প্রথম আয়োডাইজ লবণ! অন্ধকার থেকে দরিদ্র ভারতকে সেদিন তুলে এনেছিলেন রতন টাটা

Tata Salt: আয়োডিনের অভাব এ দেশে একসময় ছিল রীতিমতো দুশ্চিন্তার বিষয়। তেমনই এক দুশ্চিন্তার দিনে এগিয়ে এসেছিলেন এ দেশেরই এক শিল্পপতি। তাঁর সংস্থার তৈরি নুন মিটিয়েছিল এ দেশের আয়োডিনের ঘাটতি।

Sohini Das
৫ মিনিট
প্রথম আয়োডাইজ লবণ! অন্ধকার থেকে দরিদ্র ভারতকে সেদিন তুলে এনেছিলেন রতন টাটা

নুন, পৃথিবীর প্রতিটি কুইজিন, প্রতিটি রান্নাঘরের এক মৌলিক উপাদান বললে খুব একটা ভুল হয় না। নুন ছাড়া সব খাবারই বিস্বাদ। ম্যাজিকাল এই যৌগটির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। ভারতের ঘরে ঘরে, প্রতিটি রান্নাঘরের কৌটোয় যে সাদা যৌগটি থাকে, তাতে কিন্তু সোডিয়াম এবং ক্লোরিনের চেয়েও আরও একটু বেশি কিছু থাকে। কী সেই বেশি উপাদান? অবশ্যই আয়োডিন। যে আয়োডিনের অভাব এ দেশে একসময় ছিল রীতিমতো দুশ্চিন্তার বিষয়। তেমনই এক দুশ্চিন্তার দিনে এগিয়ে এসেছিলেন এ দেশেরই এক শিল্পপতি। তাঁর সংস্থার তৈরি নুন মিটিয়েছিল এ দেশের আয়োডিনের ঘাটতি। এখনও ভারতীয় রান্নাঘরের অন্যতম জরুরি উপাদান হয়ে রয়ে গিয়েছে টাটা সল্ট।

মজার ব্যাপার, এই যে এত জরুরি উপাদান আয়োডিন, সেই ব্যাপারটি কিন্তু মানুষের শরীরে নিজে থেকে তৈরি হতে পারে না। ফলে খাদ্যবস্তু থেকেই মানুষকে তা সংগ্রহ করতে হয়। কী কী কাজ করে এই আয়োডিন? বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে এই উপাদানটি। বাড়ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও ভীষণ জরুরি এই উপাদান। মানবশরীরের থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে যেসব হরমোন ক্ষরিত হওয়ার কথা, সেগুলি তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় এই আয়োডিন। সেই হরমোনগুলির ক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেলে মানবশরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে।

আর কী কী হতে পারে আয়োডিনের অভাবে? বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শরীর প্রচন্ড দুর্বল লাগা, মুখ ফুলে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা, মাংশপেশি নড়াচড়ায় কষ্ট, মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব, থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগন্ড রোগ— এ সমস্ত কিছুই হতে পারে আয়োডিনের অভাবে। এমনকী অতিরিক্ত আয়োডিনের ঘাটতি হলে মহিলারা বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ১৫০ মাইক্রোগ্রাম করে আয়োডিনের প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন যে সব মহিলারা, তাঁদের প্রতিদিন ২০০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিনের প্রয়োজন বলে মনে করা হয়। সামুদ্রিক বা পাহাড় এলাকায় যাঁরা থাকেন, প্রকৃতিগত কারণে বহু সময়েই তাঁদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আকাশপথে 'বিপ্লব'? ভারতকে যে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রতন টাটা

Air India with Vistara: এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে ভারতবাসীর সম্পর্ক অত্যন্ত পুরনো। এবার সেই সংস্থার হাত ধরেই নতুন দিগন্তের স্বপ্ন দেখছে দেশের আকাশপথ...

