মহৎ সাজতে কোনও নির্বিষ লেখা লিখতে হয়নি কুন্দেরাকে

Milan Kundera: জোকসের ইংরাজি অনুবাদ তাঁর অপছন্দ আর ফরাসি অনুবাদের ভূমিকা লিখেছেন অদ্বিতীয় মার্ক্সবাদী কবি লুই আরাগঁ

Sanjay Mukherjee
৫ মিনিট
মহৎ সাজতে কোনও নির্বিষ লেখা লিখতে হয়নি কুন্দেরাকে

আজ এই শ্রাবণের রাতে মিলান কুন্দেরার প্রয়াণ সংবাদে আমার কেবলই মনে পড়ে সুবিনয় মুস্তফী-র কথা। একসঙ্গে বেড়াল ও বেড়ালের-মুখে-ধরা ইঁদুর হাসাতে এমন আশ্চর্য শক্তি ছিল এই দুই ভুয়দর্শী যুবার! বস্তুত, ইওরোপ, বৈকুণ্ঠ ও নরকের থেকে কত দূরে আছে এটা বোঝানোর জন্য আমাদের মধ্যে আর কোনও ইওরোপিয় স্রষ্টাই রইলেন না। প্রথমে চলে গেলেন প্রায় সমবয়সি জাঁ লুক গোদার আর তারপরেই সওয়া বছরের বড় মিলান কুন্দেরা। গোদার মধ্য ষাটে তাঁর অবিস্মরণীয় ছবি পিয়েরো ল্যো ফু-তে জানিয়েছিলেন, ‘আমার ইজেরের তলায়... স্ক্যান্ডাল... তারুণ্যের রেখা। একদা ছিল গ্রিক সভ্যতা, ছিল রেনেসাঁ, এখন আমদের সভ্যতা প্রবেশ করছে পায়ুপথে।' এই ছবির মাত্র কয়েক বছর পরেই বসন্তের উত্থান প্রাগে ও প্যারিসে। কুন্দেরা দুনিয়ায় পরিচিত হলেন 'দ্য জোকস’-এর লেখক হিসেবে। আর আশ্চর্য, এই লেখাটিকে আমরা অনেকেই রাজনৈতিক ইস্তেহার হিসেবে পড়তে চেয়েছিলাম। স্তালিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি ঘোষণা যেন। কিন্তু সমস্ত মহৎ সৃষ্টিই যেমন হয়, গোদার বলেছিলেন সমস্ত টেক্সটই শেষ পর্যন্ত প্রণয় পত্র, কুন্দেরাও এক টেলিভিশন আলোচনাকে বিলম্বিত করেছিলেন এই বলে যে, জোকস শেষ পর্যন্ত প্রেমের গল্প। "স্পেয়ার মি ইওর স্ট্যালিনিজম, প্লিজ। দ্য জোকস ইজ আ লাভ স্টোরি।" আমাদের যৌবনে মিলান কুন্দেরা আমাদের ভাসিয়েছিলেন তেতো কফির উল্লাসে, বোকা বোকা নীতিকথা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে আমরা খুঁজে ফিরছিলাম পাতালের চিরকুট। আর সবচেয়ে বড় কথা যে, বাংলা উপন্যাস তো কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল; কপালকুণ্ডলা, চতুরঙ্গ, পুতুল নাচের ইতিকথা ও ইছামতী। তাই আমাদের ভালো লেগেছিল যখন কুন্দেরা দাবি করলেন, মাদাম বোভারি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই উপন্যাস উন্নীত হয়ে গেছে কবিতার স্তরে আর প্রকৃত উপন্যাসিক তাঁর শব্দে ততটাই চুম্বন রাখেন যতটা একজন কবি রাখেন তাঁর প্রতিটা শব্দে।

