রহস্যময় স্বপ্নাদেশ পেয়েই হলেন চিকিৎসক থেকে আদ্যাপীঠের সন্ন্যাসী! কে এই অন্নদা ঠাকুর?

Adyapith Annada Thakur: আদ্যা বা আদ্যাশক্তির আরাধনায় জড়িয়ে রয়েছে অন্নদা ঠাকুরের নাম। যাঁকে ঘিরে রয়েছে রহস্যের ভিড়ও। 

Ramen Das
৪ মিনিট
রহস্যময় স্বপ্নাদেশ পেয়েই হলেন চিকিৎসক থেকে আদ্যাপীঠের সন্ন্যাসী! কে এই অন্নদা ঠাকুর?

আদ্যাপীঠ। দক্ষিণেশ্বরের রানি রাসমণির স্মৃতিবিজড়িত ভবতারিণীর পরেই এই দেবীকে নিয়েও রয়েছে একাধিক কথকতার ভিড়। লীলা, রামকৃষ্ণ পরমংসদেবের কাহিনি জড়িয়ে থাকার মধ্যেই এখনও আদ্যার জাগ্রত-শরণে উপস্থিত হন ভক্তরা। আর যাঁর জন্য এই দেবীর প্রতিষ্ঠা হয় উত্তর ২৪ পরগনার আদ্যাপীঠে, আজ তাঁর আবির্ভাব দিবস। দেবীর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ঘিরেও রয়েছে নানা কথা।

আদ্যা শব্দের অর্থ কী?

আদ্যা; আদিভূতা, আদিতে জন্ম হয়েছে এমন। শক্তির দেবী। লোকবিশ্বাস, মহামায়াই জগৎ সৃষ্টির আদি কারণ। পরমেশ্বরীও বলা হয় তাঁকে। দশমহাবিদ্যার পৌরাণিক অনুষঙ্গে আদ্যার কথা অনেকক্ষেত্রে না বলা হলেও আদ্যাও কালীর এক রূপ। যাঁকেও শিবের ঘরণী হিসেবেই অভিহিত করা হয়। শক্তির দেবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা এই রূপের। মূলত, ‘কালী’ শব্দটি ‘কাল’ শব্দের স্ত্রী-লিঙ্গ। কাল যুক্ত ই। মহাভারতের ‘ভদ্রকালী’ পার্বতীর রূপ। আবার পুরাণে দুর্গার একাধিক রূপ এবং অনুষঙ্গে কালীর কথা পাওয়া যায়। ‘তোড়লতন্ত্র’ অনুসারে কালীর ন’টি রূপ রয়েছে। দশমহাবিদ্যার প্রথম কালীর রূপ নিয়েও রয়েছে একাধিক রটনা। সেখানেই শ্মশান কালী থেকে শুরু করে গুহ্যকালী, বিভিন্নরূপে পূজিতা হন তিনি। আবার ভবতারিণী থেকে করুণাময়ী, অপেক্ষাকৃত শান্তস্নিগ্ধ রূপেও প্রতিষ্ঠা পান দেবী। এইরকম এক ক্ষেত্রই হল আদ্যা।

আদ্যার মূর্তি বিশেষত্ব

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুরুষকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটা! নবদ্বীপে যেভাবে তৈরি হয়েছিল প্রথম কালীমূর্তি

Kali Puja 2022: কীভাবে উৎপত্তি হয়েছিল কালীমূর্তির?

আদ্যার মূর্তির অবস্থানে রয়েছে বিশেষত্ব। মন্দিরের ওঙ্কারের মধ্যে রয়েছে আদ্যার মূর্তি। মূর্তির মাথার উপরে রাখা হয় রাধাকৃষ্ণের ছবি বা মূর্তি। পায়ের কাছে থাকেন রামকৃষ্ণদেব। আর এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার মূর্তি বা ছবিও থাকে কাছেই। কিন্তু রাধাকৃষ্ণ এবং রামকৃষ্ণের প্রাধান্য বেশি এখানে। বেদিতে লেখা থাকে জ্ঞান, কর্ম এবং রামকৃষ্ণের মূর্তির নিচে লেখা থাকে গুরু। আদ্যার গায়ের বর্ণ কালো হলেও তাঁর সাজে থাকে অভিনবত্ব। নবদ্বীপের আগম্বেশ্বরী দেবীর মুকুটের মতো তাঁর মুকুট। যেখানে বিভেদ নেই শাক্ত এবং বৈষ্ণবের। এখানে দেবী আড়ম্বরহীন। এবার আসা যাক অন্নদা ঠাকুরের রহস্য। মর্ত্যে আদ্যা বা আদ্যাশক্তির আরাধনায় জড়িয়ে রয়েছে অন্নদা ঠাকুরের নাম। যাঁকে ঘিরে রয়েছে রহস্যের ভিড়ও।

কে তিনি?

