লাল রঙের বৃষ্টি ঘিরে আজও রহস্য, কুড়ি বছর আগে কী ঘটেছিল কেরলে?

বৃষ্টির এই লাল রং নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কারও পরীক্ষাই ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে পারছে না, ঠিক কী কারণে একমাত্র ওই অঞ্চলে এরকম বৃষ্টি হয়েছিল।

Ravhali Biswas
৪ মিনিট
লাল রঙের বৃষ্টি ঘিরে আজও রহস্য, কুড়ি বছর আগে কী ঘটেছিল কেরলে?

ঘটনা ১

২৫ জুলাই, ২০০১। তপ্ত গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা কেরলের কোট্টাম ও ইডুক্কি জেলার মানুষদের। অন্যান্য দিনের মতোই কাটছিল ওই দিনটাও। হঠাৎ শোনা গেল এক তীব্র, ভয়ংকর শব্দ আর তার সঙ্গে সঙ্গে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল উজ্জ্বল আলো। যে শব্দ তারা শুনতে পেয়েছিল, সেই শব্দ একমাত্র সুপারসনিক বিমান দ্বারাই তৈরি হওয়া সম্ভব। কিন্তু ভারতের বিমানবাহিনী থেকে জানানো হয়, ওইদিন কোনওরকমের বিমানের মহড়া তারা দেয়নি। তাহলে কী ছিল এই শব্দ? আর এত আলোই বা এল কীভাবে?

ঘটনা ২

ওই একই দিনে জোরালো শব্দ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আকাশ ঢাকা পড়ে যায় মেঘের চাদরে। আর ঝেঁপে আসে বৃষ্টি। কিন্তু এই বৃষ্টি আর ৫টা সাধারণ বৃষ্টির মতো ছিল না। যা দেখে শুধু কেরলের মানুষই নয়, পুরো বিশ্ব ভয়ে কেঁপেছিল। কী ছিল এই বৃষ্টি? যা চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল সকলকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুন্দরী প্রকৃতিতে মৃত্যুর অলৌকিক হাতছানি! রোহিণী কেন খুনি নদী?

রোহিণী নদীর মৃত্যুলীলা এখনও অব্যাহত। সে আজও অপেক্ষা করে থাকে শিকারের। নদীতে পা রাখলেই তাকে টেনে নেবে মৃত্যুগর্ভে। নিয়ে যাবে চিরঘুমের দেশে।

উপরোক্ত এই দু'টি ঘটনার সাথেই আমরা অল্পবিস্তর পরিচিত ছিলাম। ২০০১ সালে ঘটা এই ঘটনা আজও মানুষকে শিরশিরানির অনুভব দিতে পারে। বিজ্ঞানের সৌজন্যে আজ আমরা এমন অনেক জিনিসের ব্যাখ্যা পাই, যা হয়তো অনেকে অলৌকিক বলেই চালিয়ে দিয়েছেন। পরিবেশ আর প্রকৃতি মানুষের কাছে এক রহস্যের ভাণ্ডার। পরিবেশে হওয়া কিছু কিছু ঘটনা মানুষের চিন্তাভাবনাকে অন্য মাত্রা দেয়। আবার এমন অনেক ঘটনাও ঘটে, যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।

বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। জন্মের পর থেকে আমরা এই নিয়ম দেখে আসছি। তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। গরমের দাবদাহে যখন জনজীবন দুর্বিষহ আর প্রকৃতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সেই সময় মানুষকে স্বস্তি দিতে বৃষ্টির আগমন। বৃষ্টির স্পর্শে প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু সেই বৃষ্টি যখন মানুষের মনে ভীতি আর আশঙ্কার সৃষ্টি করে, তখন? আমরা সকলেই জানি, জল বর্ণহীন তাই বৃষ্টির জলেরও কোনও রং নেই। কিন্তু কেমন হবে যদি আকাশ থেকে নেমে আসে রক্তের মতো লাল রঙের বৃষ্টির ধারা?

কী এই লাল বৃষ্টি?

