পুরনো বই সমানভাবে ছেপে যাওয়াই মূল মন্ত্র

Kolkata Bookfair 2025: এই সময়ে মানুষের কাছে বিভিন্ন 'বিকল্প' রয়েছে। বই কেনই বা পড়বেন? প্রকাশকের দরকার পাঠকের কাছে খবরটা দেওয়া।

inscript
৪ মিনিট
পুরনো বই সমানভাবে ছেপে যাওয়াই মূল মন্ত্র

কলকাতা বইমেলা সমাগত। শেষ পর্যায়ে দিবারাত্র এক করে তোলপাড় চলছে ছাপাখানাগুলিতে। পত্রিকা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল অবভাস। বইপ্রকাশনার জগতে এক অন্য মাত্রা জুড়েছে এই প্রকাশনা। মণীন্দ্র গুপ্ত, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের লেখার পাশাপাশিই তৈরি হচ্ছে নতুন লেখকগোষ্ঠীর নতুন পাঠকমহল। কেন অন্যধরনের বই অবভাসের মূল শক্তি, এবারের বইমেলায় কোন কোন নতুন বই প্রকাশ পাচ্ছে? ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে আলাপচারিতায় অবভাস প্রকাশনার কর্ণধার পার্থ চক্রবর্তী।

মধুরিমা- অবভাসের শুরু কীভাবে?

পার্থ- অবভাসের যাত্রা শুরু পত্রিকা দিয়ে। সাল ১৯৯৯। প্রকাশনা শুরু ঠিক তার বছরখানেক পর থেকেই। ২০০২ সালে প্রথম অবভাস বই প্রকাশ করে। তপোব্রত ঘোষের বই 'গোরা আর বিনয়' আমাদের প্রথম বই। তখন পত্রিকা আর প্রকাশনা অবশ্য একইসঙ্গে চলেছে। কয়েকছর পর পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। অবভাসের পত্রিকা কিন্তু নিছক গল্প-কবিতার পত্রিকা নয়। গল্প-কবিতা থাকতই না। যে ধরনের বই আমরা প্রকাশ করি, সেই ধরনেরই পত্রিকা ছিল।

মধুরিমা- লিটল ম্যাগাজিন থেকে প্রকাশনায়, তাও এমন অন্যতর লেখালিখির। এদিকে যে সিরিয়াস কাজের পাঠক কমছে বলে শোনা যায়?

পার্থ- আমাদের পরিকল্পনা ছিল, যে ধরনের পত্রিকা আমরা করি, যে ধরনের লেখালিখির চর্চা করি, তেমনই প্রবন্ধের বা বিশেষ ধরনের লেখার বই-ই করব। এই ধরনের কাজের পাঠকগোষ্ঠী কিন্তু আছে। আমরা রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের বই প্রকাশ করেছি। রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে তো দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি বলা যায়। তাঁর দর্শনের বইগুলি অবভাস প্রকাশ করেছে। মার্ক্সীয় নন্দনতত্ত্ব দুই খণ্ড, জিজ্ঞাসা গ্রন্থমালা। তবে, এই ধরনের বই অবভাস কেন নির্বাচন করল, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লেখক কম, প্রকাশকে গিজগিজ করছে বাংলার বইবাজার : সুমন চট্টোপাধ্যায়

Book Publication : বইয়ের বাজারে কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর ছলা বই প্রকাশের বাজারে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। লেখে যতজন ছাপে তারও বেশি প্রকাশক? বইবাজারের 'লেখক' হওয়ার নয়া কিসসা লিখলেন সুমন চট্টোপাধ্যায়

