এক দেশ এক ভোট: কৌশলে যে উদ্দেশ্য সফল করতে চাইছে গেরুয়া শিবির

One Nation One Election: 'এক দেশ এক নির্বাচন' পরিকল্পনার নেপথ্যে যে যুক্তিগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কতটা ফাঁপা সেইসব যুক্তি।

suman sengupta
৬ মিনিট
এক দেশ এক ভোট: কৌশলে যে উদ্দেশ্য সফল করতে চাইছে  গেরুয়া শিবির

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামানাথ কোবিন্দের ‘এক দেশ এক নির্বাচনে’র সুপারিশ যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে, তা একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। আগামী লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে এই সংক্রান্ত রিপোর্টটি পেশ করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। রাজ্যসভা এবং লোকসভায় যদি এই বিলটি পাশ হয়ে যায় এবং তারপরে যদি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এটি বাধাহীন ভাবে বেরিয়ে যায়, তাহলে 'এক দেশ এক নির্বাচন' লাগু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন, লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ভাষণেও 'এক দেশ এক নির্বাচন', অর্থাৎ বিধানসভা, লোকসভা ভোট একসঙ্গে করার কথা বলেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছিল, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে যে কমিটি এই বিষয়টা দেখার জন্য গঠন করা হয়েছিল, তা একটি নামমাত্র কমিটি। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল প্রধানমন্ত্রী এবং আরএসএসের ভাবনায় সিলমোহর দেওয়া। আট সদস্যের ওই কমিটির রিপোর্ট দেখে মনে হয়, তাঁরা যেন উপায় খুঁজছিলেন কীভাবে এই রিপোর্ট পেশ করে সরকারকে তুষ্ট করা যায়। ওই ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যে ধ্বংস হতে পারে, সে কথা বারবার বলা সত্ত্বেও কেন সেই কমিটিতে একজনও আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধি রাখা হল না?

ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে নাড়াচাড়া করলেই দেখা যাবে, ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৬৭ কিন্তু ভারতে নির্বাচন হত একসঙ্গেই। ১৯৫৭ সালে দেখা যায়, বেশ কিছু সরকার বাতিলের পরে সেই একসঙ্গে ভোট বিষয়টা কমে আসছে। ১৯৫৯ সালে কেরলের প্রথম নাম্বুদিরিপাদের সরকার ভেঙে দেওয়া হয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে। তারপরে ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেরলে আবার বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং তারপর থেকে ক্রমশ বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন বিভিন্ন বছরে হয়ে আসছে। ১৯৭০ সালে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে বাজপেয়ীর সরকারের সময় লালকৃষ্ণ আদবানি আবার এই প্রস্তাব সামনে আনেন। তাহলে এখন আবার নতুন করে এই আলোচনা সামনে আনা হচ্ছে কেন? ২০১৮ সাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই আলোচনা ঘোরাফেরা করছিল কিন্তু রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ-সহ ৪টি বিধানসভায় বিজেপির ফলাফল খারাপ হতে পারে, এই আশঙ্কা করে তারা আবার এই “এক দেশ এক নির্বাচন” বিষয়টিতে জোর দিতে থাকেন। তাহলে কি নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর সরকার সামনের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হতে পারেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কাছে, এমন আশঙ্কা কোথাও থেকেই যাচ্ছে।

যে যুক্তিগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কতটা ফাঁপা সেইসব যুক্তি। প্রথমে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যে যদি প্রায় প্রতি বছর নির্বাচন হয় তাহলে যে নির্বাচনী বিধি লাগু হয় তার ফলে উন্নয়নের কাজ ব্যহত হয়। সুতরাং ৫ বছরে একবার যদি সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রস্তরে একবার নির্বাচন হয় তাহলে দেশের উন্নয়ন কে আটকায়? বলা হয়েছে, 'এক দেশ এক নির্বাচনে'র ফলে খরচ কমবে। গত লোকসভা নির্বাচনের দিকেইযদি তাকানো যায়, দেখা যাবে যারা এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে, উঁচু গলায় খরচের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে তারাই। সরকারি খরচ কম হলেও বহুক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলি যে আকাশছোঁয়া খরচ ভোটের ময়দানে করে ফেলে, তা কার্যত প্রমাণ করে দেয় এই ভাবে খরচ কমানোর ভাবনা আসলে অর্থহীন। একদিকে খরচ কমানো আর অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর খরচ বেড়ে যাওয়া— এই দু'টোর মধ্যে কোনও সামঞ্জস্যই নেই। সুতরাং এই যে খরচ কমানোর যুক্তি সেটা একেবারেই খাটে না। যদি সংস্কার করতেই হয়, তাহলে সবার আগে রাজনৈতিক দলগুলির খরচে রাশ টানা প্রয়োজন,কিন্তু সেই সংস্কার করতে কি আদৌ রাজি কেন্দ্রের সরকার?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘এক দেশ-এক ভোট’ নীতি: যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো ধ্বংসের দিকে আরও এক ধাপ?

