বুড়ো বয়সেও দাঁত গজাবে এক ওষুধেই! যে অসাধ্যসাধন করলেন বিজ্ঞানীরা
Regrowing Teeth: এই ট্রায়ালে এমন সুস্থ ব্যক্তিরাই থাকবেন যাদের প্রত্যেকের অন্তত একটি করে দাঁত অনুপস্থিত।

শিশু বয়সে দাঁত পড়া আর নতুন দাঁত গজানো যত আনন্দের, বৃদ্ধ বয়সে তা ততটাই অকল্পনীয়। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দাঁত নতুন করে গজানো সম্ভব না। তবে ২০৩০ নাগাদ, সব ঠিক থাকলে দাঁত গজানোর ওষুধটিও চলে আসবে বাজারে। ক্লিনিকাল ট্রায়ালে নিশ্চিত প্রমাণ পেলেই এই অসাধ্য সাধন হতে চলেছে এবার। এই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, ৩০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে এই দাঁত গজানোর ওষুধের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষার অংশ হিসাবে শিরায় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। এই প্রথম মানুষের উপর এই ধরনের ওষুধ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রাণীদের উপর একদফা পরীক্ষা হয়েছে। সেই সময় দেখা গেছে এই ওষুধ প্রয়োগের ফলে পড়ে যাওয়া দাঁত আবার গজিয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। একটি ডোজই দাঁত আবার গজানোর জন্য যথেষ্ট। প্রাণীদের উপর এই ওষুধ প্রয়োগ করেছিলেন যে গবেষকরা, তাঁদের মতে, ইঁদুররা এই ওষুধটি সহ্য করতে পেরেছে এবং কোনও প্রতিকূল প্রভাব পড়েনি। এর পরেই আরও পরীক্ষার জন্য মানুষের দেহে তা প্রয়োগের কথা ভাবা হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Wisdom Teeth : এখন প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষেরই অন্তত একটি আক্কেল দাঁত সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত, অর্থাৎ সেটি কখনও তৈরিই হয়নি।
ওষুধটিতে USAG-1 নামক একটি জিনের জন্য একটি অ্যান্টিবডি রয়েছে। এই জিনটি BMP নামক একটি গ্রোথ ফ্যাক্টরের সঙ্গে জুড়ে হয়ে দাঁতের বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। ট্রায়ালের প্রথম ধাপটি জাপানের কিয়োটো হাসপাতালে ১১ মাস ধরে চলবে। এই ট্রায়ালে এমন সুস্থ ব্যক্তিরাই থাকবেন যাদের প্রত্যেকের অন্তত একটি করে দাঁত অনুপস্থিত।
যদি পরীক্ষাটি সফল হয়, তাহলে জন্মগতভাবে দাঁতের ঘাটতিতে ভুগছে এমন শিশুদের জন্য ওষুধটির ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দুই থেকে সাত বছর বয়সি শিশুররা যাদের জন্মের পর থেকে কমপক্ষে চারটি দাঁত গজায়নি, তাঁদের দেহে এটি প্রয়োগ করা হবে।
প্রধান গবেষক কাতসু তাকাহাশি জানাচ্ছেন, "যারা দাঁতের ক্ষয় বা দাঁত পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের সাহায্য করার জন্য আমরা কিছু করতে চাই। যদিও স্থায়ী নিরাময়ের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও চিকিৎসা নেই, তবে আমরা মনে করি দাঁতের বৃদ্ধির সম্ভবনা বেশ বেশি।"
যদি মানুষের দেহে এই ওষুধের পরীক্ষা সফল হয়, তাহলে গবেষকরা বলছেন যে ওষুধটি ছয় বছরের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। জন্মগত দাঁতের সমস্যা সহ আঘাত বা ক্ষয়জনিত কারণে দাঁত পড়ে যাওয়া রোগীদের দাঁত আবার গজানো শুধুই সময়ের অপেক্ষা এখন।