আমরা বিশ্বাস করি, বাংলায় দীক্ষিত পাঠকের অভাব নেই। আমরা ঠিকমতো 'সিরিয়াস পাঠকের' উপযুক্ত বই অনেকসময় দিতে পারি না। দিতে পারলেই পাঠক আছে। আমাদের সব বই পুনর্মুদ্রিত হয়। অর্থাৎ সমস্ত বই ছাপা হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, পড়ে থাকে না। অনেক প্রকাশনাতে তাই হয়। অনেক বই-ই আর ছাপা হয় না কারণ তা আর বিক্রি হবে না। বাজার আর নেই। আমাদের তা হয় না। আমরা যখন পত্রিকা করতাম তখনই দেখেছি যে, এই বিশেষ কাজগুলির বিশেষ পাঠকমহল আছে। তাই আমরা এই কাজগুলিই নির্বাচিত করি। আমাদের প্রকাশনায় গল্প বা কবিতা তাই নেই বললেই চলে। মণীন্দ্র গুপ্তর সমস্ত গদ্য যেহেতু আমাদের কাছে আছে, তাই মণীন্দ্র গুপ্তর উপন্যাস সমগ্রও আমাদের কাছে আছে।

মধুরিমা- অনেক লিটল ম্যাগাজিনই নিজস্ব একটা লেখকগোষ্ঠী তৈরি করতে পারে। অবভাসের শুরুটাও সেভাবেই খানিক। প্রকাশনাতে এসেও অবভাস নিজস্ব লেখকমণ্ডলী গড়তে পেরেছে। অজয় গুপ্ত, পরিমল ভট্টাচার্যের মতো ভিন্ন ঘরানার লেখকের বই আপনারা প্রকাশ করছেন, কেন এই নির্বাচন?

পার্থ- আমাদের লেখক পরিমল ভট্টাচার্য যে ধরনের লেখালিখি করেন তা মূলত ফিকশন এবং নন-ফিকশনের মিশেল- দার্জিলিং, শাংগ্রিলার খোঁজে, সত্যি রূপকথা! সাম্প্রতিক প্রকাশ হয়েছে তাঁর একদম অন্যরকমের একটি বই। ঐতিহাসিক পটভূমিকায় একটি উপন্যাস, সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা। এই কিছুদিন আগে প্রকাশ হয়েছে, এরই মধ্যে যা সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমরা অভিভূত। অজয় গুপ্তর বইও একেবারে ভিন্ন মাত্রার। তাঁর স্মৃতিকথা তো আছেই। এছাড়া গতবছর প্রকাশ হয়েছিল কৃষ্ণপ্রসন্নর খেরোর খাতা এবং মৃত্যুর জবানবন্দি। এটা মৃত্যু নিয়ে লেখা। অজয় গুপ্তর অভিজ্ঞতা তো বিশাল, ওঁর দেখা মৃত্যুগুলির গল্প আছে প্রথম অংশে। কৃষ্ণপ্রসন্নের খেরোর খাতা একটা অংশ, আর মৃত্যুর জবানবন্দি আরেকটি অংশ। তাতে আছে রূপকার্থে যমরাজের সঙ্গে মৃত্যুর কথোপকথন। আমাদের সভ্যতা, সমাজ, পরিবেশ সমস্তটা নিয়ে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে, আমাদের ভবিষ্যৎ কী— এই নিয়েই পুরো বইটা। এই লেখার পাঠক তো আছেই। কিছু স্মৃতিকথামূলক বইও রয়েছে আমাদের। পুরনো স্মৃতিকথা যেমন সারদাসুন্দরী দেবী, শরৎকুমারী দেবী— এই বইগুলি অবভাস প্রকাশ করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাঠকের সামনে ভালো বই তুলে ধরতে চায় প্রতিক্ষণ

Kolkata International Book Fair 2024: প্রতিক্ষণের কর্ণধার শুদ্ধব্রত দেবের সঙ্গে আলাপচারিতায় শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়।

মধুরিমা- এই সমস্ত লেখারই নির্দিষ্ট পাঠক রয়েছে তবে?

