কুলবিন্দর আঘাত করলে শাস্তি, আর কঙ্গনার বিদ্বেষের বিচার করবে কে?

Kangana Ranaut Slapped: চড় মারার ঘটনা কি এই প্রথম? কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কি কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল না?

Tanvia Barua
৩ মিনিট
কুলবিন্দর আঘাত করলে শাস্তি, আর কঙ্গনার বিদ্বেষের বিচার করবে কে?

চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে কঙ্গনাকে চড় মেরে গ্রেফতার হন নিরাপত্তারক্ষী কুলবিন্দর কউর। এই ঘটনার পরে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি চলছিল নেটদুনিয়ায়। কারও বক্তব্য, একজন নিরপত্তারক্ষীর সর্বপ্রথম দায়িত্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা। অন্যদিকে, একাংশের মানুষ আবার নিরপত্তারক্ষীকেই বাহবা দিয়েছেন। কুলবিন্দর যুক্তি দিয়েছিলেন, কৃষক আন্দোলনে যোগদানকারী মহিলাদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রী বলেছিলেন '১০০ টাকার' বিনিময়ে বসে রয়েছেন মহিলারা। সেই আন্দোলনে তাঁর মা-ও শামিল ছিলেন। অভিনেত্রীকে দেখেই নিরাপত্তারক্ষীর মাথা গরম হয়ে যায় এবং চড় মারেন কুলবিন্দর। পূর্বেও একাধিকবার কঙ্গনা কৃষকদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় কঙ্গনা আবার পঞ্জাবের বাসিন্দাদের 'সন্ত্রাসবাদী' ও 'উগ্রবাদী' বলে ফেলেছিলেন। ঘটনাটি ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত কুলবিন্দরকে সাসপেন্ড করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, চড় মারার ঘটনা কি এই প্রথম? কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কি কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল না?

ঘটনাটিতে জড়িত কুলবিন্দর একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষক আন্দোলন সমর্থন করতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর অভিনেত্রী কঙ্গনা যে মন্তব্য করেছেন পঞ্জাববাসীদের নিয়ে, তাতে কৃষকদেরই আবার 'সন্ত্রাসবাদী' ও 'উগ্রবাদী' বলে আখ্যা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও কঙ্গনা একাধিকবার কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে আগেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি, এই ভিডিও বার্তার পরও হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, কৃষকদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের পরও কি কিছুই করার ছিল না সরকারের? প্রশ্ন উঠছে, কৃষকদের অপমান করার পরও সরকারের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তা করা হয়নি বলেই কি একজন নিরাপত্তারক্ষী শৃঙ্খলা ভেঙে এই ঘটনা ঘটালেন? তাহলে, সেই মতো দু'পক্ষই শাস্তিযোগ্য। অর্থাৎ, কুলবিন্দর কৌর শাস্তি পেলে, কঙ্গনা রানউতের করা মন্তব্যের জন্যও অভিনেত্রীর শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটে জিতেও মিলল না ছাড়! মহিলা জওয়ানের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা

Kangana Ranaut: দিনের আলোয় সকলের সামনে অপদস্থ হতে হল অভিনেত্রীকে। চন্ডীগড় বিমানবন্দরে সিআইএসএফের এক মহিলা কনস্টেবলের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা।

