নুসিরত শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা হানল নেতানিয়াহু সেনা। মধ্য গাজার একটি স্কুলকেই শরণার্থী শিবির করে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সহায়সম্বলহীন গাজাবাসী। আর সেই স্কুলেই আকাশপথে হামলা চালানো হয় বৃহস্পতিবার। ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও মহিলা।

প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণার পর থেকে গাজায় হামলার পর হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। গাজার সামান্যতম অংশও রেহাই পায়নি ইজরায়েলি সেনার আগ্রাসনের হাত থেকে। কার্যত গোটা গাজাটাই পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। এখনও পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইজরায়েলি হামলায়। আর সেই সংখ্যাটা প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হামাস জঙ্গিদের ধ্বংস করার নামে ইজরায়েল সরকার গাজার অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে অবিরত হত্যা করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারই ইজরায়েল সেনার তরফে ঘোষণা করা হয়, তাদের নয়া নিশানা মধ্য গাজার শরণার্থী শিবিরগুলি। সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে হামাস জঙ্গিরা। এমনটাই খবর রয়েছে ইজরায়েল সেনার কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার পর লেবাননেও 'মারণ' ফসফরাস হামলা! যে ভয়ঙ্কর অভিযোগ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে

Phosphorus Attack on Lebanon: বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই সাদা ফসফরাস অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই রাসায়নিক বিক্রিয়া করে ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ উৎপন্ন করতে পারে। যা মারাত্মক ভাবে পুড়িয়ে দিতে পারে ত্বক।

মধ্য গাজার যে স্কুলটিকে নিশানা করে নেতানিয়াহু সেনা, সেই আল-সারদি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধে সব কিছু হারানো অসংখ্য মানুষ। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের যে সংস্থা (UNRWA) রয়েছে, তার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এই শিবিরটি। তেমনটাই জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। আর সেটির উপরেই নামে সাম্প্রতিক এই হামলা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘তেহরানের কসাই’! কেন রইসির মৃত্যুতে আতসবাজি ফাটছে ইরানে?

Ebrahim Raisi: তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ইরানে, কিন্তু এ ছবি ইরানের একটা অংশের। অন্য যে অংশ কম আলোকিত, সেখানে ইব্রাহিম রইসির বিমান ভেঙে পড়তেই জ্বলেছে আতসবাজি।

গাজায় এখন আর একটাও হাসপাতাল আস্ত নেই। যেখানে বিপর্যস্ত মানুষের চিকিৎসা হতে পারে। বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ হামলায় অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুর জন্য আল আকসা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেও অবশ্য তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রায় প্রতিদিনই জমছে যুদ্ধাহতদের ভিড়। জমছে মৃতদেহের পর মৃতদেহ। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস জানায়, গাজা থেকে ইজরায়েল সম্পূর্ণ রূপে সেনা সরিয়ে না নিলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। এদিকে ইজরায়েলের সেনাপ্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথাবার্তার সময়ে যুদ্ধ থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে প্রতিদিন গাজায় বাড়ছে দুর্ভীক্ষ। প্রায় দশ লক্ষ মানুষ সেখানে অনাহারের শিকার। এদিকে ইজরায়েলের তরফে যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশই এসে পৌঁছচ্ছে বারংবার। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় অবশ্য ২৭ জন হামাস জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়েছে। গত বছর অক্টোবর মাসে ইজরায়েলে হামলা করেছিল হামাস। সেই ঘটনার আট মাস কেটে গেলেও গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। সত্যিই কি তাদের সাম্প্রতিক হামলায় একজনও হামাল জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে, না নিরপরাধ মানুষের গণহত্যার অপরাধ কপাল থেকে মুছে ফেলতেই এই মিথ্যে গল্প বুনছে ইজরায়েল সরকার।

এমনিতেই আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ চাপে রয়েছে ইজরায়েল। দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার আমাত্যদের বিরুদ্ধে ঝুলছে আন্তর্জাতিক আদালতের লালচোখ। ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য তদ্বির করেছেন এক কাউন্সেল। তার উপর ইরানের প্রেসিডেন্ট রইসির মৃত্যুর নেপথ্যে ইজরায়েলের হাত থাকতে পারে বলেও চর্চা চলছে। এই পরিস্থিতিতে এই হামলা ও এত এত নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু কি অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে নেতানিয়াহুর জন্য? উঠছে সেই প্রশ্নই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।