পার্থ- প্রত্যেক বইয়েরই কিন্তু সমান সমান পাঠক আছে। পাঠকের কাছে পৌঁছনোই আসল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যতই সিরিয়াস বই করি না কেন, পাঠকের কাছে কীভাবে সেই বই নিয়ে পৌঁছব এই নিয়ে ভাবনা ভীষণ জরুরি। এই সময়ে মানুষের কাছে বিভিন্ন 'বিকল্প' রয়েছে। বই কেনই বা পড়বেন? প্রকাশকের দরকার পাঠকের কাছে খবরটা দেওয়া। এখন তো খবর দেওয়ার মাধ্যম বিভিন্ন। আমরা শুরুর দিকে বই প্রকাশ হলেই পোস্টকার্ড পাঠাতাম আর ফোনে এসএমএস করতাম 'বুক অ্যালার্ট' বলে। যতজন পাঠকের নম্বর আমাদের কাছে থাকত, তাঁদের সবাইকে এই মেসেজ পাঠাতাম, পোস্টকার্ড পাঠাতাম, কিছুজনকে মেল করা হতো। এখন তো মাধ্যম অনেক। সমাজমাধ্যম তো আছেই, ২০১৫ সাল থেকে আমাদের ওয়েবসাইটও আছে। সেখানে প্রচার হচ্ছে। সারা ভারতে বই পৌঁছে যাচ্ছে। প্রচারের কথা না ভাবলে সিরিয়াস বই করেও লাভ নেই।

মধুরিমা- এবারের কলকাতা বইমেলায় অবভাসের কোন কোন বই প্রকাশ পাচ্ছে?

পার্থ- এবারের বইমেলায় নতুন বই বেরচ্ছে চারটে। সারাবছর আমদের বিপুল পরিমাণ বই প্রকাশ হয় না। নির্বাচন করে কয়েকটা বই করি। এবার পরিমল ভট্টাচার্যের সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা বইটা থাকছে। বিন্দু থেকে সিন্ধুতে: ৮টি সেরা গল্পের জন্মকথা বইটি প্রকাশ হচ্ছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৮টি গল্প কোথা থেকে এল? এর পরিকল্পনা, রূপায়ণ অজয় গুপ্তের। আরেকটি হচ্ছে চিকিৎসা- বিজ্ঞান/কাণ্ডজ্ঞান। এই বইটি লিখেছেন চিকিৎসক বিষাণ বসু। খুবই অন্য ধরনের কাজ এটি।

মধুরিমা- পাঠক তো সঠিক সিরিয়াস কাজ খুঁজেই নেন। নতুন কাজের পাশাপাশি পুরনো বইগুলোও কি সন্ধান করেন পাঠক?

পার্থ- পুরনো বইয়ের সন্ধান তো আছেই। এখনও বিপুল বিক্রি হয় অক্ষয় মালবেরি। এর পাঠক নিয়মিত তৈরি হয়। শাংগ্রিলার খোঁজে, দার্জিলিং এই ধরনের বই কিছু নতুন পাঠক তৈরি করে। এই লেখকদের নিজস্ব পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি হচ্ছে। পাঠক তৈরি হওয়ার নেপথ্যের মূল চাবিটি হলো লেখার জোর। তারপরেই হলো লেখাকে পাঠকের কাছে পৌঁছনো। পাঠক তারপরেই খুঁজে নেন পরিমল ভট্টাচার্যের আর কী বই আছে, মণীন্দ্র গুপ্ত আর কী লিখেছেন, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য আর কী কী ভাবছেন! যখন লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে অবভাস প্রকাশ হতো, তখনও আমাদের পত্রিকাকেন্দ্রিক লেখকদের একটা গোষ্ঠী তো তৈরি হয়েইছে। সেই লেখকদের পাঠকগোষ্ঠীও সমানভাবে গড়ে উঠেছে।

বছরে অল্প বই হোক, কিন্তু পুরনো বইও সমানভাবে ছেপে যাওয়া কিন্তু আমার কাছে কোনও প্রকাশনার গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক। আমরা পেপারব্যাক বই তৈরি করি। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আধুনিক যোগাযোগ ও প্রচারব্যবস্থাকে প্রকাশকদের ব্যবহার করতে হবে সিরিয়াস কাজ সঠিক পাঠকের কাছে পৌঁছনোর জন্য। তাহলেই, গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিক কদর পাবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।