অন্যদিকে, এর আগেও চড় খেয়েছেন রাজনীতিবিদরা কিন্তু তখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করেনি সরকার। তালিকায় রয়েছেন এবারের উত্তর-পূর্ব দিল্লির লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী কানহাইয়া কুমার। ভোটের প্রচার চলাকালীন এক ব্যক্তি মালা পরাতে গিয়ে চড় মেরেছিলেন কানহাইয়াকে। তাঁর দিকে কালিও ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই তালিকায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও নাম রয়েছে। ২০১৯ সালে ভোটের প্রচারে বেরিয়ে চড় খেয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এই দু'জনকে চড় মারা অভিযুক্তদের নিয়ে কিন্তু কুলবিন্দরের মতো শাস্তির কথা ভাবাই হয়নি। ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলছে, কানহাইয়া, কেজরিওয়ালরা বিরোধী বলেই কি কোনও পদক্ষেপ করল না কেন্দ্র? তবে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে কঙ্গনাকে চড় মারার ঘটনার নিন্দে করেছেন। মজার বিষয় হলো, একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে শাবানা আজমির স্বামী তথা বর্ষীয়ান সুরকার জাভেদ আখতারকে অভিনেত্রী কঙ্গনা 'আপত্তিকর' বলে চিহ্নিত করেছিলেন। তারপর কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন জাভেদ আখতার। কঙ্গনাও পাল্টা মামলা করেন।মামলা এখনও কোর্টে ঝুলে রয়েছে। একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, শাবানা আজমির সঙ্গে কঙ্গনার মধুর সম্পর্ক নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরোধীর প্রতি অন্যায় হলেও যে আওয়াজ তোলা যায় তাঁর উদাহরণ শাবানা আজমি।

আবার, ২০২২ সালে যখন অস্কারের মঞ্চে উইল স্মিথ সঞ্চালক ক্রিস রককে চড় কষিয়ে ছিলেন, সেই ঘটনাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন কঙ্গনা। সেই সময় ইনস্টাগ্রামে স্টোরিতে তিনি লিখেছিলেন, 'কেউ যদি আমার মা বা বোনেদের অসুস্থতা নিয়ে মজা করেন, তাহলে উইল স্মিথের মতো আমি চড় মারব।' একদা অভিনেত্রী নিজেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে চড়-কে সমর্থন জানিয়েছিলেন। নেটদুনিয়ায় চর্চা হচ্ছে, কঙ্গনার ওই স্টোরি কুলবিন্দর দেখেননি তো? তাঁদের দাবি, হতেই পারে ওই স্টোরি থেকেই কুলবিন্দর শিখেছেন মা বোনদের নিয়ে মজা করলে চড়ই মারতে হয়। অনেকে বলছেন, গুরুর শেখানো নীতিতেই, শিষ্য গুরুকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছে, এতে অন্যায় কি?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কঙ্গনাকে যোগ্য জবাব! যে যে প্রশ্ন তুলে দিল কুলবিন্দরের সপাট চড়

Kangana Ranaut: আসলে কঙ্গনা রানাউত যে চড়টা খেলেন, সেটা আসলে একদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ওই চড়।

উল্লেখ্য, কঙ্গনার বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের তালিকা দীর্ঘ। জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের প্রধান রেখা শর্মা এই নিয়ে কিছুই বলেননি। একদা কঙ্গনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে তৎকালীন টুইটার প্রধান জ্যাক ডরিস কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন। অভিযোগ ছিল, টুইটারে কঙ্গনা বারবার বিদ্বেষমূলক এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। একবার সোনাম কাপুরকে 'মাফিয়া বিম্বো'(বোধবুদ্ধি ও গুণাগুণবিহীন মাফিয়া) বলেছিলেন। ঊর্মিলা মাতণ্ডকরকে 'পর্ন তারকা ' হিসেবে অভিহিত করেন। দীপিকা পাডুকোন 'মানসিক বিষণ্ণতা'য় রয়েছেন বলেছিলেন, এরপর তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপাত্মক মন্তব্যও করেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ার পর অভিনেত্রী ট্যুইট করেন, ২০০০-এর গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী যে কৌশলে বিরোধী প্রতিপক্ষকে 'শায়েস্তা' করেছিলেন, এবারেও তিনি যেন ঠিক সেই পন্থাই অবলম্বন করেন। কঙ্গনা বলিউড তারকা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সুশান্তের মৃত্যুর জন্য বলিউডের প্রভাশালী ব্যক্তিদের দায়ী করেন কঙ্গনা। পরে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে টার্গেট করেন। শেষের টুইটগুলিতে পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদেরও জড়িয়ে ফেলেন। পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে, কঙ্গনার বিচার হবে কোথায়? বিচার করবে কারা? না কি তিনি এই স্বেচ্ছাচার চালিয়েই যাবেন?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?