কেরলে ২০০১ সালের ২৫ জুলাই যে বৃষ্টি হয়, তা সাধারণ বৃষ্টির মতো বর্ণহীন ছিল না, বরং তার র‌ং ছিল রক্তের মতো টকটকে লাল। এই ভারী বৃষ্টি কেরলবাসীর বাড়িতে শুকোতে দেওয়া কাপড়কেও রাঙিয়ে দিয়েছিল লাল রঙে। তবে অনেকের মতে, ২০০১ সালেই এই বৃষ্টির সূত্রপাত নয়, এর আগে ১৯৮৬ সালেও এই রকম বৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়।

আমরা হলুদ বা সবুজ রঙের বৃষ্টির কথা শুনেছি। তবে সেগুলি প্রধানত পরিবেশে অ্যাসিড বা বিভিন্ন কণিকার উপস্থিতির জন্য হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু কেরলের এই বৃষ্টি লাল কেন হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষক আর বিজ্ঞানীদের ভিন্ন মত আছে। একটি মত হলো, বিজ্ঞানিরা এই লাল বৃষ্টির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষা চালালে দেখা যায় যে, এই বৃষ্টির প্রতি মিলিমিটার জলে প্রায় ৯ মিলিয়ন লাল রঙের কণিকা আছে। আরও গণনা করলে পাওয়া যায় যে, প্রতি লিটার জলে ১০০ গ্রাম কঠিন পদার্থ আছে। তাই কেরলে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছিল, তাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০,০০০ লাল কণিকা মাটিতে পড়েছিল। এই কণিকাগুলির রঙ বাদামি লাল। এদের প্রায় ৯০ শতাংশ গোলাকার আর বাকি অংশ কোনও বস্তুর ধ্বংসাবশেষ বলে মনে হয়। মূলত লাল কণিকার উপস্থিতির জন্যই বৃষ্টির রং লাল বলে ধরা হয়েছিল।

অন্য মতানুসারে, কোথা থেকে এসেছিল এই লাল রঙের কণিকা আর শুধু কেরলের এই অঞ্চলেই এই বৃষ্টি হলো কেন? লাল বৃষ্টির মতো বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকা কেরলবাসীদের মতে, যখন বৃষ্টির ধারা গাছের পাতায় পড়ে তখন পাতা ঝরে পড়ে আর পাতায় ধূসর রঙের পোড়া দাগ দেখা যায়। কয়েক কিমি অঞ্চলজুড়ে ১০-২০ মিনিটের জন্য হয়েছিল এই বৃষ্টি। সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্স স্টাডিজ-এর বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বৃষ্টির পূর্বে হওয়া তীব্র আওয়াজের কারণে এই বৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন উল্কাপিণ্ডের বিস্ফোরণ এই বৃষ্টির জন্য দায়ী। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, যদি সত্যি সত্যি উল্কাপিণ্ডের বিস্ফোরণ হয়, তাহলে শুধু কেন ওই জায়গার মধ্যেই কণাগুলো সীমাবদ্ধ থাকবে? তার তো অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ার কথা। সেখানেও তো লাল বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু তেমন তো কিছু ঘটেনি। তাই লাল বৃষ্টির পিছনে এই কারণ যুক্তিযুক্ত ছিল না। কারণ স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ারের ওপর ছড়িয়ে পড়া উল্কাখণ্ড কখনওই বারবার একই জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে নেমে আসতে পারে না।

এরপর সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্স স্টাডিজ-এর বিজ্ঞানীরা বৃষ্টির জলের নমুনা নিয়ে আরও পরীক্ষা শুরু করেন। সেই নমুনায় তারা কিছু স্পোর লক্ষ করেন। তাই তারা তদন্তের দায়িত্বভার তুলে দেয় ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর হাতে। এবং এই পর্যবেক্ষণের পর ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে ভারত সরকারের তরফ থেকে সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্স স্টাডিজ এবং ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃষ্টির লাল রঙের কারণ হিসেবে বৃষ্টিতে Trentepohlia প্রজাতির লাইকেনের অতিরিক্ত মাত্রায় উপস্থিতিকে দায়ী করা হয়। ২০১২ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী Milton Wainwright স্পোরগুলির মধ্যে ডিএনএ পর্যবেক্ষণ করেন ও ২০১৫ সালে অস্ট্রিয়া ও ভারতীয় কিছু বিজ্ঞানী স্পোরগুলিকে Trentepohlia annulata নামে শনাক্ত করেন। পরবর্তীকালে ওই এলাকায় ওই একই প্রজাতির লাইকেনের প্রাচুর্য লক্ষ করা যায়।

আজও বৃষ্টির এই লাল রং নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কারও পরীক্ষাই ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে পারছে না, ঠিক কী কারণে একমাত্র ওই অঞ্চলে এরকম বৃষ্টি হয়েছিল। নানাবিধ প্রশ্নের মুখে পড়ে কোনও তত্ত্বই সঠিক জায়গা করে নিতে পারেনি, আবার অনেক তত্ত্ব ধোপেও টেকেনি। তাই কেরলের এই লাল বৃষ্টির রহস্য আজও রহস্যই রয়ে গেছে।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।