মাতৃদুগ্ধেও প্লাস্টিক! রোজ যাচ্ছে শিশুর পেটে! ভয়াবহ তথ্য এবার সামনে

Plastic Pollution in India: বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ১৯২ টি উপকূলীয় দেশ থেকে প্লাস্টিক গিয়ে জমা হয়েছে সমুদ্রে যার পরিমাণ ৪.৮ থেকে ১২.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন!

Shibani
৪ মিনিট
মাতৃদুগ্ধেও প্লাস্টিক! রোজ যাচ্ছে শিশুর পেটে! ভয়াবহ তথ্য এবার সামনে

পাহাড় না সমুদ্র? এই পছন্দের প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন। কারও পাহাড়, কারও আবার সমুদ্র। তবে অন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীকে দেখলে মনে হয় এ যেন সমুদ্রেরই দেশ। পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রায় ৭০ শতাংশই মহাসাগর। ভারতেরই প্রায় ৭০০০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে উপকূল রেখার বিস্তার। এছাড়াও রয়েছে ১০০০ টি সমুদ্র তীরবর্তী দ্বীপ। আর এই বিশাল সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরে সব থেকে বেশি পরিমাণ প্রজাতির প্রাণীর খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। তবে, যেমনভাবে সৃষ্টির মধ্যে ধ্বংসের বীজ বপন হয় তেমনই যার মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল সেই সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমও আজ প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। এর কারণ কী?

একটি সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক নষ্ট হয় যার মধ্যে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক এসে জমা হয় সমুদ্রে। সর্বমোট যে পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার হয়, তার প্রায় ১০ থেকে ৩৫ শতাংশই একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা Single use Plastic। প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারের ফলে দূষণের ঝুঁকি অল্প কমলেও সেই হার মাত্র ৯ শতাংশ।

গবেষকদের অনুমান, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছের থেকেও বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক পাওয়া যেতে পারে। প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে না বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ছোট হয়ে গুটিয়ে যায়। যার ফলে অনেক সময় মাছেরা খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে। পরবর্তীতে সেই মাছ যখন মানুষের পেটে যায় তা উপকারের পরিবর্তে অপকার করে অধিক। এছাড়াও, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক ভারী ধাতু সমুদ্রের জলে মেশে যা মানবজীবনসহ প্রাণী বৈচিত্র্যকেও নষ্ট করে দেয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আর কিছুদিনেই পরিত্যক্ত নগরী হতে চলেছে রাজধানী দিল্লি! বিষের বাষ্পে যে ইঙ্গিত

Delhi Air Pollution: দিল্লির নিজস্ব দূষণ তো আছেই, তার সঙ্গে যোগ হয় পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশের ফসলের গোড়া পোড়ানো ধোঁয়া।

২০১৫ সালে ‘জ্যামবেক এট আল’ সমুদ্রে প্লাস্টিকের প্রবেশ এবং দূষণ নিয়ে একটি সমীক্ষা করে। সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, বেশির ভাগ প্লাস্টিক স্থানীয় এলাকা থেকেই সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ১৯২ টি উপকূলীয় দেশ থেকে প্লাস্টিক গিয়ে জমা হয়েছে সমুদ্রে যার পরিমাণ ৪.৮ থেকে ১২.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন! আসলে কোন দেশ থেকে কতটা পরিমাণ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক এসে সমুদ্র জমা হয়েছে তা বোঝা যায় মূলত সেই দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে। অনুমান করা হচ্ছে, সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে এই প্লাস্টিক দূষণ যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্রে দূষণের মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে।

