আরজি কর: মাথায় কার হাত? কেন পুলিশ কমিশনারের নামে নথিভুক্ত ধৃতের বাইক?

RG Kar Doctor Rape-Murder: অভিযোগ, ওই বাইকটিতে চেপেই সেদিন আরজিকর হাসপাতালে গিয়েছিল ধৃত সঞ্জয়। ঘটনার আগে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজেও সেই ছবি ধরা পড়েছে।

inscript
৩ মিনিট
আরজি কর: মাথায় কার হাত? কেন পুলিশ কমিশনারের নামে নথিভুক্ত ধৃতের বাইক?

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনায় ধৃত সিভিক ভলিন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করেছে সিবিআই। সেই পরীক্ষায় তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একাধিক তথ্য। এর মধ্যেই ধৃত সিভিক ভলিন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের ব্যাপারে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। প্রথম থেকেই পেশায় সিভিক ভলিন্টিয়ার কেন এত প্রভাবশালী সেই প্রশ্ন উঠেছিল। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, যে বাইকটি ব্যবহার করতেন ধৃত সঞ্জয় রায়, সেটিও নাকি নথিভুক্ত রয়েছে কলকাতা পুলিশের নামেই। না, শুধু কলকাতা পুলিশ বললে ভুল হবে, খোদ পুলিশ কমিশনারের নামেই নথিভুক্ত ছিল অভিযুক্তের বাইক।

রবিবার প্রেসিডেন্সি জেলে পলিগ্রাফ পরীক্ষা হয় অভিযুক্ত সঞ্জয়ের। ঘটনার দিন সে কী কী করেছিল রাতভর, তার অনেক কিছুই জানা গিয়েছে তদন্তকারীদের জেরায়। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে দুটি যৌনপল্লিতে ঘোরা ছাড়াও রাস্তায় এক মহিলার শ্লীলতাহানি করেছিল সে। তবে তাঁর সমস্ত বক্তব্যে ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি রয়েছে বলেই দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। এই পরিস্থিতিতে কেন অভিযুক্ত সিভিক পুলিশের বাইকটি খোদ পুলিশ কমিশনারের নামে নথিভুক্ত, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেহ উদ্ধারের পর সেমিনার রুমে কাদের ভিড়? যে সব প্রশ্ন তুলে দিল আরজি কর কাণ্ডের ভাইরাল ভিডিও

RG Kar Hospital Incident: ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে ভিড়ে ঠাসা একটি ঘরের ছবি। অন্তত জনা তিরিশেক মানুষ জটলা করে রয়েছেন সেখানে। কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে, কেউ বা হাঁটাচলা করছেন।

যদিও মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সোশ্যালমিডিয়ায় বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে,কলকাতা পুলিশের ব্যবহারের জন্য সমস্ত সরকারি যানবাহনই সরকারি ভাবে পুলিশ কমিশনারের নামে নথিভুক্ত করা হয়। তার পর সেগুলি বিভিন্ন বিভাগের হাতে ব্যবহারের জন্য তুলে দেওয়া হয়। ধৃত সঞ্জয় রায় সিভিক ভলিন্টিয়ার পদে থাকায়, তার ব্যবহারের জন্য বাইকটিও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের নামেই নথিভুক্ত ছিল। এতে কোনও রকম আইনের অপব্যবহার বা বিচ্যুতি নেই বলেই জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

গ্রেফতারের পরেই ধৃত সঞ্জয় রায়ের বাইকটি বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। তবে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই বাইকও তথ্যপ্রমাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছিল সিবিাইয়ের হাতে। কলকাতা পুলিশের তরফে তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, এই বাইক নিয়ে সমাজমাধ্যমে কেউ কেউ ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুলিশ যে সব সরকারি যানবাহন ব্যবহার করে, তা সবই নথিভুক্ত থাকে পুলিশ কমিশনারের নামে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সেই রাতে যৌনহেনস্থা আর এক মহিলাকেও? যে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এল আরজি কর-অভিযুক্তের পলিগ্রাফ টেস্টে

Sanjay Roy Polygraph Test:  এদিকে পলিগ্রাফ টেস্ট থেকে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের ঘটনার দিন দু-দু'টি যৌনপল্লিতে যাওয়ার কথাও।

অভিযোগ, ওই বাইকটিতে চেপেই সেদিন আরজিকর হাসপাতালে গিয়েছিল ধৃত সঞ্জয়। ঘটনার আগে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজেও সেই ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, আরজি কর হাসপাতালের করিডরে যখন হাঁটছেন সিভিক ভলান্টিয়ার,তার হাতে ঝুলছে হেলমেট। স্বাভাবিক ভাবে সেই বাইকও এসে গিয়েছে তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায়।

অভিযুক্তদের বাড়ির লোক থেকে শুরু করে প্রতিবেশী বা পরিচিত সকলেই মেনেছেন, ওই সিভিক ভলিন্টিয়ার সঞ্জয় 'কেপি' (কলকাতা পুলিশ) লেখা বাইকে চেপে সদর্পে ঘুরে বেড়াত। সিবিআইয়ের একটি সূত্রের খবর, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার আগের দিন সকাল থেকে পরের দিন ভোর পর্যন্ত মোট চার বার আরজি করে যায় অভিযুক্ত। তার মধ্যে একবার সঙ্গে ছিল আর এক সিভিক ভলিন্টিয়ার বন্ধু। পুলিশকে সঞ্জয় জানায়, সেই বন্ধুর পরিচিত আরজি করে ভর্তি ছিলেন, তাঁকে দেখতেই হাসপাতালে যায় সঞ্জয়।

চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের আগেই বা কেন নানা অজুহাতে আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে গিয়েছিল অভিযুক্ত। ঘটনাস্থল রেইকি করাই কি ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। সে সময়েও কলকাতা পুলিশ লেখা সাদা বাইকই ছিল তার বাহন। যে বাইকটি কিনা খোদ পুলিশ কমিশনারের নামে নথিভুক্ত। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, সিবিআই জানতে পেরেছে, সেদিন আরজিকরে দুষ্কর্ম সারার পরেও পুলিশের কোনও এক বড়কর্তার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল অভিযুক্ত। আদৌ কি সত্যি সেই অভিযোগ? আশা করা যায়, খুব শিগগিরই সেই সব তথ্যের কোণা ধরে বড় সত্যির কাছে পৌঁছে যাবেন তদন্তকারীরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।