হিন্দু ধর্মের অবমাননা হয়নি! বিজেপির নালিশ উড়িয়ে রাহুলের পাশেই শঙ্করাচার্য

Rahul Gandhi: সম্প্রতি একটি বক্তৃতায় তিনি জানিয়েছেন, তিনি রাহুল গান্ধির পুরো বক্তব্যটাই শুনেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোথাও কোনওভাবে হিন্দুধর্মের অবমাননা বা বিরোধিতা করেননি বিরোধী দলনেতা।

Sohini Das
৩ মিনিট
হিন্দু ধর্মের অবমাননা হয়নি! বিজেপির নালিশ উড়িয়ে রাহুলের পাশেই শঙ্করাচার্য

হিন্দুত্ব-বক্তব্যে এবার রাহুলের পাশে খোদ শঙ্করাচার্য। কার্যত বিজেপির অভিযোগকে 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' বলেই ভর্ৎসনা করলেন স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। লোকসভায় ভাষণ দিতে উঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যপক ভাবে বিঁধেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। শুধু রাহুল কেন, গোটা বিরোধী জোটই সুর চড়িয়েছে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। হবে না-ই বা কেন, বহু বছর পরে লোকসভায় জোরালো বিরোধী টক্কর পেয়েছে গেরুয়া শিবির। পেয়েছে বিরোধী দলনেতাও। রাহুল গান্ধি বক্তৃতা দিতে উঠে সুর চড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এমনকী প্রশ্ন তোলেন তাঁর ও তাঁর দলের হিন্দুত্ববাদ নিয়েও। রাহুলের মতে, হিন্দুধর্মের কোথাও হিংসার কথা নেই। শুধু হিন্দুধর্ম কেন, কোনও ধর্মেই নেই। অথচ বিজেপি শুধুই হিংসা ছড়ায়। ভোটমুখী দেশে মোদি-সহ একাধিক বিজেপি নেতার একাধিক ঘৃণাভাষণ তেমন ইঙ্গিতই করেছে। এই মর্মে রাহুলের বক্তব্য, বিজেপি বা মোদি, কেউই আসলে হিন্দু নন।

রাহুলের এই বক্তব্যটিকে ইস্যু করে এর পরেই আসরে নামে বিজেপি। রাহুলের বক্তব্য হিন্দুধর্মের প্রতি অপমান ও অসম্মানজনক বলে দাবি করেন মোদি-সহ বহু বিজেপি নেতাই। সে নিয়ে শুরু হয় জোর তরজা। আঙুল তোলা হয় রাহুলের দিকে। এমনকী লোকসভার অধিবেশনের থেকে বাদ যায় রাহুলের বক্তব্য। সে নিয়ে লোকসভার স্পিকারকে প্রশ্ন করে লম্বাচওড়া চিঠিও লেখেন বিরোধী দলনেতা। হিন্দু-বিদ্বেষী বলে রাতারাতি দেগে দেওয়া হয় রাহুল গান্ধিকে।

রাহুলের বক্তব্য ঘিরে বিজেপি যতই চাপে পড়ুক না কেন, যতই বিজেপি আক্রমণ শানাক না কেন, সংসদে রাহুলের বক্তব্যকে সমর্থনও করেছেন অনেকেই। এবার সেই ইস্যুতে রাহুল পাশে পেলেন চার শঙ্করাচার্যের অন্যতম স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। এর আগে তিনি নির্মীয়মান রামমন্দিরে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আপত্তিও জানিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানের। এবার রাহুল গান্ধিকে হিন্দু-বিদ্বেষী বলার প্রতিবাদ জানালেন স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দজি। এমনকী শাসকদলের বিরুদ্ধে দাগলেন তোপও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘হিন্দুই নন!’ লোকসভায় সরাসরি আক্রমণ রাহুলের, উত্তর দিতে কালঘাম ছুটল টিম মোদির

