বিজেপিকে সমর্থনের দাম! দাবিদাওয়ার লম্বা ফিরিস্তি নিয়ে ফের মোদির দরজায় চন্দ্রবাবু

PM Narendra Modi-Chandrababu Naidu: অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য মোদি সরকারের কাছ থেকে সমর্থনের দাম উশুল করেই নিতে চাইছেন চন্দ্রবাবু নাইডু পুরোপুরি। ইতিমধ্যেই নাকি এই সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে।

Sohini Das
৩ মিনিট
বিজেপিকে সমর্থনের দাম! দাবিদাওয়ার লম্বা ফিরিস্তি নিয়ে ফের মোদির দরজায় চন্দ্রবাবু

লোকসভা ভোটে জিতলেও এ বছর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। যার ফলে সরকার গড়তে নরেন্দ্র মোদিকে অনেকটাই নির্ভর করতে হয়েছে এনডিএ-র শরিক দলগুলিকে। বিশেষত বিহারের নীতীশ ও অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুকে দেখা গিয়েছিল কিংমেকারের চেয়ারে। এদিকে ইন্ডিয়া জোটও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না এনডিএ-র প্রাপ্ত ভোটের থেকে। ফলে জনা চল্লিশটি সাংসদ জোগাড় করতে পারলেই বিজেপির ঘটি উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তাদের। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ শিবিরের মনোবল বাড়িয়েছেন নাইডুর। শক্ত করে ধরেছেন মোদির হাত। তার বিনিময়ে মোদির মন্ত্রিসভায় যা যা চেয়েছিলেন তারা, কার্যত তার এক তৃতীয়াংশও পূরণ হয়নি। বিশেষত চন্দ্রবাবু নাইডুর ক্ষেত্রে তো বটেই। যেসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপদ তিনি চেয়েছিলেন, সে সব কিছুই হাতছাড়া করতে চায়নি বিজেপি। এমনকী স্পিকারপদের জন্য যে দাবি জানিয়েছিলেন চন্দ্রবাবুরা, তা-ও পূরণ করেনি মোদি সরকার।

পাঁচ বছর পর অন্ধ্রপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরেছে তেলগু দেশম পার্টি। কেন্দ্রে সুবিধা না করতে পারলেও এবার মোদির থেকে পাশে থাকার দাম চান চন্দ্রবাবু নাইডু। ইতিমধ্যেই নয়া দিল্লিতে ফোন এসেছে তার। সঙ্গে এসেছে দীর্ঘ তালিকা। তাতে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের জন্য একগুচ্ছ দাবিদাওয়া। স্বল্পমেয়াদী তহবিল থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত ক্যাপেক্স সহায়তা, অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতীর জন্য বাড়তি অর্থ এবং একটি নতুন তৈল শোধনাগার। কেন্দ্রীয় বাজেটের আগেই সেই সব দাবিদাওয়া কেন্দ্রের কানে তুলে দিতে চাইছে অন্ধ্রের টিডিপি সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কারও পকেটে ৭০০ কোটি তো কারও ৩০ হাজার! মোদি-মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ধনী ও দরিদ্রতম সদস্য কারা জানেন?

Modi cabinet 3.O: একদিকে যেখানে মোদির মন্ত্রিসভায় রয়েছে চন্দ্রশেখর পেম্মাসানির মতো ধনীতম ব্যক্তি, তেমনই রয়েছে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রীও। খাতায়-কলমে যার সম্পত্তির পরিমাণ সবচেয়ে কম।

সরকার গড়তে মোদিকে সমর্থন জানানোর সময়েই রাজ্যের জন্য বিশেষ প্যাকেজের দাবি করে রেখেছিলেন দুই কিংমেকারই। চলতি বছর বিহারে বিধানসভা ভোট। ফলে সেখানকার সমীকরণ আলাদা। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য মোদি সরকারের কাছ থেকে সমর্থনের দাম উশুল করেই নিতে চাইছেন চন্দ্রবাবু নাইডু পুরোপুরি। ইতিমধ্যেই নাকি এই সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে। গত ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেন তিনি। আর সেই বৈঠক খুবই ইতিবাচক হয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে অন্ধ্র সরকারের তরফে।

২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তেলঙ্গানা। সেই বিভক্তি অন্যায্য বলেই মনে করেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। সূত্রের খবর, গত সরকারের ‘ভুল আর্থিক নীতির’ কারণে রাজকোষে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সাহায্য ছাড়া মেটানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি রাজ্যের নতুন রাজধানী অমরাবতী গড়ে তোলার জন্যও বড় মাপের অর্থসাহায্য প্রয়োজন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন নাইডু। আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে অন্ধ্রের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করার অনুরোধ করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি মন্ত্রিসভা 3.O: বিজেপির ভাগ-বাঁটোয়ারা খুশি মনে মানবেন নীতীশ-নাইডুরা?

Modi 3.0 Cabinet: এখন কথা হচ্ছে, এই সমস্ত জরুরি মন্ত্রক কি বিজেপি হাতছাড়া করবে শরিকদের মন রাখতে? ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৯৩টি জিতেছে এনডিএ।

শুধু নাইডুই নন, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা রেবন্ত রেড্ডিও নাকি শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এসে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তারাও। কেন্দ্রীয় বাজেটে বিহারের জন্যেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করার দাবি জানিয়ে রেখেছেন নীতীশও। ফলে শরিক দলের ঋণ মেটাতে রীতিমতো বিপাকে এই মুহূর্তে মোদি সরকার। সমস্যা আরও গভীরে। দুটি রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য দিলে একই দাবি নিয়ে সরব হবে বাকিরাও। এমনকী আন্দোলনের নামতে পারে সেসব রাজ্য। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের অনুমান।

সূত্রের খবর, আগামী শনিবার নাকি হায়দরাবাদে তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ, এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। চন্দ্রবাবু নাইডু এবং রেবন্ত রেড্ডির সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলবেন সেখানে নরেন্দ্র মোদি। তার আগেই শুক্রবার পুরোনো হিসেব বুঝে নিতে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে হাজির রেবন্ত। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে ভেঙে তেলঙ্গানা হওয়ার সময় নতুন রাজ্যকে যে আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র, তা এখনও মেলেনি। সেই আর্থিক প্যাকেজ চেয়েই মোদির কাছে আবেদন জানান রেড্ডি। শুধু সেটাই নয়। আরও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়নের জন্য অর্থসাহায্য চাওয়া হয়েছে মোদির কাছে।

সব মিলিয়ে শরিক দলের দাবিদাওয়া মেটাতে গিয়ে বেশ সঙ্কটেই পড়তে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। মন্ত্রিসভায় তেমন ভাবে নাইডুর প্রত্যাশাপূরণ করে উঠতে পারেনি বিজেপি। এবার রাজ্যের প্রসঙ্গেও যদি অন্ধ্রের দাবিদাওয়া এড়িয়ে যায় তারা, সেক্ষেত্রে পরবর্তী কালে শরিক দলের সমর্থন টিকিয়ে রাখতে সমস্যায় পড়তে পারে গেরুয়া শিবির। সে ক্ষেত্রে সব দিক বজায় রেখে কী সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার, সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।