ডবল ধামাকা! শুধু ওয়ানাড় নয়, রায়বরেলিতেও জিততে চলেছেন রাহুল গান্ধি?

Rahul Gandhi Lok Sabha Election Results: ওয়ানাড়ে তিনিই সাংসদ, এবার রায়বরেলিতেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাহুলের।

inscript
৩ মিনিট
ডবল ধামাকা! শুধু ওয়ানাড় নয়, রায়বরেলিতেও জিততে চলেছেন রাহুল গান্ধি?

দু'টি আসন থেকে লড়ছেন রাহুল গান্ধি, গত লোকসভা নির্বাচনের মতোই। তবে একটি আসন এবার বদলেছেন তিনি। গতবারের আমেথির বদলে বেছে নিয়েছেন মা সনিয়া গান্ধির দীর্ঘদিনের গড় রায়বরেলি। পাশাপাশি লড়ছেন ওয়ানাড় আসন থেকেও। কেরলের এই লোকসভা আসনটির সাংসদও তিনিই। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এবারও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ওয়ানাড় লোকসভা আসনটি ধরে রাখবেন। এই আসনে লড়াই হয়েছে ভালোই, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছেন রাহুল। আর রায়বরেলি? রাহুল কি দু'টি আসনেই জিতবেন এবার?

ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া-র এক্সিট পোল অনুসারে, রাহুল গান্ধি কেরলের ওয়ানাড় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী এবং রাজ্য বিজেপির প্রধান কে সুরেন্দ্রনের থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তবে শুধু বিজেপি নয়, ময়দানে রয়েছেন আরেকজন প্রার্থীও। প্রবীণ সিপিআই নেতা অ্যানি রাজা।

এক্সিট পোল একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্য নাও হতে পারে। তবে ৫৪৩টি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৬ লক্ষ মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র উঠে আসছে তাতে রাহুলের দিকেই ওয়ানাড় আসনের পাল্লা ভারী। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, রাহুল গান্ধি ওয়ানাড় আসনটি জিতেছিলেন ৭ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে। সেবার তিনি হারিয়েছিলেন সিপিআই প্রার্থী পিপি সুনীরকে, তিনি ২.৭ লক্ষ ভোট পেয়েছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আমেঠি নয়, লোকসভায় লড়ার জন্য কেন রায়বরেলি বাছলেন রাহুল গান্ধি?

Rahul Gandhi Raebareli Seat: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি এই আসনে তিনবার এবং সনিয়া গান্ধি টানা পাঁচবার জিতে এই আসনে সাংসদ হয়েছিলেন।

লোকসভা নির্বাচনে কেরলে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট জোট ওয়ানাড় সহ সমস্ত আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অথচ জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের শরিক বামেরা। পশ্চিমবঙ্গে বাম ও কংগ্রেস হাত মেলালেও কংগ্রেসের সঙ্গে কেরলে আসন ভাগাভাগিতে যায়নি বামেরা।

সিপিআই ওয়ানাড় আসনে রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে দলের বরিষ্ঠ নেতা অ্যানি রাজাকে প্রার্থী করে। ওয়ানাড় ছাড়াও, সিপিআই তিরুবনন্তপুরম থেকে পান্নান রবীন্দ্রনকে প্রার্থী করেছে। বর্তমানে এই আসনের দখল রয়েছে বর্তমানে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের কাছে। সিপিআই এবং অন্যান্য বাম দলগুলি কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে।

অন্যদিকে রাহুলের হাতে রয়েছে আরেকটি আসন, গর্বের আসন। কংগ্রেসের একদা গড় রায়বরেলি। সনিয়া রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে যাওয়ায়ে এই আসনটি ছেড়ে দেন। তাঁর পুত্র আমেঠি আসনে গতবার স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান। এবার মায়ের আসন রায়বরেলিতে তিনি প্রার্থী। নিউজ ১৮-এর মেগা এক্সিট পোল বলছে রায়বরেলিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাহুলের। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টির দীনেশ প্রতাপ সিং।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৮০-র বেশি আসন পেরোতে পারবে না বিজেপি! কেন এমন বলছেন রাহুল গান্ধি?

BJP Lok Sabha Election Seats 2024: রাহুল গান্ধির দাবি, প্রধানমন্ত্রী এবং ৩/৪ জন পুঁজিপতি মিলে এই ম্যাচ গড়াপেটার কাজটা করছে।

১৯৫২ সালে ফিরোজ গান্ধি প্রথম রায়বেরেলি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফিরোজ গান্ধির মৃত্যুর পর ১৯৬০ সালের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের আরপি সিং এবং ১৯৬২ সালে কংগ্রেসের আরেক নেতা বৈজ নাথ কুরেলের হাতে ছিল এই আসনটি। ইন্দিরা গান্ধি নিজে এই আসনটি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ধরে রাখেন। ১৯৮০ সালে, ইন্দিরা গান্ধি রায়বরেলি ও মেদক আসনে জেতেন কিন্তু তিনি মেদক আসনটি বেছে নেন এবং রায়বরেলি থেকে পদত্যাগ করেন। ইন্দিরা গান্ধির এক পিসি শীলা কৌল ১৯৮৯ এবং ১৯৯১ সালে রায়বরেলি আসনে জেতেন। ১৯৯৯ সালে, গান্ধি পরিবারের আরেক বন্ধু, সতীশ শর্মা রায়বরেলি আসনে জেতেন। তারপর শুরু হয় সনিয়া গান্ধির পালা।

পাঁচ দফার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যখন সনিয়া গান্ধি রায়বরেলি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ভোটারদের একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, স্বাস্থ্য এবং বাড়তে থাকা বয়সের কারণে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না তিনি।

১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার প্রেক্ষিতে কংগ্রেস এই আসনটি জেতেনি। জনতা পার্টির রাজ নারায়ণ ইন্দিরা গান্ধিকে হারান। আর বিজেপির অশোক সিং ১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সালে এই আসন জিতেছিলেন। এবার রাহুল কংগ্রেসের এই দীর্ঘকালীন গড়কে ধরে রাখতে সত্যিই পারছেন কিনা তা জানা যাবে ৪ জুন।

এক্সিট পোল বলছে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স উত্তর প্রদেশে ৬৮ থেকে ৭১টি আসন জিততে পারে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট ৯ থেকে ১২টি আসন জিততে পারে। এর মধ্যে কংগ্রেস তিন-থেকে ছয়টিতে জিততে পারে বলে অনুমান।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।