শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন বলেই লাইভ সম্প্রচারে বাধা? কী বলছেন আইনজ্ঞরা?

Live Telecast Of Meeting: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য অন্যতম শর্ত ছিল সরাসরি সম্প্রচার। আর তাতেই আপত্তি জানায় নবান্ন।

inscript
৩ মিনিট
শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন বলেই লাইভ সম্প্রচারে বাধা? কী বলছেন আইনজ্ঞরা?

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে গোটা শহর উত্তাল। প্রায় এক মাস ধরে কর্মবিরতির পথে জুনিয়র ডাক্তারেরা। চার দিন ধরে স্বাস্থ্যভবনের সামনে ধর্নায় তাঁরা। ছ'দফা দাবি তোলা হয়েছে তাঁদের তরফে। এ নিয়ে তিন বার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা হলেও শেষপর্যন্ত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে তিন বারই। বৃহস্পতিবার নবান্ন পর্যন্ত এসে ফিরে যান জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য অন্যতম শর্ত ছিল সরাসরি সম্প্রচার। আর তাতেই আপত্তি জানায় নবান্ন। বৈঠক বানচাল হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন, তাই সেই সংক্রান্ত বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার সম্ভব নয়।

কতটা সত্যি বললেন মুখ্যমন্ত্রী? সত্যিই কি সুপ্রিম কোর্টে বিচার্য মামলার সরাসরি সম্প্রচার আইনবিরুদ্ধ? নাকি স্বাস্থ্যদুর্নীতি সংক্রান্ত ডাক্তার-মুখ্যমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের খুঁটিনাটি দুনিয়ার সামনে আনতে চাইল না প্রশাসন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হলো না! কোন পথে এগোবেন জুনিয়র ডাক্তাররা?

Mamata Banerjee and Junior Doctors Meet: এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী? আন্দোলন কি আরও তীব্র হবে? মুখ্যমন্ত্রী কি কোণঠাসা হবেন?

এ বিষয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানালেন, এ মুখ্যমন্ত্রীর অজ্ঞতার পরিচয়। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে একাধিক মামলার লাইভ স্ট্রিমিং হচ্ছে, ফলে সুপ্রিম কোর্ট কখনও কোনও মামলার লাইভ স্ট্রিমিং করতে আপত্তি করেনি বা এ সংক্রান্ত কোনও বিধিনিষেধও নেই। বিকাশবাবু বলেন, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অর্ধসত্য এবং অসত্যভাষণে পারদর্শিনী। প্রকৃতপক্ষে সেটারই পুনরুল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এদিন। আইনত সরাসরি সম্প্রচারে কোথাও বাধা নেই।"

মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। আর সাংবাদিক বৈঠকও যে সরাসরি সম্প্রচারের নামান্তর মাত্র, তা মানতে কোথাও বাধা নেই। বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করে থাকে তাঁদের চ্যানেলে। যদি সেটা তাঁর করতে বাধা না থাকে, তাহলে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার করতে আপত্তিটা কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘ভিডিয়ো রেকর্ড করা হবে, জানানো হয়েছিল। তিনটি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। চাইলে ভিডিয়োর রেকর্ড তাঁদের হাতে তুলে দিতাম। সুপ্রিম কোর্ট যে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারে, আমরা পারি না। মামলা বিচারাধীন। সিবিআই দেখছে। চাইলে আমরা তাদের ভিডিয়ো রেকর্ড দিতাম। কোর্টকেও দিতে পারতাম।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্নায়ুযুদ্ধে ডাক্তারদের কাছে জিতে গেলেন মমতা?

CM Mamata Banerjee: পদত্যাগ করতে রাজি আছি।’ — রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, এই বাক্যেটি আসলে বহুকৌণিক। একদিকে থেকে বোঝা যায়, তিনি নিঃস্বার্থ এবং সমস্যা সমাধানে ব্রতী।

কেন ভিডিও রেকর্ডিংয়ে আপত্তি নেই, সরাসরি সম্প্রচারেই আপত্তি মুখ্যমন্ত্রীর? প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ঋজু ঘোষাল। তিনি মনে করছেন, এর কারণ সম্ভবত একটাই, রেকর্ড হওয়া ভিডিওর ক্ষেত্রে তা এডিট করা সম্ভব। কিন্তু লাইভ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তা-ই কি ভয় পেল প্রশাসন? ঋজু আরও জানান, সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পূর্বে নিজে লাইভ স্ট্রিমিং করেছে। সিবিআই এই মামলার ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে তদন্ত করছে। অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি মামলার তদন্ত হচ্ছে একদিকে, যেটার ভার রয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। অন্যদিকে আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত করছে ইডি। আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের যে ছ'দফা দাবি, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিকর্তার অপসারণ, তারা আদৌ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়। ফলে সেক্ষেত্রে লাইভ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আইনত বাধার জায়গা আসে কোথা থেকে। সরাসরি সম্প্রচারের দাবির নেপথ্যে মূল কারণ ছিল স্বচ্ছতা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের কী কথা হচ্ছে, তা যেন বাইরের পৃথিবী জানতে পারে। তবে কি সরকার যে স্বচ্ছতা বজায় রাখছে, সে বিষয়ে নিজেরাই তারা সন্দিহান। কোভিড পরবর্তী কালে লাইভস্ট্রিমিং পুরোপুরি বৈধ, যাতে মানুষ আসল সত্য জানতে পারে। বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না, এমন আইনের উল্লেখ সুপ্রিম কোর্টে আছে বলে মনে হয় না, জানান ঋজু। সেক্ষেত্রে তাঁর প্রশ্ন, "মুখ্যমন্ত্রীর যদি তেমন কোনও আইনের কথা জানা থাকে, তাহলে ধারা, আর্টিকেল উল্লেখ করে জানালেন না কেন তিনি? তৃণমূলে তো বাঘা বাঘা আইনজীবীরা রয়েছেন, তাঁরাই বা কেন নীরব?

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কথাবার্তায় লুকোচুরির জায়গা কোথায়? জুনিয়র ডাক্তারেরা যে আন্দোলন করে চলেছেন, প্রথমে লালবাজার ও স্বাস্থ্যভবনে, সেটা গোটাটাই মানুষের সামনে হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী যা যা বলেছেন, তা-ও সকলের সামনেই হয়েছে। তবে কি প্রশাসন ভয় পেয়েছিল, বৈঠকে এমন কোনও কথাবার্তা হতে পারে, এমন প্রশ্ন উঠতে পারে, যা নবান্নের পক্ষে অস্বস্তিকর হতে পারে। তা-ই কি আদালত অবমাননার কথা বলে সেই পরিস্থিতি এড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী? উঠে গিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।