রামেশ্বরম বিস্ফোরণে জড়াল নাম! ভোটের মুখে কর্ণাটকে অস্বস্তিতে বিজেপি?
Rameswaram Cafe Blast Case: গত ১ মার্চ, রামেশ্বরমের ওই ক্যাফেতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। যে ঘটনায় জখম হয় অন্তত ৯ জন। সেই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে স্থানীয় এক বিজেপি নেতার

ভোটের মুখে এবার আরও বিপাকে বিজেপি। এমনিতেই দক্ষিণে বিজেপির ঘাঁটি শক্তোপোক্ত করতে ত্রুটি রাখছে না নেতৃত্ব। তবে তার মধ্যেই বিপাকে পড়ল কর্ণাটকের শিবমোগ্গা জেলার তির্থহাল্লির বিজেপির শহর ইউনিট। রামেশ্বরমের ক্যাফেতে বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার নাম জড়ালো তাঁদের। ইতিমধ্যেই তাদের এক বিজেপি নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)।
লোকসভা ভোটের আর দেরি নেই। আগামী ১৯ এপ্রিল থেকেই দেশ জুড়ে শুরু হচ্ছে লোকসভা ভোট। চলবে আগামী ১ জুন পর্যন্ত। তার মধ্যেই শিবমোগ্গা জেলায় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ। দিন দশেক আগেই বেশ কয়েকটি স্থানীয় ঘরবাড়ি ও সংস্থায় অভিযান চালায় এনআইএ। রামেশ্বরম ক্যাফেতে বিস্ফোরণের মামলা সংক্রান্ত একাধিক তথ্য ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ওই অভিযানের মাধ্যমে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Lok Sabha Election 2024: বিজেপির হাত ধরেই রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। বিজেপিরও তাঁর উপর অনন্ত ভরসা। কিন্তু লোকসভা ভোটের ঠিক আগে রাজবংশীদের উন্নয়নের প্রশ্নে বিজেপি-বিরোধিতার সুর স্পষ্ট হয়ে উঠল অনন্ত মহারাজের গলায়।
গত ১ মার্চ, রামেশ্বরমের ওই ক্যাফেতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। যে ঘটনায় জখম হয় অন্তত ৯ জন। দিনদুপুরে বেলা একটা নাগাদ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। যাকে ক্যাফের ভিতর একটি ব্যাগ রাখতে দেখা গিয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটাতে আইইডি এবং টাইমার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দুই মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে এনআইএ। সেই সময় সেখানকার এক মোবাইলের দোকান এবং দুই সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় তদন্তকারী দলটি। মোবাইলের দোকানের দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিজেপি কর্মী সাই প্রসাদের নাম উঠে আসে বলে এনআইএ-র এক সূত্রের দাবি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sainik School Now Run by RSS-BJP Leaders: অন্তত ৬২% সৈনিক স্কুল আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠন, ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিজেপির রাজনৈতিক মিত্রশক্তি, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যুক্ত।
অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতার নাম সাইপ্রসাদ। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাইপ্রসাদকে আটক করেছে এনআইএ। বিস্ফোরণের পর পরই এই ঘটনার জন্য রাজ্যের কংগ্রেস শাসিত সরকারকেই দুষেছিল বিজেপি। শেষপর্যন্ত তদন্তে জড়িয়েছে বিজেপি কর্মীর নাম। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় বিরাট সুযোগ পেয়ে গিয়েছে রাজ্যের বিরোধীরা। বিজেপির বিরুদ্ধে গেরুয়া সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রচার করতে ছাড়েনি তারা। কংগ্রেস নেতা দীনেশ গুন্ডু এক্স-এ প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের বিজেপি কর্মীরা এ বার কী বলবেন? দীনেশ বলেন, “এনআইএ-র হাতে এক বিজেপি কর্মীর গ্রেফতার হওয়ার অর্থ অনেক কিছুই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এর পর কি আর কিছু বলবেন?” তিনি জানান, ক্যাফেতে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজ্যের কংগ্রেস পরিচালিত সরকারকে বার বার নিশানা করছে বিজেপি। কিন্তু তাদের এক কর্মী এই ঘটনায় আটক হলেন। কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এই ঘটনাকে এ বার কী ভাবে ব্যাখ্যা করবেন বিজেপি নেতৃত্ব?
ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় তির্থহাল্লির বিজেপি ইউনিটের কাছ থেকে জবাব তলব করেছে রাজ্য বিজেপি। বিস্ফোরণের পরে পরে অবশ্য এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কংগ্রেস যোগ টেনে সমালোচনায় মেতেছিল বিজেপির একটি অংশ। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তোলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর এই ঘটনায় যে ভোটের মুখে মুখে কর্ণাটকে ভালোই মুখ পুড়েছে বিজেপির, তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না।






