বৃষ্টিভেজা ফ্রান্সে কাগজের পাতায় জীবিত হয়ে উঠছেন গোদার

Jean-Luc Godard: ফ্রান্সের সংবাদপত্রে যেভাবে ধরা রইলেন গোদার।

shreejata
৪ মিনিট
বৃষ্টিভেজা ফ্রান্সে কাগজের পাতায় জীবিত হয়ে উঠছেন গোদার

আকাশ মেঘলা। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। বেরিয়েছি খবরের কাগজের খোঁজে। খদ্দের নেই, তাই পাড়ায় সব দোকানে কাগজ বিক্রি বন্ধ। খানিক এগিয়ে যে দোকান, তার পসরার সব পৃষ্ঠায় উজ্জ্বল সাদা-কালোয় একটাই মুখ। জঁ লুক গোদার। ঝাপসা বন্দরের বুকে একলা নাবিক। ফিল্ম-ক্রিটিক এবং জঁ লুক-এর জীবনীকার অন্তোয়ান দ্য ব্যাক যাঁকে আখ্যান দিয়েছিলেন "L'homme-cinéma", The Cinema-Man."

চার-পাঁচ রকমের সংবাদপত্র কিনতে দেখে দোকানি ঈষৎ প্রশ্নবোধক চাহনি দিয়েই দেখলেন আমার পিছনের ছেলেটির হাতেও একাধিক কাগজ। আমি চোখ রাখি Liberation-এর প্রথম পাতায় চশমা চোখে, সিগারেট মুখে এক প্রৌঢ়ের পাতাজোড়া পোর্ট্রেটে। অক্টোবর ১৯৯৮-এর ছবি। শহরের দিকে সরাসরি তাকিয়ে আজ ফোর্থ ওয়াল ভাঙছেন জঁ লুক। কীভাবে তাঁকে দেখছে আজ ফ্রান্স?

ফ্রান্সের কাগজে জঁ লুক গোদারের মৃত্যুর খবর

গোদার তরী নিজেই বেয়েছেন আমৃত্যু, খুঁজেছেন দিশা, পেয়েওছেন। কেউ তাতে ক্ষণিকের অতিথিমাত্র, তবে সেই যাত্রা সাময়িক। কাজ করেছেন একা। কারও তোয়াক্কা না করেই। প্রথম দশকের ছবিগুলি দর্শক টানতে বিফল হওয়ায় জঁ লুক বলছেন,

Je représente encore le cinématographe, mais les gens me voient pas, ou plus, mes films, alors que je ne suis que le serviteur de mon œuvre- আমি আজও চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি, কিন্তু মানুষ আমার ছবি দেখে না, হয়তো এখন আর দেখে না, অথচ আমি আমার শিল্পের সেবক বই আর কিছু নই।

এই একলা যাত্রাপথের কথা Libértion-এর ১৬ পাতায় লিখছেন কাইয়ের দ্যু সিনেমা-র এককালের ক্রিটিক ও পরিচালক কামি নেভের। কামি বলছেন,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিনেমা বানাতে লাগে কেবল মহিলা এবং বন্দুক, কেন একথা বলেছিলেন জঁ লুক গোদার

Jean-Luc Goddard: কখনও আপস করেননি নিজের সিনেমা-দর্শনের সঙ্গে।

Une messie sans disciples: Pas de descendance, ni d'héritiers. Copier Godard, l'imiter ou s'en réclamer, c'est courir à l'échec. Mais s'il n'est pas un modèle, son influence, elle, est essentielle. Unique. উত্তরসূরির চোখে গোদার এক শিষ্যহীন মসিহা, যাঁর কোনও উত্তরাধিকারী জন্মায়নি। যাঁর অনুসরণ বা অনুকরণ ব্যর্থতার উদ্দেশ্যে দৌড়োনো। কিন্তু উদাহরণস্বরূপ সামনে না রাখলে সে অপরিহার্য এবং অনন্য এক প্রভাব।

পরিজনদের মতে জঁ লুক-এর এপিটাফে লেখা থাকা উচিৎ 'Au contraire', on the contrary, অপর দিকে, মুদ্রাদোষের মতো এই 'Au contraire' শব্দবন্ধ দিয়ে বক্তব্য শুরু করতেন গোদার। কীসের অপর দিক? কার বিরুদ্ধতা? আমার? আপনার? ক্রিটিক, সাংবাদিক, অনুরাগী বৃত্তর? সমাজের? অপর দিকে থাকার ইচ্ছা তাঁকে স্বেচ্ছায় অপরজন বানিয়েছে। কোনও JLG-পরম্পরা সম্ভব নয়, কারণ সেখানে সব শিক্ষার্থীই বেমানান। সিনেমার নবতরঙ্গ বা Nouvelle vague প্রসঙ্গে গোদার-এর সঙ্গে যে নাম এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত, সেই ত্রুফো প্রসঙ্গে নিজেই বলেছেন,

Ce qui nous enchaînait avec Truffaut, c'était l'écran et l'écran seul; পর্দা, এবং একমাত্র পর্দাই আমাদের, আমাকে এবং ত্রুফো-কে বেঁধেছে।

