সুপ্রিম কোর্টের কাজের ফেরার নির্দেশকে মানছেন না জুনিয়র ডাক্তাররা! কী দাবি তাঁদের?

RG Kar Junior Doctor Protest: সুপ্রিম কোর্টের কাজে ফেরার নির্দেশকে মানছেন না চিকিৎসকরা। নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন।

inscript
৩ মিনিট
সুপ্রিম কোর্টের কাজের ফেরার নির্দেশকে মানছেন না জুনিয়র ডাক্তাররা! কী দাবি তাঁদের?

সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের শুনানি। তাতে ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে বিশেষ কোনও দিশা না পাওয়া গেলেও জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে কাজে ফেরার সময়সীমা বেঁধে দেয় শীর্ষ আদালত। তবে কলকাতার জুনিয়র চিকিত্সকরা ঘোষণা করেছেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আরজি কর হাসপাতালে তিলোত্তমাকে ভয়ঙ্করভাবে ধর্ষণ করা এবং হত্যা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন তারা। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে কর্মবিরতি তুলে জুনিয়র ডাক্তারদের ফিরতে হবে কাজে। সোমবার সন্ধেয় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে চিকিত্সকরা বলেন এই প্রতিবাদ "জনগণের আন্দোলন এবং সরকার বা সুপ্রিম কোর্টের তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।"

আরজি কর হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা বলছেন, "সুপ্রিম কোর্টের শুনানি দেখে আমরা অত্যন্ত হতাশ। মামলা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে, রাজ্য পুলিশের হাত থেকে সিবিআইয়ের হাতে গেছে কিন্তু বিচার এখনও নাগালের বাইরে।" সোমবার শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের তরফের আইনজীবী বলেছেন, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে রাজ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন রাজ্যের আইনজীবী। চিকিৎসকরা বলছেন, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ভুল তথ্য তুলে ধরছে। কর্মবিরতির কারণে মোটেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এই কথা বলা যায় না।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ শাখা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাই হয়ে যাক না কেন, জুনিয়র ডাক্তারদের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করবে। আইএমএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "আমরা অপরাধের নৃশংসতার কথা মাথায় রেখে ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছিলাম। তবে আদালত এবং সিবিআইয়ের কার্যক্রম দেখে আমরা সম্পূর্ণভাবে হতাশ। আমাদের সহকর্মীকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য দ্রুত বিচারের জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। হাসপাতালগুলিতে অল্প কিছু মৃত্যুর জন্য জুনিয়র ডাক্তারদের যেভাবে দায়ী করা হয়েছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের কারণে কোনও হাসপাতালে পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয় না।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'মিথ্যা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী'! টাকা দিয়ে চুপ করানো প্রসঙ্গে কী বললেন তিলোত্তমার মা?

Mamata Banerjee on RG Kar: মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তাই ধর্ষিতা চিকিৎসকের মা সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, "যদি তাঁর পরিবারে এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে তিনি কী বলতেন?”

জুনিয়র ডাক্তাররা প্রায় এক মাস ধরে সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছেন। সোমবার শুনানির সময় শীর্ষ আদালত প্রতিবাদী চিকিত্সকদের মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে কাজে ফিরতে হবে বলে নির্দেশ দেয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, "আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যে ডাক্তাররা কাজে আসবেন, কোন প্রতিকূল পদক্ষেপ করা হবে না। সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কর্মবিরতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।" এই টানা এক মাসের বিক্ষোভের ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "তারা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। আমরা সুযোগ-সুবিধা দেব কিন্তু তাদেরও প্রতিদান দিতে হবে। চিকিৎসকরা যদি আবার কাজ শুরু না করেন, তাহলে সরকারকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে আমরা আটকাতে পারব না।" প্রধান বিচারপতি আরও জানান, জুনিয়র ডাক্তাররা এমনটা বলতেই পারেন না যে সিনিয়ররা কাজ করছেন, তাই তারা করবেন না।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই কাজে ফেরার নির্দেশকে মানছেন না চিকিৎসকরা। নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে আরজি-কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন। পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা (ডিএইচএস) এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার (ডিএমই) ইস্তফাও দাবি করেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। জুনিয়র ডাক্তারদের পাঁচ দফা দাবি কী কী?

১। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করা, অপরাধের উদ্দেশ্য সামনে আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর গণ আন্দোলন | কেন ফায়দা তুলতে পারছে না রাম-বাম?

Mamata Banerjee RG Kar: রাজনৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার কাছে বিচার চাইতে গেলে রাজনীতি না করে কি চ্যারিটি করবে জনগণ?

২। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার।

৩। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে ‘ব্যর্থ প্রমাণিত’ কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের ইস্তফা।

৪। রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

৫। রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।