One Nation One Election: এই উপমহাদেশে ঐতিহাসিক ভাবে যে সাংস্কৃতিক, ভাষা, জীবন-যাপনে যে বৈচিত্র্য আছে, সংঙ্ঘের কাছে তা এক মূর্তিমান বিপদ।

ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় বা তার পরবর্তীতে সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়াতে সঙ্ঘ পরিবার যারা কিনা বিজেপির মূল রাজনৈতিক চালিকাশক্তি, তাঁরা কখনওই এই স্বাধীনতা এবং সংবিধানকে মেনে নিতে পারেনি। তারা মনে করে, এই সংবিধানের মধ্যে কোনও হিন্দুত্ব নেই। এই সংবিধান বিভিন্ন পশ্চিমি দেশ থেকে ধার

করা। গোলওয়ালকর যাকে এখনও সঙ্ঘ পরিবারের অন্যতম মাথা হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়, তিনি ১৯৪০ সালে নাগপুরে একটি ভাষণে বলেছিলেন, “আরএসএস এক পতাকা, এক আদর্শ, এক নেতৃত্ব, এক ধর্ম দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে দিতে চায়।” শুধু তা-ই নয়, তারা ভারতের জাতীয় পতাকাকেও মান্যতা দিতে রাজি নন। তাঁরা মনে করেন, যে ভারতের পতাকায় যে তিনটি রঙ আছে তা অশুভ এবং সত্যিকারের হিন্দুরা কখনওই এই পতাকাকে মন থেকে মেনে নেবেন না। একদিন পুরো ভারতবর্ষ তাঁদের গেরুয়া পতাকার কাছে মাথা নোয়াবে। ১৯৬১ সালে গোলওয়ালকর আরও বলেন যে ‘আজকের এই যে সরকারের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো তার মধ্যেই নিহিত আছে বিছিন্নতাবাদের সুত্র, এই যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কখনওই 'এক দেশ এক জাতি' এই ধারণাকে মান্যতা দেয় না, সুতরাং এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভাবে উপরে ফেলতে হবে, সংবিধানকে সংশোধন করতে হবে এবং এক দেশের ধারনা চালু করতে হবে’। বিভিন্ন বইতে গোলওয়ালকর এই সম্পর্কে লিখেও গিয়েছেন। সেই লেখাতেই পাওয়া যায়, তাঁর ইচ্ছে ছিল বিভিন্ন স্বাধীন এবং স্বশাসিত রাজ্যের পরিবর্তে তাঁরা একটি একীকৃত দেশ চান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খরচে কমানোই একমাত্র লক্ষ্য? ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতির নেপথ্যে কোন পরিকল্পনা বিজেপির?

One Nation One Election: বিজেপি 'এক দেশ-এক নির্বাচন'-এর নামে 'এক দলীয় ব্যবস্থা' প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে না তো? রাজ্যে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার আনাই কি শাসক দলের প্রধান লক্ষ্য?

তার মানে ভারতের যে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আছে তাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলাটাই উদ্দেশ্য। 'এক দেশ এক নির্বাচন' হলে কেন্দ্র শক্তিশালী হবে আর অঙ্গরাজ্যগুলো ক্রমে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হবে। জিএসটির মধ্যে দিয়ে এই কাজটি শুরু হয়েছে। প্রথম যখন জিএসটি চালু হয়েছিল তখনও বিরোধীরা একই অভিযোগ তুলেছিলেন। প্রথমে যেটা বুঝে নেওয়া জরুরি, তা হল ভারতবর্ষ কি একটা পুরো দেশ নাকি সংবিধান অনুযায়ী এই দেশ কথাটার অন্য কোনও সংজ্ঞা আছে? যা ভারতের নাগরিকেরা জানলেও মেনে নিতে চান না বা বুঝতে চাইছেন না। আসলে অসাম থেকে গুজরাট কিংবা কেরল থেকে কাশ্মীরে যে বৈচিত্র আছে তাকে ধ্বংস করাটাই মূল উদ্দেশ্য। সারা দেশে যেভাবে এক ধর্ম এক আদর্শ চাপানোর চেষ্টা চলছে সবাইকে 'জয় শ্রী রাম' বলানো তারই অঙ্গ। আসলে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার মনে করে যে ভারত একটি অখণ্ড দেশ— যার খাওয়া, পরা, ধর্মাচারণ থেকে শুরু করে তাঁর নাগরিকত্ব কিংবা পরিচিতি সমস্ত কিছুর মধ্যেই একটা একীকরণের ছোঁয়া থাকবে। সেই জন্যই ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও কাউকে নিরামিষ খেতে হবে বা 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান বা আধারের মতো একটা পরিচিতি বহন করতে হবে। আসলে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার আমাদেরকে কোনওভাবে বোঝাতে চাইছে যে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোটার আর কোনও