আয়োডিনের অভাবজনীত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এখন সহজ উপায় নুন খাওয়া। চিকিৎসকেরাও বহু ক্ষেত্রেই তেমন পরামর্শই দিয়ে থাকেন। রান্নাঘরের এই কমদামী অথচ স্বাদে-গুণে বহুমূল্য যৌগটি ভারতে সহজলভ্য। কিন্তু সব সময়েই যে এ দেশের লবণ এতটা আয়োডিন সমৃদ্ধ ছিল, তেমনটা কিন্তু নয়। ১৯৮৩ সালের আগে ভারতে আয়োডিনযুক্ত লবণের রমরমা ছিল না। যদিও চিন ও আমেরিকার পর লবণ উৎপাদনে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। গোটা পৃথিবী জুড়ে লবণের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৩০ মিলিয়ন টন। তবে বরাবর তেমনটা ছিল না। জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীনতা অর্জন করে, তখন দেশীয় চাহিদা মেটাতে নাকি সুদূর ব্রিটেন ও অ্যাডেন্স থেকে লবণ আমদানি করতে হয়েছিল। তবে দিনে দিনে লবণ উৎপাদনে উঠে আসে ভারত। ১৯৪৭ সালে ভারতে যে পরিমাণ লবণ উৎপন্ন হত, ২০১১-১২ সালের রেকর্ড বলছে, ততদিনে তা অন্তত দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বলাই বাহুল্য, সমুদ্রের জল লবণের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। গুজরাটের উপকূল এলাকা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের কন্টাইকে লবণ উৎপাদনের মূল কেন্দ্র হিসেবে গন্য করা হয়। এছাড়া রাজস্থান ও হিমাচল প্রদেশের বিক্ষিপ্ত জায়গাতেও লবণের আমানত রয়েছে। তবে সেসব জায়গায় লবণের প্রকারগুলি আলাদা। সাধারণ ভাবে সমুদ্রের নোনা জলকে ফুটিয়ে বাষ্পীভূত করে লবণ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া লবণাক্ত কূপ অথবা লবণাক্ত হ্রদের জল থেকেও লবণ আহরণ করা হয়ে থাকে। নোনা জলের পাশাপাশি পাথুরে খনি থেকেও লবণ আহরণ করা হয়। ২০০২ সালে বিশ্বে মোট ২১০ মিলিয়ন টন লবণ উৎপাদন করা হয়েছিল।

ভারতের প্রথম ব্র্যান্ডেড সল্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল টাটা সল্ট। শুধু ব্র্যান্ড হিসেবেই নয়, আয়োডাইজ নুনকে ভারতীয়দের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যেও অবদান ছিল রতন টাটা নামে এই বিখ্য়াত শিল্পপতির। শুধু ব্যবসা নয়, কীভাবে দেশবাসীর আয়োডিনের ঘাটতি মেটাতে মুখ্য ভূমিকা নিতে পারে তাঁর সংস্থার লবণ, সেদিকে শ্যেন দৃষ্টি ছিল মানুষটির। টাটা সল্টের আগেও ১৯৪২ সাল থেকে লবণ প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে সক্রিয় ছিল SKSCNADARAJAN & BROR। যারা মূলত ব্যবসা শুরু করেছিল ভারতের দক্ষিণাঞ্চল থেকেই। তুতিনকোরিন থেকে নুন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লবণ পরিবহন করত তারা। তবে বাজারের বড় নাম হিসেবে তেমন করে উঠে আসতে পারেনি সংস্থাটি কোনওদিনই, যেভাবে বাজার ধরতে পেরেছিল টাটা। পরবর্তী কালে অবশ্য অন্নপূর্ণা, আশীর্বাদ, ক্যাপ্টেন কুকের মতো একাধিক সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। তবে তারা টাটার কাছে নেহাতই শিশু। এখনও পর্যন্ত টাটা সল্ট ভারতের বৃহত্তম প্যাকেজড লবণের ব্র্যান্ড, যার বাজার শেয়ার প্রায় ১৭ শতাংশ।