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অন্নদা ঠাকুর (Annada Thakur)। অন্নদা ঠাকুর আসলে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা। সেখানেই জন্ম তাঁর। আসল নাম অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য। মা তিলোত্তমা দেবী। বাবা অভয়চরণ ভট্টাচার্য। অভয় ও তিলোত্তমার মোট তিন সন্তান। যাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান অন্নদাচরণ। বরাবর মেধাবী অভয়চরণ পড়াশুনার জন্য কলকাতায় আসেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। অবশেষে কবিরাজি নিয়ে পড়তে শুরু করেন অন্নদা। ১৩২১ সাল (বাংলার) নাগাদ কবিরাজি পাশও করেন তিনি। তাঁর বাস ছিল, কলকাতার আর্মহাস্ট স্ট্রিটে এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকেই বৃত্তি নিয়ে কবিরাজি পাশ করেন। বন্ধুর পরিবার, বিশেষত বন্ধুর বাবার সহযোগিতায় একটি কবিরাজি ওষুধের দোকান খোলেন ভাড়ায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নেপথ্যে অদ্ভুত এক প্রেমকাহিনি! বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীর ইতিহাস আজও রহস্যে ভরা

Kalipuja 2022: একদিন চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন। খবর কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান। বিদ্যা-সুন্দরের প্রেমের খবর পেয়ে ফাঁদ পাতেন রাজা।

অন্নদা ঠাকুর

অন্নদাচরণের আদ্যাপীঠ

জানা যায়, কলকাতায় থাকতে থাকতেই একবার নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে যান অন্নদাচরণ। কিন্তু তার আগে থেকেই অন্নদাকে ভাবাচ্ছিল এক সন্ন্যাসীর স্বপ্ন। তিনি নিজের বাড়িতে ফিরেও সেই একই স্বপ্ন দেখতে থাকেন। বারবার একই সন্ন্যাসীর স্বপ্নাদেশ পান তিনি। আর দেরি করেননি, ফের ফিরে আসেন কলকাতায়। ওঠেন সেই আর্মহাস্ট স্ট্রিটের বন্ধুর বাড়িতে। ফের একই স্বপ্ন দেখেন। আবারও অভয়চরণের স্বপ্নে আসেন সেই সন্ন্যাসী। এরপর ঘটে আরও চমৎকার! এবার অন্নদা ঠাকুর স্বপ্নাদেশ পেলেন শ্রীরামকৃষ্ণের। সেই স্বপ্নাদেশ ছিল খানিক এইরকম; শ্রীরামকৃষ্ণ অন্নদা ঠাকুরকে বলেন ইডেন গার্ডেনসে যেতে। এক ঝিলের পাশে নারকেল আর পাকুড় গাছের কাছ থেকে একটি কালীমূর্তি নিয়ে আসতে বলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। স্বপ্নাদেশ মেনেই অভয়চরণ ঝিলের পাশ থেকে উদ্ধার করেন ওই কালীমূর্তি। সেটিই ছিল আদ্যামূর্তি। পরে জানা যায়, ওই দেবী অর্থাৎ আদ্যার স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীর তিথিতে সেই আদ্যামূর্তিটি বিসর্জন দেন অন্নদা ঠাকুর। গঙ্গায় বিসর্জনের আগে নাকি সেই মূর্তির ছবি তুলিয়ে রাখেন। সেই ছবি দিয়েই তৈরি হয়েছে আজকের আদ্যা। পরে অন্নদার দীক্ষা নিয়েও রয়েছে রহস্য। বলা হয় সেটিও নাকি স্বপ্নেই পান তিনি। সেই স্বপ্নদীক্ষা দেন শ্রীরামকৃষ্ণ!

অন্নদা-উবাচ

দক্ষিণেশ্বরের কাছের এই আদ্যাপীঠের সমস্ত উপাচার পালন হয় অন্নদা ঠাকুরের দিয়ে যাওয়া নির্দেশ অনুয়ায়ীই। কথিত আছে অন্নদা ঠাকুর বলেন, মন্দিরের আয় যা হবে, সেই টাকায় বালকদের জন্য তৈরি হবে ব্রহ্মচর্যাশ্রম। আর শুধু বালক নয়, বালিকাদের জন্যও তৈরি হবে আর্য নারী সংক্রান্ত শিক্ষাদানের জন্য প্রতিষ্ঠান। সংসার ত্যাগ করেছেন যাঁরা সেই সন্ন্যসী বা সন্ন্যাসীসমদের জন্য তৈরি করা হবে বাণপ্রস্থ আশ্রম। একদা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হতে চাওয়া অন্নদা সংক্রামক রোগ নিবারণের চেষ্টা করলেন ফের। হাসপাতাল তৈরির ইচ্ছাও ছিল তাঁর। কিন্তু মাত্র ৩৮ হছর বয়সে পুরীতে প্রয়াত হতেই সেই ভাবনা পূরণ হয়নি আর। তবে সেই ইচ্ছা থেকেই চালু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার ব্যবস্থা। রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স। যার গায়ে অন্য অ্যাম্বুল্যান্সের মতো লেখা নেই 'সংক্রামক ব্যাধির জন্য নহে।'

আদ্যা-ভোগের বিশেষত্ব

আদ্যাপীঠের ভোগ রান্নায় রয়েছে আলাদা আলাদা নিয়ম। এই মন্দিরে আদ্যার পাশাপাশিই রোজ ভোগ রান্না হয় শ্রীরামকৃষ্ণের জন্য, রাধাকৃষ্ণের জন্যও। আদ্যার ভোগের জন্য সাড়ে বাইশ সের চাল নেওয়া হয় নিয়মিত। আর রাধাকৃষ্ণের জন্য থাকে সাড়ে বত্রিশ সের চালের ভোগ রান্নার ব্যবস্থা। রামকৃষ্ণদেবের ভোগ হয় সাড়ে বারো সের চালে। পঞ্চব্যঞ্জনে নিবেদন হয় তাঁদের ভোগ। থাকে পরমান্ন বা পায়েস। অন্নদা ঠাকুরের নির্দেশে এখানে বড় বা মূল মন্দিরে সব ভোগ যায় না। শুধু পরমান্ন নিবেদন করা হয় দেবীকে। বাকি ভোগ নিবেদন হয় পাশের ভোগালয়ে। ভক্তদের জন্যও এখানে রোজ ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।