'বদন বিগড়ে গেছে'! আন্দোলনকারীকে নিয়ে যেভাবে শ্লীলতার মাত্রা ছাড়াচ্ছেন কুণাল-দেবাংশু

Kunal-Debangshu: "হ্যাঁ রে দেবাংশু, তোর পাত্রী দেখার কাজটা এগোব? তোর সঙ্গে বেশ মানাবে। রাগের মধ্যেই থাকে অনুরাগের বীজ," লিখেছেন কুণাল।

inscript
৩ মিনিট
'বদন বিগড়ে গেছে'! আন্দোলনকারীকে নিয়ে যেভাবে শ্লীলতার মাত্রা ছাড়াচ্ছেন কুণাল-দেবাংশু

আরজি কর আন্দোলন শুধু আর ধর্ষণের বিচারে আটকে নেই। রাতদখলের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিরাপত্তা ও সম্মানের দাবি। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণের পর মহিলাদের ঘিরে সবস্তরে চলতে থাকা নিগ্রহ, অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু হয় প্রবলভাবে। দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে করতে যে কোনও ধরনের নিগ্রহের বিরুদ্ধে তীব্রভাবে কথা বলতে শুরু করেছেন মেয়েরা। এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টাও কম হয়নি বা হচ্ছে না। নানাভাবেই আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করার চেষ্টা চলছে। তবে সেই আক্রমণে রাজনীতি নেই, আছে নোংরামি। সরাসরি ময়দানে নেমে এই কদর্যতায় উৎসবে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং তৃণমূলের তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্য। ফেসবুকে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারী এক মহিলার ছবি দিয়ে কদর্য কথোপকথন শুরু করেছেন দু'জনে।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আরজি কর আন্দোলনের মধ্যে থেকে এক মহিলার ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি একটি ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে কথোপকথনরত। কুণাল ওই ছবি শেয়ার করে লিখেছেন,

"হ্যাঁ রে দেবাংশু, তোর পাত্রী দেখার কাজটা এগোব? তোর সঙ্গে বেশ মানাবে। রাগের মধ্যেই থাকে অনুরাগের বীজ। তাছাড়া, কেমন সংস্কার মানে, স্বামীর নাম মুখে আনতে চায় না। আমার তো নিজেকে এখনই ভাসুর ভাসুর লাগছে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফেসবুক থেকে টার্গেট সংসদ! দেবাংশু ভট্টাচার্যের উত্থানের গতি অবাক করবে...

Debangshu Bhattacharya Tamluk Lok Sabha: ২০১১ সালে প্রথম দেবাংশু একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে শুরু করেন।

কুণাল ঘোষ এই ছবি শেয়ার করার পর কুণালের পোস্টটি শেয়ার করেছেন তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। এই কদর্যতায় অবশ্য গুরু কুণালকেও ছাড়িয়ে গেছেন শিষ্য! আন্দোলনকারী মহিলার উদ্দেশ্যে লিখেছেন,

"বলছ তাহলে কুণাল দা? তুমি খুঁজে দিচ্ছ মানে এত সহজে কি না বলতে পারি! কিন্তু গলা শুনে মনে হচ্ছে বড় দজ্জাল.. টিকবে কি? বিনয় কোঙারের মতো 'লাইফ হেল' করে দেবে তো!”

এর পরেই দেবাংশু ওই পোস্টে নিজের মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ফেলেন। লেখেন, “এ বাবা! এমা... দাঁড়াও দাঁড়াও... বিবাহিত তো! সরি...

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'সুযোগসন্ধানী নাটক'! মেয়েদের রাত দখল নিয়ে কী বলছেন কুণাল ঘোষ?

Kunal Ghosh on RG Kar Protest: এই আন্দোলন ধর্ষণের বিচার চেয়ে হলেও কুণাল তাতে রাজনীতি টেনেই এনেছেন। টেনে এনেছেন কোন শাসকের কোন জমানায় কে কে ধর্ষিতা হয়েছেন সেই তালিকা।

সিরিয়ালে কাজ নেই। বদন বিগড়ে গেছে। ডাক্তারদের আন্দোলনে বিরিয়ানি খেতে গেছে। আমাদের নাম নিয়ে একটু ফুটেজও খাক!”

