এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া, দেশের নামে বিজেপির আসন টলাতে পারবে কি বিরোধী মহাজোট?

NDA VS INDIA: ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের ব্রহ্মাস্ত্র 'ইন্ডিয়া'। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়ান্স, যেখানে এক ছাদের তলায় এসেছে অন্তত ২৬টি বিজেপি বিরোধী দল।

Sohini Das
৩ মিনিট
এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া, দেশের নামে বিজেপির আসন টলাতে পারবে কি বিরোধী মহাজোট?

একটা সময় হতোদ্যম ভারতীয় ক্রিকেট দলের মনোবল বাড়াতে টনিকের মতো কাজ করেছিল 'টিম ইন্ডিয়া' স্লোগান। সৌরভ গাঙ্গুলির হাত ধরে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এবার রাজনৈতিক মঞ্চেও কি কাজ করতে চলেছে সেই একই টনিক? বেশ কয়েক বছর ধরেই মোদি বিরোধিতায় গলা ফাটিয়ে আসছে কংগ্রেস-সহ একাধিক অ-বিজেপি দল। তবে এখনও পর্যন্ত শিকেয় ছেঁড়েনি কিছুই। বরং যত দিন গিয়েছে আরও ফুলে ফেঁপে উঠেছে বিজেপি ও তার এনডিএ জোট। প্রতিবার ভোট এলেই নয়া উদ্যমে বিজেপি বিরোধিতায় ঝাঁপায় বাকি দলগুলি। গড়ে ওঠে জোটও।

দেখতে দেখতে দোরগোরায় ফের লোকসভা ভোট। এবার কি বদলাতে চলেছে ভারতের ভাগ্য। অন্তত তেমন অভিপ্রায় নিয়েই কোমর বেঁধে তৈরি হল নয়া জোট। আর ইউপিএ নয়। ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের ব্রহ্মাস্ত্র 'ইন্ডিয়া'। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়ান্স, যেখানে এক ছাদের তলায় এসেছে অন্তত ২৬টি বিজেপি বিরোধী দল। এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া- আপাতত রাজ্য-রাজনীতির চর্চার মূল বিষয় এটাই।

গত বছর পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে এক ছাদের তলায় লড়তে নিমরাজি ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বরং তৃণমূল নেতৃত্ব জোর দিয়েছিল ত্রিপুরা, গোয়ার মতো ছোট রাজ্যগুলিতে সংগঠন বাড়াতে। তবে সেখানে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দলের মুকুট থেকে খোয়া গিয়েছে জাতীয় দলের তকমাও। ফলে এ বছর একা লড়ার পথ ছেড়ে বিরোধী জোটের ছাতার তলাতে আসতেই বেশি আগ্রহী। এমনকী হাতেদের সঙ্গে হাত মেলাতেও তেমন অসুবিধা নেই তৃণমূলের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেশের মুখ গুজরাত আর বিজেপিই! কেন ধামাচাপা পড়ে গেল আপ ও কংগ্রেসের জয়?

Gujarat BJP: গুজরাতের মতো একটি ‘উন্নত’ রাজ্যের বেশিরভাগ নির্বাচক যদি বিজেপিকেই বেছে নেন, তাহলে গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার জন্য কেন আর অন্যদলকে ভোট দেওয়া?

মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে বৈঠকে বসল ২৬টি বিরোধী দল। সেখানেই বিজেপিকে সমূলে উৎখাত করতে ঐক্যবদ্ধ লড়াই লড়ার ব্যপারে একজোট হয় ওই ২৬টি দল। কে নেই সেই দলে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, সিপিএম থেকে সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি থেকে শিবসেনা। এমনকী সদ্য় নেতা হারানো দল এনসিপি-ও যোগ দিয়েছে ওই বিরোধী জোটে। যদিও বৈঠক শেষে মতপার্থক্য থেকে গেল অনেকাংশেই। বহু ক্ষেত্রেই পারস্পরিক ক্ষেত্রে সম্বোধন এড়ালেন একাধিক নেতা-নেত্রী। তার পরেও তৈরি হল সম্ভাবনা। একচেটিয়া বিজেপিশক্তির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জোটের সম্মিলিত লড়াই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একাই ম্যাজিক ফিগার পার? যেভাবে বিজেপিকে ঠেকাতে সফল হলো কংগ্রেস...