'লিবারেশন' কাগজজুড়ে আজ শুধুই গোদার

এই স্বেচ্ছা-দূরত্ব তৈরি না করলে হয়ত দৃষ্টি স্পষ্ট হয় না। পথ খোঁজা যায় না। তাঁর পরিচালনায় একপ্রকার নীতিহীন, নিস্পৃহ সব চরিত্র ও তাদের রূপায়ন পরবর্তীতে আল পাচিনো, ডি নিরো বা তারান্তিনো-ধারার অভিনয় তৈরি করেছে। তৈরি হয়েছে অভিনয়ের নতুন জঁর, যেখানে অভিনয়-ক্ষমতাকে শেখানো হচ্ছে চরিত্রর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে। ফিল্ম মেকিং-এর সঙ্গে যুক্ত প্রবাদপ্রতিমদের ওপর জঁ লুক-এর প্রভাব অজানা নয়। তারান্তিনোর কোম্পানির নাম 'Bande à part', যে ছবির আইকনিক লাইন ডান্সিং সিকোয়েন্সের ছায়া পরে আমরা দেখব 'Pulp Fiction' ছবিতে।

সকলের থেকে দূরে থেকে যাদের কাজে এবং জীবনে বিপুল সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন, তারা কতটা বুঝেছিল তাঁকে? 'Le Monde'-র ৬-এর পাতায় জাপানি পরিচালক তাকেশি কিতানো-র স্বীকারোক্তি,

Godard existe probablement en dehors de la comprehension, উপলব্ধির আগোচরেই সম্ভবত গোদার-এর অবস্থান।

মার্টিন স্করসেসি এই দূরত্বের হদিশ পেয়েছেন অস্বস্তির বিন্যাসে-

Tout était sujet à reconsidération, rien n'était sable, et le spectateur était perpétuellement sur ses gardes, সবকিছুকেই আরেকবার ফিরে দেখার উসকানি, কিছুরই স্থিরতা নেই, দর্শক চিরকালের জন্য অস্বস্তিকর সতর্কতার মধ্যে থাকবে।

এই জার্নিটাই গোদার দিয়ে গেছেন আর সকলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সেই পর্দা, পর্দা ছাড়া আর অন্য কিছুর সূত্রেই বাঁধা হয়নি।

ক্রিটিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং কথাবার্তা বরাবর বেশ চাঞ্চল্যকর, খানিক কৌতুকের। জেরার লেফো Libération-এর ১৫ পৃষ্ঠায় আজ রোমন্থন করেছেন আটের দশকে সাংবাদিকদের মধ্যে জঁ লুক সম্পর্কে মূলত একপ্রকার সম্ভ্রম কাজ করত, যার উত্তর জঁ লুক স্বভাবত কম কথায় মেটাতেন। দু'পক্ষই পরস্পরকে বশে আনতে সক্ষম হলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জঁ লুক কী বলে বসবেন তা অনুমেয় ছিল না কোনওকালেই। ঘরভর্তি লোকের সামনে জেরার-কে প্রশ্ন করেন, আমার ধারণা আপনি আমার ছবি অপছন্দ করেন! অপ্রস্তুত জেরার এই অভিযোগ অস্বীকার করায় জঁ লুক বলেন, যেসব লোক আমার ছবি ভালবাসে না, আমার আসক্তি তাদের প্রতিই। সেই একই মানুষ কান্-এর রাস্তার ছোট্ট দোকানে সাংবাদিকদের ডেকে চকোলেট এক্লেয়ার খাওয়াচ্ছেন এবং পরিশেষে ভাগ করে নিচ্ছেন চূড়ান্ত ব্যক্তিগত আবেগ। অনেক বছর আগে এই দোকানের এক্লেয়ার-এর মধ্যবর্তিতায় শুরু হয়েছিল আনা কারিনার সঙ্গে তাঁর প্রেম।

বৃষ্টি ধরে এসেছে, আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন। হঠাৎ হাওয়ায় আমার টেবিলে কেবল সংবাদপত্রের দিগভ্রান্ত ওড়াউড়ি। কেবল চলচ্চিত্র নয়, সমগ্র চিন্তামাধ্যমকে আবেগতাড়িত করে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে যে মানুষ, তাঁর নাগরিক পরিচয় ফ্রাঙ্কো-সুইস হলেও তিনি বিশ্বনাগরিক। সংযোজক-যতিচিহ্নের মতো উপস্থিতি। ছোটবেলার কথা প্রসঙ্গে বলেছেন,

Mon père, pour passer de la rive suisse à la rive française, avait un bateau qui s'appelait Le Trait d'union. Donc tout cela a dû me marquer beaucoup. Moi, je ne suis qu'un trait d'union et j'ai même un double prénom, সুইজারল্যান্ডের দিক থেকে ফ্রান্সের দিকে ঢোকার জন্য আমার বাবার একটা নৌকো ছিল যার নাম 'The Hyphen'. অতএব, এইসব ঘটনা আমাকে নিশ্চয়ই বিশেষভাবে প্রভাবিত করে থাকবে। আমি তো এক 'হাইফেন' ছাড়া আর কিছুই নই, এবং দেখুন আমার নামেও কেমন হাইফেন (Jean-Luc)।

জীবনে ছক ভেঙে নতুন পথের দিকে হাইফেন হয়ে থেকেছেন জঁ লুক গোদার, মৃত্যুতেও যার ব্যতিক্রম হয়নি। অনুকূল স্বেচ্ছামৃত্যুর মানবিক পথ বেছে নিয়েছেন। আজ ফরাসি কাগজে আরও একটি খবর বেরিয়েছে দু'পাতাজুড়ে- ন্যাশনাল এথিক‍্যাল কমিটি ফ্রান্সে অ্যাসিস্টেড ডেথ আইনসিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপ শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন, নাগরিক কনভেনশনের মাধ্যমে এই বিষয়ে কথাবার্তা শুরু হোক। দৈনিকের পাতা থেকে উজ্জ্বল চোখে সারা দেশের দিকে তাকিয়ে সাদা-কালো জঁ লুক গোদার। দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ।

লিখেছেন
shreejata
shreejata
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।