কুন্দেরাকে আমরা কেন আমাদের আত্মার আত্মীয় ভেবেছিলাম? তিনি বড় লেখক কি মাঝারি, এসব আমাদের মাথায় ছিল না। আমরা জানতাম, জোকসের ইংরাজি অনুবাদ তাঁর অপছন্দ আর ফরাসি অনুবাদের ভূমিকা লিখেছেন অদ্বিতীয় মার্ক্সবাদী কবি লুই আরাগঁ- যাঁর মতে শতাব্দীর অন্যতম মহৎ উপন্যাস এই গ্রন্থ। তবু আমরা দেখলাম কুন্দেরা পোষ মানছেন না। তিনি গৃহপালিত জন্তু নন। সেই জন্যই বোধহয় চেক সভ্যতা থেকে নোবেল কমিটির সবচেয়ে বড় কলঙ্ক উন্মোচিত হচ্ছে- না ফ্রানৎস কাফকা না মিলান কুন্দেরা নোবেল পেলেন। এই নির্বুদ্ধিতা লুকিয়ে ফেলতে সাহেবদেরও অনেক সময় লাগবে। তাঁর দ্য 'বুক অফ লাফটার অ্যান্ড ফরগেটিং’-এর পাতা উল্টোচ্ছিলাম। সেখানে দেখি, তিনি দেবদূত শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ লিখেছেন আর সেখানেই কুন্দেরার অন্তর্ঘাত আবিষ্কার করি। ইউজিন ইউনেস্কোর 'গণ্ডার' পড়া হচ্ছে নিয়মানুগত্যের মধ্যে এবং সেই নিয়ম একটি কমিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। যে মুহূর্তে পড়ুয়া বালিকাটি আবিষ্কার করে এই কৌতুক সঙ্গে সঙ্গে ইওরোপ জুড়ে গণ্ডারের অট্টহাসি শোনা যায়। এরপর কুন্দেরা আমাদের কোনও বিস্ময়ের অবকাশ না রেখে পঞ্চম পরিচ্ছেদে একটা নাচের কথা বলেন যা তিনি স্বয়ং নেচেছিলেন ১৯৪৮ সালে যখন নাৎসিদের হাত থেকে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা কেড়ে নেয় এবং তিনি পার্টি সদস্য। তারপর একদিন বুঝলেন, দার্শনিকও হিম হয়, প্রণয়ের সম্রাজ্ঞীরাও মলিন হয়ে আসে। যা বলার ছিল তা না বলা হলেই ভালো হতো। "দেন ওয়ান ডে আই সেইড সামথিং আই উড বেটার লেফট আনসেইড।" এই অকথিত শব্দমালাই তিনি সারাজীবন সাংকেতিক ভাষায় প্রকাশ করে গেছেন।ভাগ্যিস পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার জন্য তাঁকে কোনও নির্বিষ লেখা লিখতে হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'রসিকতা' ও উত্তরাধিকার: এক ছিন্নমূলের 'শো-অফ'

Milan Kundera: দেশ ও মাতৃভাষা দুই-ই যখন বদলে যায়, তখন শিকড় বলতে কী পড়ে থাকে? স্মৃতি? তাই কি স্মৃতি নিয়ে এত সংবেদনশীল কুন্দেরা?

মিলান কুন্দেরা সেই অর্থে রাজনৈতিক লেখক নন বরং তিনি দর্শনের অনুবর্তী। এই নাচ তিনি ১৯৫০ সালেও দেখেছিলেন যখন একজন সুররিয়ালিস্ট লেখক কালান্দ্রাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো দেশদ্রোহীতার অপরাধে। আর্ত কুন্দেরা তখন ফরাসি সাম্যবাদী দলের প্রতিনিধি আন্দ্রে ব্রেতোঁ ও পল এলুয়ারকে অনুরোধ করেছিলেন প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু কী মর্মান্তিক হাহাকারে কুন্দেরা লিখলেন, এলুয়ার বড় ব্যস্ত ছিলেন প্যারিস, মস্কো, প্রাগ এথেন্সে নাচের স্টেপগুলো দেখতে। এবং এই জুন মাসেই কুন্দেরা দেখলেন এলুয়ার তাঁর ভাবাবেগময় কবিতা পড়ে চলেছেন প্রাগেই একটি তরুণীর কাঁধে হাত রেখে আর জানাচ্ছেন, যদি কোনও মানুষ শান্তির দ্বারা অধিকৃত হয় তাঁর মুখ থেকে হাসি মুছে যাবে না। কুন্দেরা চাপা বিদ্রূপে চলে গেলেন, হায় হাসি, হায় দেবদারু, কী করে বুঝব কোনটা হাসি কোনটা শান্তি, এই যে লেখা তা একান্তভাবেই ইওরোপিয়। এই স্বপ্ন ও বাস্তবের অন্তর্বতী প্রতিবেদনকে আমি গার্সিয়া মার্কেজ, গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে তুলনা করব না। অক্ষরের প্রতিরোধ বলতে যে বিস্মরণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা কুন্দেরা বলেন তা আসলে ইওরোপের মূল প্রাণসত্ত্বার সন্ধান। ইওরোপ অন্তত আধুনিকতার অর্থে বুঝেছিল, জ্ঞানের অধিকার তার মৌলিক অধিকার। আর কুন্দেরা তরুণ বয়সে উপলব্ধি করছিলেন যে বিজ্ঞান, বিশেষত প্রায়োগিক বিজ্ঞান এসে ইওরোপ মহাদেশকে এমনভাবে প্লাবিত করেছে যে তার প্রধান সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে, হাইডেগারের ভাষায় 'দ্য ফরগেটিং অব বিয়িং'। কুন্দেরা মনে করেছিলেন যে, উপন্যাস এক বিকল্প পন্থা নেবে ইতিহাস লেখার জন্য। যে জন্য তিনি থেরভান্তেস, বালজাক, তলস্তয়, টমাস মানকে খেয়াল করছিলেন। নজর রাখছিলেন তাঁরই স্বদেশবাসী ফ্রানৎস কাফকার দিকেও। এবং ক্রমশই তাঁর এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হচ্ছিল যে, দেকার্তে যদি বুদ্ধিমান জগতের প্রবক্তা হন তাহলে দোলাচল এবং দ্বিধাগ্রস্ততার অন্য মেরু ডন কুইকজোটের লেখক থেরভান্তেস। আর উপন্যাসকে কোনও নৈতিক অবস্থান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না, তা একধরনের অসমাপ্ত তদন্ত কার্য। তিনি চাইছিলেন এমন এক সীমান্তবর্তী পথ যা জোসেফ কে-কে নিষ্পাপ শহিদ মনে করে না আবার আদালতকেও স্বর্গীয় বিচারালয় মনে করে না। 'আইদার-অর' তত্ত্বটি তিনি সমূহ পরিত্যাগ করেছিলেন।

