ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই আস্থা! কেন মমতাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দেন মহিলারা?

Laxmir Bhandar WB State Budget 2024 : অদ্ভুতভাবে দেখা গিয়েছে মমতাকে পছন্দ করেন আদিবাসী, উচ্চবর্ণ ও মুসলিম মহিলারা। অথচ তাঁদের স্বামীরাই হয়তো ভোট দিচ্ছেন বিজেপিকে।

inscript
৩ মিনিট
ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই আস্থা! কেন মমতাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দেন মহিলারা?

বাংলার মানুষ বাংলায় নিজের মেয়েকেই চায়। এই ন্যারেটিভের প্রচার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করে দিয়েছেন অনেকদিন ধরেই। বাংলার এই মেয়ে বাংলার মহিলাদের ভোটও চান। মহিলাদের কল্যাণে তৈরি রাজ্যের একাধিক প্রকল্প তারই প্রমাণ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, মাসে মাসে ৫০০ টাকা মমতার মহিলা ভোট টানার যে সফল অস্ত্র তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। রাজ্য বাজেটে, ভোটের বাজারে এবার সেই ৫০০ টাকাকে একধাপে বাড়িয়ে করা হলো ১০০০ টাকা। রাজ্যের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে ২ কোটি ১১ লক্ষ মহিলা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে তৃণমূল সরকার। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করে জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তপশিলি জাতি এবং জনজাতির শ্রেণির জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক টাকা এবার ১০০০, আর জনজাতির মহিলারা ১০০০ টাকার জায়গায় পাবেন ১২০০ টাকা।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ফেব্রুয়ারি মাসেই চালু হয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এই প্রকল্পে রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা রাজ্য সরকারের কাছে থেকে আর্থিক সহায়তা পান। রাজ্যে বসবাসকারী যে কোনও পরিবারের মহিলা সদস্য এই সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারখানিই এগিয়ে দিলেন মোক্ষম চাল হিসেবে। এই প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার। মে মাস থেকে থেকে এই ১০০০ টাকা করে পেতে শুরু করবেন মহিলারা। রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। এখানেই শেষ না ৬০ বছর বয়স হয়ে গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন যে মহিলারা তারা সরাসরিই বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক মাসের ব্যবধানে দু'বার ডিএ! ভোট-বাজারে নিশানায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মন?

West Bengal Budget 2024-25: ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনও করে আসছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। ২০২৪ সালের ভোটপূর্ব বাজেটে সেই ক্ষততেই সামান্য মলম লাগানোর চেষ্টা করল তৃণমূল সরকার।

বরাবরই সব রাজ্যেই মহিলাদের মন পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেন রাজনৈতিক নেতারা। তৃণমূলও করে এবং তা একেবারে নিজস্ব সংগঠনের মুখ হিসেবে মহিলাদের সামনে নিয়ে আসা থেকেই শুরু হয়। বিভিন্ন জেলায় জেলা সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বে আনা হয়েছে মহিলাদের। আর মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প তো রয়েইছে। মধ্য প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেও তুরুপের তাস ছিল 'লাডলি বহেনা' প্রকল্প'। অন্তর্বর্তী বাজেটে নির্মলা সীতারমণও এবার লাখপতি দিদি প্রকল্পের কথা বারবার তুলে ধরেছেন। রাজ্যে মহিলাদের মন পেতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তাই এবারের ভোটে ব্যবহার করতেই হতো মুখ্যমন্ত্রীকে। বাংলার ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই মহিলা৷ পুরুষ ভোটার প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ, মহিলা ভোটার প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লক্ষ৷ ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই মহিলাদের ৮১.৭ শতাংশই ভোট দিয়েছেন৷ সুতরাং মাসে মাসে ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এই ভোট নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করতেই হতো তৃণমূলকে৷

অদ্ভুতভাবে দেখা গিয়েছে মমতাকে পছন্দ করেন আদিবাসী, উচ্চবর্ণ ও মুসলিম মহিলারা। অথচ তাঁদের স্বামীরাই হয়তো ভোট দিচ্ছেন বিজেপিকে। একটি সমীক্ষা বলছে, আদিবাসীদের মধ্যে, পুরুষ এবং মহিলাদের ভোটের পছন্দের ফারাক প্রবল। আদিবাসী পুরুষদের ১৮% বিজেপিকে পছন্দ করছে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে বেছে নিচ্ছে আদিবাসী মহিলাদের ১১ শতাংশ। দলিতদের মধ্যে আবার পুরুষদের মধ্যে বিজেপি ২৪ শতাংশ এগিয়ে ছিল কিন্তু দলিত মহিলাদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটের আগেই রাজ্যে রাজ্যে কল্পতরু মোদি! 'বঞ্চনা'-র ভাগ্য বদলাবে বাংলার?

PM-JANMAN Scheme: দেশের প্রান্তিক এবং বিপন্ন জনজাতি (পার্টিকুলারলি ভারনারেবল ট্রাইবাল গ্রুপস)-র কাছে সমস্ত ধরনের সুবিধা পৌঁছে দিতে বিপুল বরাদ্দের একাধিক কর্মসূচী নিল কেন্দ্র। যার নাম দেওয়া হয়েছ 'প্রধানমন্ত্রী জনমন' প্রকল্প।

মুসলিম মহিলারাও মমতার ভোটার। মুসলিমরা লিঙ্গ নির্বিশেষেই তৃণমূলকে বেশি পছন্দ করে। তাই বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর মধ্যে আদিবাসী, উচ্চবর্ণ এবং কিছুটা দলিত শ্রেণির মধ্যে মহিলাদের ভোট বড় ফ্যাক্টর।

গত কয়েক বছর ধরে কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতৃত্বে কোনও মহিলা নেই। রাজনীতিতে সরাসরি নেতৃত্বে মহিলাদের অংশগ্রহণ এখনও কম। সম্ভবত মমতার বিপক্ষে লড়াকু নেত্রী হিসেবে তাই মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নাম তুলে আনার চেষ্টা করছে বামেরাও। মোদি সরকার তিন তালাককে 'অপরাধ' করে দিয়ে মুসলিম মহিলাদের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টার দাবি করলেও বিজেপি এখনও মহিলাদের মধ্যে, বিশেষ করে বাংলার মহিলাদের মধ্যে একেবারেই জনপ্রিয় নয়।।

পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য স্থানীয় সংস্থায় ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করে মমতা কিন্তু মহিলাদরদি হিসেবে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করেছেন। তৃণমূল থেকে ২০১৯ সালে লোকসভায় অনেক সংখ্যক মহিলা সাংসদ গিয়েছেন, প্রত্যেকে নিজের মতোই সোচ্চার। তৃণমূলের ভোটারদের প্রায় ৪৮.৫% মহিলা এবং এই মহিলাদের জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প, রূপশ্রী প্রকল্প, সবুজ সাথী প্রকল্প ঢেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই এবারও লোকসভা নির্বাচনে মমতার ভাগ্য ফেরাতে পারেন মহিলারাই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।