Karnataka Election Results 2023: বিজেপির দক্ষিণ দুর্গ কর্ণাটক গেরুয়া দলের হাতছাড়া হতে চলেছে একথা বলাই যায়।

মূল শক্তি বিজেপি হলেও, তারা কিন্তু একা নয়। ফলে জোট 'ইন্ডিয়া'-কে লড়তে হবে কার্যত ৩১টি দলের বিরুদ্ধে। সকলে মিলে এনডিএ। যেখানে রয়েছে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা, অজিত পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, রাষ্ট্রিয়া লোকজনশক্তি পার্টি-সহ একাধিক ছোটবড় দল। ফলে বলাই বাহুল্য খুব একটা সহজ হবে না এই লড়াই। তবে এতদিন যেভাবে ফাঁকা মাঠে গোল করে আসছিল বিজেপি, সেই আত্মবিশ্বাসে খানিকটা হলেও ফাটল ধরানো যেতে পারে। দলীয় কোন্দল, যথাযথ নেতৃত্বের অভাব- একাধিক কারণে কংগ্রেসের অবস্থা ক্রমক্ষয়িষ্ণু। দুএকটা ব্যতিক্রমী জায়গা ছাড়া বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না হাত-পার্টি। তবে গোড়া থেকেই তারা বিজেপি বিরোধী জোট করার পক্ষে। গত ভোটের আগেও একাধিক বার সেই চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। তবে সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলকে একছাতার তলায় আনতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন বর্ষিয়ান নেত্রী সনিয়া গান্ধি। অবশেষে তাঁর সেই স্বপ্ন কিছুটা হলেও রূপ পেতে চলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলেও না আঁচালে বিশ্বাস নেই। 'ইন্ডিয়া' জোট নিয়েও খানিকটা তেমনই ধন্ধে রয়েছে দেশের মানুষ।

গত ২৩ জুন পটনার সভা থেকেই চলছিল জল্পনা। কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে সরাতে আদর্শগত মতপার্থক্যকে দূরে সরিয়ে রেখে লোকসভা ভোটে জোট বেঁধে লড়ার কথা শোনা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। তবু যেন ঠিক করে তালমিল হচ্ছিল না। মঙ্গলবারও পুরোপুরি হল না। কিন্তু জোট বাধার দিকে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেল অবিজেপি দলগুলো। আর তার পরেই একাধিক নেতৃত্বের মুখে শোনা গেল 'চক দে ইন্ডিয়া'-র মতো স্লোগান।

এদিকে, মঙ্গলবারই আবার নিজেদের জোটের আয়তন বাজিয়ে দেখে নিল বিজেপি। এদিন দিল্লিতে বৈঠকে বসে বিজেপি সমর্থিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল। সেখান থেকে জোট 'ইন্ডিয়া'-কে বিঁধতেও ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীদের 'পরিবার ও দুর্নীতির জোট' বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তিনি এ-ও জানান, তাদের জোট ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত। এবং দেশের উন্নতি ও আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্যই এই সংঘবদ্ধতা। মোদির এই বক্তব্যকে ঘিরে তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দেয় বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-ও। তাদের বক্তব্য, বিরোধী জোট দেখে ভয় পেয়েই তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকেছিল বিজেপি।

তবে বিজেপি ভয় পেয়েছে কি পাইনি, সেটা এখন তত বড় কথা নয়। কিন্তু সনিয়া,মমতা, সীতারাম ইয়েচুরি, নীতিশ কুমারের মতো একাধিক মতাদর্শের নেতৃত্বরা মিলে সত্যিই কি টেকাতে পারবেন বিজেপি বিরোধী এই মহাজোট। সত্যিই কি গাঙ্গুলির 'টিম ইন্ডিয়া'-র মতোই 'তোর টিমে তোর পাশে' হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে 'ইন্ডিয়া' জোট? সে কথাই আপাতত ভাবাচ্ছে জাতীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।