প্রয়োজনীয়তা নেই। কেন্দ্রে একটা শক্তিশালী সরকার থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে মাধুর্য, একটা কেন্দ্রীভূত বলের সঙ্গে একটা অপকেন্দ্রিক বলের যে সুক্ষ্ম সমীকরণ আছে সেটাই আমাদের সংবিধান এবং আমাদের দেশকে গত ৭৫ বছর ধরে চলমান রেখেছে। এই সম্পর্ক কোনও ভাবে ধ্বংস হলে কোথাও একটা স্থিতিশীলতা চলে যায়।

সুতরাং যে যে যুক্তিগুলো আসছে সেগুলো নিয়ে নাগরিক পরিসরে আলোচনা চালানো জরুরি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। ২০১৮ সালে আইন মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছিল, এই সাংবিধানিক কাঠামোতে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ করানো সম্ভব নয়। তার জন্য সংবিধান সংশোধন শুধু নয়, ১৯৫১ সালের রিপ্রেসেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট, লোকসভা এবং বিধানসভার কার্যপ্রণালী এবং আরও বেশ কিছু আইন বদল করতে হবে। কিন্তু প্রায়োগিক দিক বাদ দিলেও যে সমস্যার কথাটা মাথায় রাখা জরুরি তা হল, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন রাজ্যের ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই সংকটে পড়ে যাবে। ধরা যাক, একটি অঙ্গরাজ্যের সরকার যে কোনও কারণে পাঁচ বছর টিকতে পারল না, সেক্ষেত্রে কি সেই রাজ্যে ফের নির্বাচন হবে? যদি সেটা এড়াতে হয়, তাহলে কি সেই রাজ্যে সে সময় রাজ্যপালের শাসন চলবে, অর্থাৎ ঘুরিয়ে রাষ্ট্রপতির শাসন চলবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি।

আরো একটি কথা আলোচনার জন্য রাখা যেতে পারে। কোনওদিন কি দেখা গেছে, আরএসএস বা বিজেপি তাঁদের নিজস্ব নেতা বাছার জন্য, কোনও আভ্যন্তরীণ নির্বাচন করেছে? এই তো কিছুদিন আগে, বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের সভাপতি নির্বাচিত করেছে। কোনওদিন কি দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রের এখনকার শাসকেরা তাঁদের নেতাকে নির্বাচিত করেছেন? উল্টে তাঁরা পছন্দমতো কাউকে দলের শীর্ষে বসিয়েছে। যে দলটির মধ্যে গণতন্ত্র শব্দটির অস্তিত্বই নেই, সেই দল যদি ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ জাতীয় শব্দবন্ধ সামনে নিয়ে আসে, তখন খটকা লাগে না? আসলে এর মধ্যে দিয়ে, নরেন্দ্র মোদি তাঁর দলের মধ্যেই একটা একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চাইছেন, যেখানে কোনও প্রশ্ন নেই, আছে শুধু আনুগত্য।

অনেকে বলে থাকেন, কেন্দ্রে একটা শক্তিশালী সরকার থাকুক, তা দেশের মানুষ চায়। যদি খেয়াল করা যায়, এই চিন্তাটিও আরোপিত। কার্যত কেন্দ্রে যখনই দুর্বল বা অস্থিতিশীল সরকার থেকেছে, আঞ্চলিক দলগুলো সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া কেন্দ্রের সরকারের থেকে বেশি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তাহলে কি আমাদের 'এক দেশ', 'এক নেতা' 'এক আদর্শ', 'এক ধর্ম', 'এক স্লোগান'— এইগুলো নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে? নাগরিক পরিসর থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ উঠবে না? আরও একটা জরুরি কথা না বললেই নয়, বিরোধীরা যেভাবে ছন্নছাড়া হয়ে আছেন, তাতে কি তাঁরা আদৌ পারবেন এই লড়াইকে সামনে নিয়ে আসতে, নাকি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ দেখতে গিয়ে আমাদের স্বপ্নের ভারতবর্ষকে গেরুয়া পতাকার নীচে আত্মসমর্পণ করতে হবে, তা সময় বলবে। 'এক দেশ এক নির্বাচন' আসলে এক দেশ, এক নেতা, এক ধর্ম চালু করারই প্রাথমিক ধাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।