এবার লিভ-ইন রেজিস্ট্রি না করলেই শাস্তি! কী বলা আছে বিজেপি সরকারের প্রস্তাবিত আইনে?

Live In Relation Registry : লিভ-ইন সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মধ্যেই স্বীকৃত। এই আইনে সমকামী দম্পতিদের জন্য কোনও ঠাঁই নেই।

inscript
৩ মিনিট
এবার লিভ-ইন রেজিস্ট্রি না করলেই শাস্তি! কী বলা আছে বিজেপি সরকারের প্রস্তাবিত আইনে?

বিয়ে নয়, স্বাধীন সম্পর্কে থাকতে ইচ্ছুক? আইনের ঘেরাটোপে নয়, দু'জন দু'জনের সম্মতিতে একসঙ্গে ভালোবেসে জীবন কাটানোই লক্ষ্য? সে গুড়ে বালি পড়তে চলেছে সম্ভবত। বিয়ে না করে থাকতেই পারেন। লিভ-ইন সম্পর্ককে রাষ্ট্র দুরছাই করছে এমনও না। কিন্তু যা করার, বিয়ে হোক, লিভ-ইন হোক করতে হবে সরকারের নিয়ম মেনেই। অন্তত উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা হলে সম্ভবত অচিরেই লিভ-ইন সম্পর্কও আসতে চলেছে আইনের অধীনে। ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বেশ কিছুকাল ধরেই কথাবার্তা হয়েছে। সেই বিধির মধ্যেই রয়েছে লিভ-ইন সম্পর্কের নানা বিধি ও শাস্তির কথা।

ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন উত্তরাখণ্ড সরকার মঙ্গলবার বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) আকারে একটি নতুন আইনের প্রস্তাব করেছে। এই বিল অনুসারে, উত্তরাখণ্ডে যারা এখন লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন তাঁদের জেলা আধিকারিকদের কাছে নিজেদের সম্পর্কের রেজিস্ট্রি করাতে হবে। না করালে রাজ্যের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিলটি আইন হয়ে গেলে কারাদণ্ড পেতে হবে তাঁদের।

উত্তরাখণ্ডের লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মানুষদের জন্য ঠিক কী কী উল্লেখ করা রয়েছে ওই বিলে?

কারা লিভ-ইন রিলেশনশিপে থাকতে পারেন?

বিষমকামী বা হেটেরোসেক্সুয়াল সম্পর্ক হতে হবে: অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে নির্দিষ্ট করে বলা আছে যে লিভ-ইন সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মধ্যেই স্বীকৃত। এই আইনে সমকামী দম্পতিদের জন্য কোনও ঠাঁই নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লিভ-ইন করলেও রেজিস্ট্রি করতে হবে এবার? অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে যা করতে চাইছে বিজেপি

Uniform Civil Code : উত্তরাখণ্ডের জন্য প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে সকলকেই দত্তক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, মুসলিম মহিলাদেরও।

নির্দিষ্ট বয়স: লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রি করাতে হলে পুরুষ এবং মহিলা, দু'জনকেই কমপক্ষে ২১ বছর বয়সের হতে হবে। যদি কারও বয়স, বা দু'জনেরই বয়স ২১-এর নীচে হয়, তাহলে বাবা-মা বা অভিভাবকদের তাঁদের সন্তানের লিভ-ইন সম্পর্কের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

কীভাবে লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রি করা হবে?

লিভ-ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রি করানোর বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে:

বিবৃতি জমা দিতে হবে: লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা দুইজনকেই স্থানীয় রেজিস্ট্রারের কাছে তাদের লিভ-ইন সম্পর্ক ঘোষণা করে একটি বিবৃতি জমা দিতে হবে। এই বিবৃতিটিই তাদের একসঙ্গে থাকার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসাবে কাজ করবে।

রেজিস্ট্রারের তদন্ত: রেজিস্ট্রার তারপর এই দু'জনের লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়ে একটি তদন্ত পরিচালনা করবেন। এই তদন্তে দুইজনকেই তলব করা হবে এবং তাদের সম্পর্কের সত্যতা যাচাই করার জন্য অতিরিক্ত তথ্য চাওয়াও হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহিলাদের জন্য কতটা নিরাপদ সারভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকা? আতঙ্ক বাড়াবে ভ্যাকসিনের এই রহস্য

Cervical cancer Vaccination : এই ভ্যাক্সিনের ট্রায়ালের পরীক্ষায় মারা যান সাতজন কিশোরী। যার মধ্যে পাঁচ কিশোরী অন্ধ্রের এবং বাকি দুইজন গুজরাতের।

ফলাফল: তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে, নিবন্ধক ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন বা অস্বীকার করতে পারেন। অস্বীকার করা হলে, প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে দেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রি না হলে কী হবে?

নোটিশ জারি: কর্তৃপক্ষ লিভ-ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রি করেননি এমন প্রেমিক-প্রেমিকাকে একটি নোটিশ জারি করতে পারে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কতা। কর্তৃপক্ষ নিজে থেকেই বা কোনও অভিযোগ পেলে এই নোটিশ জারি করতে পারে।

শাস্তি: নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেও যদি এই রেজিস্ট্রি না করেন তাদের জরিমানা বা কারাদণ্ড সহ জরিমানা হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য শাস্তির তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। নিয়ম না মানলে জেলের মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং ২৫,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে।

লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে বেরোতে চাইলে

লিভ-ইন সম্পর্ক শেষ করার জন্য নিজের সঙ্গী এবং রেজিস্ট্রারকে নোটিশ দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে আনুষ্ঠানিকভাবে এবং কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি মেনেই সম্পর্ক শেষ হচ্ছে। দুই পক্ষই সম্পর্ক ছিন্ন করার নোটিশ দিতে পারে।

মহিলা ও শিশুদের অধিকার

মহিলাদের জন্য খোরপোষ: একজন মহিলাকে যদি প্রেমিক ছেড়ে চলে যান, লিভ-ইন সম্পর্ক ভেঙে তাহলে ওই মহিলা খোরপোষ পাওয়ার অধিকারী যাতে সম্পর্ক পরবর্তী জীবনে তিনি নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য আর্থিক সাহায্য পান।

শিশুদের বৈধতা: লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া শিশুরা বৈধ বলেই বিবেচিত হবে, তাদের আইনি স্বীকৃতি এবং অধিকার থাকবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।