Rahul Gandhi Vs Narendra Modi: সপ্তাহের শুরুর দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদে পেয়ে ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বিজেপি এবং মোদির হিন্দুত্ব নিয়েই এদিন প্রশ্ন তুলে দেন রাহুল।

हमने राहुल गांधी का पूरा भाषण सुना। वे साफ कह रहे हैं कि हिंदू धर्म में हिंसा का स्थान नहीं है।

राहुल गांधी कहीं भी हिंदू धर्म के विपरीत बात नहीं कर रहे हैं।

राहुल गांधी के आधे वक्तव्य को फैलाना अपराध है। ऐसा करने वाले को दंडित किया जाना चाहिए।

:- शंकराचार्य स्वामी…

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দু মানেই বিজেপি নয়, অযোধ্যা শিক্ষা দিয়েছে, লোকসভায়  রাহুল

Rahul Gandhi's Lok Sabha Speech: সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই একের পর এক বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গেল রাহুলকে। কার্যত তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে নাকানিচোবানি খেতে দেখা গেল একাধিক তাবড় বিজেপি নেতাকে।

— Congress (@INCIndia)

হিন্দুধর্মের বিষয়ে শঙ্করাচার্যদের মন্তব্যকে প্রাধান্য দেয় গোটা দেশই। অসম্পূর্ণ রামমন্দিরে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা নিয়েও তাঁদের আপত্তিকে ঘিরে বেশ চর্চা হয়েছিল। এবার রাহুলের হিন্দুত্ববাদ সংক্রান্ত প্রশ্নে নিজের সমর্থন জানালেন তিনি। সম্প্রতি একটি বক্তৃতায় তিনি জানিয়েছেন, তিনি রাহুল গান্ধির পুরো বক্তব্যটাই শুনেছেন। আর তা শোনার পরেই তাঁর স্পষ্ট মত, হিন্দুধর্মে সহিংসতার কোনও জায়গা নেই। রাহুল গান্ধি কোথাও কোনওভাবে হিন্দুধর্মের অবমাননা বা বিরোধিতা করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য অর্ধেকটা শুনে প্রচার করা অপরাধ। এবং তা শাস্তিযোগ্য বলেই মনে করছেন শঙ্করাচার্য। শঙ্করাচার্যের সংযোজন, 'ধর্মের অর্থ আসলে ধারণ করা। সেখানে ঘৃণার জায়গা নেই। স্রেফ হিন্দু নয়, যে কোনও ধর্মের ক্ষেত্রেই এ কথা সত্যি।'

সেদিন সংসদে মোদির বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তোলেন রাহুল। ভোটের আগে যেভাবে দেশ জুড়ে ঘৃণা ছড়িয়েছে বিজেপি, তার ঘোরতর নিন্দা করেছিলেন রাহুল। সেই প্রসঙ্গেই হিন্দু ধর্মের স্বরূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেন রাহুল। তা বলতে গিয়ে একটি শিবের ছবি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। যদিও তাঁকে সে কাজে বাধা দেয় স্পিকার। এর পরেই হিন্দুধর্ম নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে তুলে ধরে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী দু'বার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছ'বার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দু'থেকে তিনবার, কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহ্বান একবার এবং ভূপেন্দ্র বাঘেল একাধিকবার উঠে দাঁড়িয়ে বিরোধিতা করেন। এভাবে কোনও দলকে দোষারোপ করা যায় না বলে উল্লেখ করে সোচ্চার হন অমিত শাহ। একইভাবে রাজনাথ সিং সহ অন্যান্য BJP নেতারাও রাহুলের বিরোধিতা করেন সংসদে বসেই। তার আবহে গোটা দেশের বিজেপি সমর্থকেরাই রাহুলকে বিঁধতে থাকেন বিষবাক্যে। তবে রাহুল যে খুব একটা ভুল বলেননি বা তাঁর উদ্দেশ্য ভুল ছিল না, তা প্রমাণ করে দিয়েছে খোদ শঙ্করাচার্যের সমর্থন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।