কুন্দেরা জানতেন, লেখা লেখককে অতিক্রম করে যায়। ধার্মিকরা যেভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করে, কমলকুমার মজুমদার যেমন বলেন, 'লেখাও একরূপ তাহাকে ডাকা'- মিলান কুন্দেরা ঠিক তাই মনে করতেন। ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত চেকোস্লোভাকিয়ায় তাই তাঁর পক্ষে সহজ ছিল জর্জ অরওয়েলের মতো কোনও ১৯৮৪ লেখা। অথচ কুন্দেরা মনে করলেন, এই উপন্যাস একটি প্রচার পুস্তিকা হতে পারে কারণ তার উৎস এবং সমাপ্তি আগে থেকেই অরওয়েলের জানা। অন্যদিকে, বড় লেখকরা তাই আবিষ্কার করেন যা উপন্যাসই আবিষ্কার করতে পারে। যেমন দস্তয়ভস্কি ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট উপন্যাসে থ্রিলার টপকে চলে গেলেন পাপ ও পুণ্যের পরপারে। আমরা কাকে রোমাঞ্চকর অভিযান বলব যদি কাফকার নায়ক জোসেফ কে-র সমস্ত আচরণই এক ধরনের স্বপ্নে ঘটে থাকে? আসলে মিলান এক ধরনের প্র্যাকসিসের সন্ধান করছিলেন, ফ্লোবেয়ার যা উদযাপন করেন তা জেমস জয়েসের ইউলিসিসে উন্মোচিত হয়। আর সেই বহুস্রোত ও বহুস্বর সমন্বিত সঙ্গীতকেই মিলান কুন্দেরা পেতে চেয়েছিলেন তাঁর রচনার পর রচনায়। তিনি নেহাত সমালোচক নন, সভ্যতার সংকটও তাঁর উপজীব্য নয়। তিনি জানতেন ইওরোপের আত্মা রুগ্ন হয়ে পড়েছে। তাঁর কর্তব্য হচ্ছে এই মহাদেশের অন্ত্যেষ্টিতে পা মেলানো। দূর ভারতবর্ষ থেকে আমি মিলান কুন্দেরাকে শ্রদ্ধা জানাই, তার কারণ তিনি ঈশপের নীতিমালা প্রণয়ন করেননি, বার্তাজীবী সমাজে নোয়ার নৌকাবৎ ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেননি, বরং অনেকদিন বাদে তাঁর লেখায় আমরা আবিষ্কার করেছিলাম হত্যা ঝলমলে ফাঁসির কাঠ। লেখকের অন্তিম কাজ তো সত্যকে দেখা। যমালয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সবার থাকে না। নচিকেতা ও মিলান কুন্দেরার থাকে।

বিদায় কুন্দেরা।

লিখেছেন
Sanjay Mukherjee
Sanjay Mukherjee
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।