উল্লেখ্য, যে মহিলাকে নিয়ে তারা এত কথা বলছেন, এত অশ্লীলতা করে চলেছেন কলার তুলে তিনি পেশায় একজন অভিনেত্রী। ছোটপর্দার অত্যন্ত পরিচিত মুখ মৌসুমী ভট্টাচার্য প্রথম থেকেই আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, পথে নেমেছেন তিনি। সম্প্রতি নিয়মিতই থেকেছেন ডাক্তাদের ধর্নামঞ্চে। তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা করে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করেছেন তিনি। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৌসুমীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কুণাল ঘোষ, আর এই যে ছেলেটা, আমি নামও ভুলে যাই, হ্যাঁ দেবাংশু। যেদিন পাবলিকের হাতে পড়বে, দেখব কী হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাঁচাতে আসবে না। বাড়িতে বসে বসে প্রেসকে লেকচার দেয়। একদিন না একদিন পাবলিকের সামনে আসতেই হবে। একদিন না একদিন, ডাক্তারের কাছেও যেতে হবে। অসুস্থ তো সবাই হয়। সেই দিনটা খুব ভয়ানক ওদের কাছে।’

সেই অভিনেত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে শাসকদলের দুই নেতা কদর্যতা করে চলেছেন। যে আন্দোলন চলছে তাতে সম্ভাব্য সমস্ত 'ইভিটিজার', নিগ্রহকারীদের বিরুদ্ধেই তো চিৎকার করছেন মহিলারা। যে দলের নেত্রী নিজে বলছেন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেই দলের দুই ভিন্ন বয়সের দুই পুরুষ কার অনুমতিতে এই শ্লীলতার মাত্রা ছাড়ানো কাজ করে যাচ্ছেন প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে নেত্রীর স্নেহধন্য দেবাংশু, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'মা' মনে করেন তিনি একজন অন্য মহিলা সম্পর্কে তাহলে আড়ালে এই মানসিকতাই পোষণ করেন? তিনি আসলে মনে করেন 'বদন' বিগড়ানো মহিলাদের অপমান করাই যায়?

কুণাল ঘোষ অবশ্য এই ময়দানে নয়া খিলাড়ি নন। রাজনীতিকে কীভাবে কদর্যতায় রূপান্তর করা যায় এই নিয়ে আগামীতে গবেষণা হলে অবশ্যই এই নেতার বিবিধ মন্তব্যের উদাহরণ ব্যবহৃত হবে। তাহলে, যে শাসকদলের দুই নেতাই মহিলাদের প্রকাশ্যে অপমান করে চলেছেন বুক ফুলিয়ে তাঁদের দলই আবার তিলোত্তমার ধর্ষণের বিচারের দাবিতে কথা বলছে, বিষয়টা গোলমেলে ঠেকে না কি? কিছুদিন আগে তৃণমূলের এক কাউন্সিলর প্রকাশ্য সভায় আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়েছিলেন এই বলে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কুৎসা করলে তিনি আন্দোলনকারীদের মা-বোনদের ছবি বিকৃত করে দেওয়ালে টাঙিয়ে দেবেন। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল ব্যবস্থা নেয়। বরখাস্ত করা হয়। সেই খবর এই কুণাল ঘোষই সোশ্যাল মিডিয়াতে ফলাও করে লেখেন। আর প্রমাণ করে দেন চুনোপুঁটিদের বিররুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ। তাঁর বা দেবাংশুর মাথায় আশ্রয়ের হাত না থাকলে কি এই কদর্যতা গর্ব করে সোশ্যাল মিডিয়াতে করতে পারতেন তারা? জনসমক্ষে জানান দিতে পারতেন মহিলাদের কোন নজরে দেখতে চান তারা? রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের কটাক্ষ করা, সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার, গণতান্ত্রিক সুস্থতা। সেই গণতন্ত্রকে কোন অশ্লীলতায় নামিয়ে আনলেন শাসকের ছায়ায় থাকা এই মানসিকতার মানুষরা!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?