তিন দশক ধরে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত সংস্থা ‘আর্থ সিস্টেম সায়েন্স অর্গানাইজেশন’ বর্তমানে যেটি ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান রিসার্চ’ নামে পরিচিত, তারা একটি সমীক্ষায় দেখায় যে ভারতবর্ষে সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের প্রায় ৮% শতাংশ শুধুমাত্র ৩ টি শহরকে কেন্দ্র করে। যার মধ্যে রয়েছে আমাদের সাধের তিলোত্তমাও! কলকাতা, দিল্লি, আহমেদাবাদ এই দূষণকে বাড়াচ্ছে চরমে। দেশে প্লাস্টিক নির্মাণের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৯.৮ শতাংশ এবং বর্তমানে শুধুমাত্র ভারতবর্ষেই প্রায় ৯.৪৬ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক নষ্ট হয় প্রতিবছর। পাঁচ বছর আগে যার পরিমাণ ছিল ৫.৭ মিলিয়ন টন।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্লাস্টিকজাত সামগ্রীর কারণে বর্তমানে প্রায় ২৬৭ প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত। সামুদ্রিক কাছিমের অন্তত ৮৬%, সামুদ্রিক পাখির ৪৪% এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর অন্তত ৪৩% প্লাস্টিক দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোভিডের টিকাতেই ছিল মৃত্যুফাঁদ! বিস্ফোরক যে তথ্য আসছে প্রকাশ‍্যে

Covid Vaccine: টিকাকরণের প্রভাবে কী কী বিরূপ প্রতিক্রিয়া শরীরে দেখা যাচ্ছে?

বাজারে খাদ্য লবণের প্রায় বেশির ভাগই আসে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় জমি থেকে। আর এই সকল এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে লবণের সঙ্গে মিশে গেছে। বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, সামুদ্রিক লবণে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বাংলাদেশে সবথেকে বেশি। যার ফলে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বহু মানুষ।

কী এই পলিথিন বা প্লাস্টিক?

প্রধানত পলিথিন বা প্লাস্টিকের মূল উপাদান হলো ইথিলিন যা সাধারণত কোল গ্যাসে ৫ শতাংশের মতো থাকে। এছাড়া পেট্রোলিয়াম থেকে যে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপন্ন হয় সেখানেও কিছুটা পরিমাণ থাকে। ইথিলিনকে পলিমারাইজ় করেই সাদা রঙের কঠিন পদার্থ অর্থাৎ পলিথিন তৈরি করা হয়। এই উপাদান থেকেই তৈরি হয় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন চেয়ার, টেবিল, জলের বোতল ইত্যাদি। তবে প্লাস্টিক যেহেতু সহজে নষ্ট হয় না তাই যতদিন না পর্যন্ত এটি রিসাইক্লিং করা হয় ততদিন তা পরিবেশের মধ্যেই থেকে যায়। এছাড়াও ক্লোরিনযুক্ত প্লাস্টিকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা নদী বা সমুদ্রের জলের সঙ্গে মিশে ভয়ঙ্কর জল দূষণ ঘটায়।

এবছর ২৮ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক জানিয়েছে, “ভারত একবার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিকের জিনিসগুলি তৈরি, আমদানি, মজুদ, বিতরণ, বিক্রয় এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। চলতি বছর ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ভারত সরকারের উদ্যোগে ৭৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা সংলগ্ন ৭৫টি সমুদ্র সৈকত ৭৫ দিন ধরে পরিষ্কার করার কাজ চালানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক উপকূলীয় পরিচ্ছন্নতা দিবস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ডে’ হিসেবেও পালন করা হয়। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র উপকূল থেকে ১৫০০ টন আবর্জনা পরিষ্কার করা যা সামুদ্রিক জীব এবং স্থানীয় মানুষকে সুষ্ঠু জীবন প্রদান করতে সক্ষম হবে।

২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রথম প্লাস্টিক প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর একে একে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড, ২০২০ সালে চিন এই প্রক্রিয়া শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ৮০ টিরও বেশি দেশ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

প্লাস্টিক ব্যবহার এবং এর দূষণের ফলে একটি বড় অংশের প্রাণী গোষ্ঠী যে ধীরে ধীরে বিলুপ্তর পথে যাচ্ছে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কখনও মরা তিমির পেট থেকে ১০০ কেজি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে আবার কখনও বা কচ্ছপের পেট থেকে ১০৪ টি প্লাস্টিকের টুকরো পাওয়া গেছে। বাদ পড়েনি মাতৃদুগ্ধও! এমতাবস্থায় সমুদ্র তথা পরিবেশকে সজীব রাখার মূল কারিগর যে মানুষকেই হতে হবে তা নিয়ে দ্বিমত নেই।

লিখেছেন
Shibani
Shibani
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।