আরবিআই গভর্নরকে 'সাপ' সম্বোধন! কেন এ কাজ করেছিলেন মোদী?

Modi to RBI Governor: আরবিআইয়ের মতো সংস্থার শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে দেশপ্রধানের এ ধরনের শব্দপ্রয়োগ কতটা সাংবিধানিক তা নিয়ে প্রশ্ন তো ওঠে বটেই।

Sohini Das
৩ মিনিট
আরবিআই গভর্নরকে 'সাপ' সম্বোধন! কেন এ কাজ করেছিলেন মোদী?

জনসভা থেকে লোকসভা, কটূ, আপত্তিজনক ভাষা ব্যবহার এখন জলভাত। কিছুদিন আগেই লোকসভার ভিতরে এক মুসলিম বিধায়কের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে বসেন এক বিজেপি সাংসদ। সে নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল রাজনীতির ময়দান। তবে কথায় বলে, যেমন গুরু তেমনই তাঁর চ্যালা। সে কথা যে একবর্ণ মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একবার নাকি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর উরজিৎ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক মন্তব্য করে বসেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।

এ কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ। 'উই অলসো মেক পলিসি' নামে একটি বই লিখেছেন সুভাষ। সেই বইতেই এমন তথ্যের উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আরবিআইয়ের ২৪তম গভর্নর উরজিৎ প্যাটেলকে কী এমন বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সুভাষের বই অনুযায়ী, মোদি নাকি একবার উরজিৎ সম্মন্ধে বলেছিলেন, তিনি নাকি এমন একটি সাপ যে টাকার সিন্দুকের উপর বসে রয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)-এর ২৪তম গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দেন উরজিৎ। ব্যক্তিগত কারণেই ইস্তফা বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে শোনা যায়, সরকারের সঙ্গে নীতিগত বিবাদের কারণেই তাঁর এই ইস্তফা। কারণ তিন বছরের মেয়াদের মাঝখানে এই ভাবে গভর্নরের ইস্তফা খুবই বিরল ঘটনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নোংরা ভাষাতেই 'দক্ষ'! বারেবারে অশ্লীল আক্রমণ বিরোধীদের! কে এই রমেশ বিধুরি?

Ramesh Bidhuri : রমেশ বিধুরি ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত।

মোদি সরকারের সঙ্গে বারবার নানা বিষয়ে মতান্তর হয়েছে উরজিতের। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি অথোরিটি অর্থাৎ নিয়ামক সংস্থা বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মতো ততটা জোরদার নয় কেন, এই মর্মে প্রশ্ন তুলেছিলেন আরবিআইয়ের তৎকালীন গভর্নর। সেই নিয়ে মোদি সরকারের সঙ্গে সংঘাতের শুরু উরজিতের। দ্বিতীয় পর্যায়ের সংঘাত বাধে মোদি সরকারের নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের বিরোধিতা করায়। এই নির্বাচনী বন্ড দেওয়ার ক্ষমতা আরবিআইয়ের হাতেই রাখার দাবি করেছিলেন উরজিৎ। স্বাভাবিক ভাবেই এই মতান্তরকে ভালো চোখে দেখেনি মোদি সরকার।

২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ রেপো রেট বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন আরবিআই গভর্নর। যার ফলে রেপো রেট দাঁড়ায় ৬.২৫ শতাংশে। সেসময় হঠাৎ করেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার। মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা টের পেয়ে রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরবিআই গভর্নর। যার জেরে চাপে পড়ে সরকার। প্রায় লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত ক্যাপিটল ব্যাঙ্কে জমা রাখতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিজের দলের সাংসদকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ, তবু কেন চুপ মায়াবতী?

Ramesh Bidhuri vs Danish Ali : গোলওয়ালকর বলেন, "থ্রি বিগেস্ট ইন্টারনাল এনিমিস অফ হিন্দুস আর মুসলিমস, ক্রিশ্চানস অ্যান্ড কমিউনিস্টস"। এই ভদ্রলোক মোদিজির গুরু।

সেসময় অর্থদফতরের দায়িত্ব ছিল অরুণ জেটলির কাঁধে। ক্রমশ উরজিতের সঙ্গে অর্থনীতি নিয়ে মতান্তর চড়া হচ্ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপি সরকার সেসময় উরজিতের উপর দারুণ রেগে। সেসময় বলতে ২০১৮ সালের কথা। সে বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সভায় নরেন্দ্র মোদি নাকি উরজিৎকে সাপের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই তথ্যেরই উল্লেখ রয়েছে সুভাষ গর্গের লেখা ওই বইতে।

জানা যায়, সে সময় অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু সমাধানসূত্র তথা পরামর্শও নাকি বাতলেছিলেন তৎকালীন আরবিআই গভর্নর উরজিৎ। তবে সেসব পরামর্শ শোনা তো দূরের, তাতে কানও দেয়নি জেটলি সরকার। উল্টে সেই সব পরামর্শকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেয় কেন্দ্র সরকার। ক্রমে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে আরবিআইয়ের। কথাবার্তা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় আরবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান সচিব পি কে মিশ্রকেই সেই কাজটি করতে হত।

শেষপর্যন্ত বিরক্ত হয়ে নাকি উরজিতের পরামর্শগুলি শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোদি। আরবিআইয়ের তরফে দেখানো সেঅ প্রেজেন্টেশন মন দিয়ে দেখেছিলেন মোদি। তবে সেসব দেখে কার্যত রেগে যান তিনিও। তাঁর কাছেও একই রকম ভাবে অপ্রাসঙ্গিক ছিল উরজিতের সমস্ত পরামর্শ। লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স তুলে নেওয়া নিয়ে গভর্নরের ভূমিকার নিন্দাও করেছিলেন তিনি। সে সময়েই রাগের বশে একটি সভায় উরজিতের বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলে বসেন মোদি। আরবিআইয়ের মতো সংস্থার শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের শব্দপ্রয়োগ, তা-ও আবার দেশপ্রধানের- ব্যাপারটা কতটা সাংবিধানিক তা নিয়ে প্রশ্ন তো ওঠে বটেই। তবে রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষমতাবানের, সংখ্যাগরিষ্ঠের এই কুকথা বলার ধারাবাহিকতা যে সেই থেকে চলেই আসছে, তা বোধহয় ফের প্রমাণ করে দিল ২০১৮ সালের এই ঘটনা। যার পুরোটাই ধরা রয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থসচিবের বইতে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।