ত্রাণের লাইনে প্রাণঘাতী বোমা! রাফাহতে যে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল

Israel Hamas Conflict: সম্প্রতি কারেম আবু সালেম সীমান্তের কাছে মানবিক সাহায্যের জন্য ট্রাকের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন বাসিন্দারা। ভয়ঙ্কর দুর্ভীক্ষের মধ্যে সম্বল বলতে ওইটুকুই। সে সময় হঠাৎ করেই এসে পড়ে ইজরায়েলি বোমা।

Sohini Das
২ মিনিট
ত্রাণের লাইনে প্রাণঘাতী বোমা! রাফাহতে যে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল

যুদ্ধশান্তির প্রশ্নই নেই। গাজায় এখনও ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। গোটা গাজায় আর কোনও জায়গা বেঁচে নেই, যেটা সুরক্ষিত। সম্প্রতি দক্ষিণ রাফাহের কারেম আবু সালেম এইড ক্রসিংয়ের কাছে একটি সাহায্যকারী ট্রাকের কাছে জড়ো হয়ে যখন ত্রাণ নিচ্ছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের বাসিন্দারা, সেসময় হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। সেই ঘটনায় অন্তত ৯ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম অন্তত ৩০।

হামাস নিকেষ করার নামে দিনের পর দিন স্থানীয় গাজাবাসীর উপর আক্রমণ চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল। কোনও কিছুতেই যুদ্ধের অবস্থান থেকে সরিয়ে আনা যায়নি তাদের। এমনকী যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে পর্যন্ত সম্মত হয়নি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গোটা গাজা উজার করে দেওয়ার পর রাফাহ-র দিকে এগোতে শুরু করেছিল ইজরায়েলি সেনা। হামাস জঙ্গিরা সেখানেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, এই ভাবনা থেকে নামতে শুরু করেছিল একের পর এক হামলা। এখনও সেখানে জড়ো হয়ে রয়েছে ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক, ড্রোন। যে কোনও সময় আরও বড় কোনও হামলার ভয়ে কাঁপছে গোটা গাজা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুলস্বীকার নাটকই! রাফাহ শহর ধ্বংস করেই থামবে ইজরায়েল?

Israel Hamas War: রবিবারের ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের পর নেতানিয়াহুর ভুলস্বীকার যে রঙ্গমঞ্চের নাটক মাত্র তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইজরায়েলি সেনার আগ্রাসন। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪-এর জুন। এই ক'মাসে গাজায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৭ হাজার। জখম পৌঁছেছে এক লক্ষের কাছাকাছি। যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। এই কয়েক মাসে নির্বিচারে গাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে গিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। স্কুল থেকে শুরু করে হাসপাতাল, ধর্মস্থান থেকে শরণার্থী শিবির, বাদ যায়নি কোনও কিছুই। এতগুলো মাস ধরে লাগাতার যুদ্ধে ভয়াবহ দুর্ভীক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গাজা জুড়ে। নিরাপত্তার অভাবে আশপাশ থেকে সাহায্য় আসাও প্রায় বন্ধ। গাজার বেশিরভাগ হাসপাতালেরই এমন অবস্থা, সেখানে ন্যূনতম চিকিৎসার পরিকাঠামোটুকুও নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘ট্র্যাজিক মিসটেক’! রাফাহতে গণহত্যার পর ভুলস্বীকার আসলে কোন কৌশল নেতানিয়াহুর?

Israel Hamas war: গাজার রাফাহ শহরকে ধ্বংস করতে কোনও কসুর বাকি রাখেনি ইজরায়েল। আর সেই সিদ্ধান্তকেই এবার 'ট্র্যাজিক মিসটেক' বলে বর্ণনা করছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

রাফাহ আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিল ইজরায়েলি সেনা। কিন্তু গোটা গাজার মধ্যে শুধু মাত্র রাফাহ শহরটাই অক্ষত থাকায়, সেটিই হয়ে উঠেছিল গোটা গাজার আশ্রয়শিবির। তাই রাফাহ খালি করার কাজ সহজ ছিল না মোটেই। তার মধ্যেই হামলা চালাতে শুরু করে দেয় ইজরায়েল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি (UNRWA) মনে করছে, এখনও অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ রাফাহতে রয়ে গিয়েছেন। যেখানে লাগাতার হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল।

সম্প্রতি কারেম আবু সালেম সীমান্তের কাছে মানবিক সাহায্যের জন্য ট্রাকের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন বাসিন্দারা। ভয়ঙ্কর দুর্ভীক্ষের মধ্যে সম্বল বলতে ওইটুকুই। সে সময় হঠাৎ করেই এসে পড়ে ইজরায়েলি বোমা। এর আগেই সাহায্য নিতে আসা নিরপরাধ মানুষের ভিড়ে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। কখনও বুক চিরে দিয়েছে গুলি, কখনও বোমা এসে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে শরীর।

ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগ ঝুলছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর আমাত্যবর্গের কাঁধে। এরই মধ্যে আবার ইজরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের সঙ্গে অশান্তি বাড়ছে হিজবুল্লাহের। প্রায়শই ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে তারা। হিজবুল্লাহ নেতা নাসরাল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের হাতে ইজরায়েল আক্রমণের গোটা পরিকল্পনা প্রস্তুত। এবং তেমনটা হলে হিজবুল্লাহের অস্ত্র থেকে ইজরায়েলের কোনও অংশ রেহাই পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। একদিকে হামাসের সঙ্গে লাগাতার যুদ্ধ, তার উপর ইরানের সঙ্গে সংঘাত, এবার হিজবুল্লাহের হুঁশিয়ারি। সব সামলাতে পারবেন তো একা হাতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নাকি এত সব চাপে গাজায় আগ্রাসন শেষমেশ কমানোর কথা ভাববেন নেতানিয়াহু? সেটাই এখন ভাবনা বিশ্বের সব কটি ছোটবড় দেশের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।