১৯২৭ সালে গুজরাটের ওখাতে লবণ উৎপাদনের যাত্রা শুরু করেছিল টাটা গ্রুপ। সহজ ছিল না পথচলা। নানা কাঠখড় পুড়িয়ে ১৯৮৩ সাল নাগাদ, সংস্থাটি বাজারে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিক্রি শুরু করে। সেসময় দেশবাসীর মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি ছিল অন্যতম একটি উদ্বেগের বিষয়। ১৯৬২ সাল নাগাদ ভারত লরকার জাতীয় গলগন্ড নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লাগে। যা এখন ন্যাশনাল আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি ডিসঅর্ডার কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (NIDDCP) হিসেবে পরিচিত। ১৯৮২ সাল নাগাদ সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, ১৯৯২ সালের মধ্যে ভারতের সমস্ত ভোজ্য লবণকে আয়োডেট করতে হবে। উনিশটি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আয়োডিনবিহীন লবণ বিক্রি নিষিদ্ধও করা হয়। তবে ততদিনে বাজারে এসে গিয়েছে টাটা সল্ট, যা ভারতের প্রথম আয়োডাইজ লবণ হিসেবে পৌঁছে যায় দেশের প্রতিটি মানুষের রান্নাঘরে। ২০১৯ সালের জুন মাসের হিসেব বলছে, তখনও পর্যন্ত ৯০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি টাটা সল্ট বিক্রি হয়েছে ভারতীয় বাজারে। যা খুচরো বিক্রেতা ও দোকানদারদের মাধ্যমে প্রতি মাসে সারা দেশের অন্তত ১৬১ মিলিয়ন পরিবারের কাছে পৌঁছেছে। ক্রমশ বিশুদ্ধ লবণ হিসেবে নিজেকে উন্নিত করেছে টাটা সল্ট। যা কিনা জলে সম্পূর্ণ রূপে দ্রবীভূত হয়ে যায়।

এদেশে বহু শিল্পপতি এসেছেন, জমিয়ে বেসাতিও করেছেন। কিন্তু রতন টাটা যেন ছিলেন তাঁদের সকলের চেয়ে আলাদা। তাঁর আদর্শ, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিটাই ছিল বাকি সকলের থেকে আলাদা। শুধু নুন নয়, তাঁর ব্যবসার পরিধি ছিল বিরাট, বিপুল। লবণ থেকে লোহা, ইস্পাত, গাড়ি, পোশাক থেকে গহনা, ইলেকট্রনিক্স গ্য়াজেট থেকে সফ্টওয়্যার, প্রায় সর্বত্র অবাধ বিচরণ টাটা গ্রুপের। তবে তার মধ্যেই জনকল্যাণের যে নিরন্তর চেষ্টা মানুষটি দেখিয়ে গিয়েছেন তাঁর কর্মক্ষেত্রে, তা কার্যত তুলনাহীন। ১৯৮৩ সালে আয়োডাইজ লবণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল টাটার হাত ধরে, এতটা পথ পেরিয়েও কিন্তু সেই নুনকে মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করেনি সংস্থাটি। প্যাকেজিং থেকে দাম, কোনও জায়গাতেই যাতে টাটা সল্ট ব্যবহার করতে মানুষের কোনও রকম অসুবিধা না হয়, সে দিকে খেয়াল রেখেছে সংস্থাটি। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন রতন টাটা। ১৮৬৮ সালে জামশেদজি নুসেরওয়ানজি টাটা-র হাত ধরে যে সংস্থার পথচলা শুরু হয়েছিল, তাঁকে বৃক্ষে পরিণত করেছিলেন নিজের হাতে রতন টাটা। আর সেই বৃক্ষ সর্বদা সচেষ্ট থেকেছে, যাতে ব্যবসার পাশাপাশি দেশের মানুষকে ছায়া দেওয়া যায়। ঠিক যেমন করে একদিন টাটা লবণের হাত ধরে পাল্টে গিয়েছিল আমজনতার রান্নাঘরের রূপকথা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।