ব্যাঙ্ক লেনদেন থেকে ব্যক্তিগত কথা, 'অমৃত মহোৎসব'-এর দেশে গোপনীয়তার নেই মালিকানা

পরাধীনতার শৃঙ্খল কাটিয়ে উঠতে ২০০ বছর লেগেছিল যে ভারতের, মাত্র আড়াই দশকে সেই ভারতকে ফের দাসত্ব স্বীকারে বাধ্য করে ফেলেছে ইন্টারনেট।

pampii adhikari
৫ মিনিট
ব্যাঙ্ক লেনদেন থেকে ব্যক্তিগত কথা, 'অমৃত মহোৎসব'-এর দেশে গোপনীয়তার নেই মালিকানা

সাদা সুতোয় জাল বোনে সে,

হয় না বুনোন সারা—

পণ ছিল তার ধরবে জালে

লক্ষ কোটি তারা...

আন্তর্জালের ফাঁদে বন্দি দুনিয়া দেখে যেতে পারেননি কবি। নইলে তারা নয়, হয়তো শিকার ধরার কথা লিখে যেতেন। ঘুমে ঢুলে পড়া তো দূর, অজস্র অতন্দ্র চোখ ঘুরে বেড়াচ্ছে রাতদিন। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের মানুষের নাওয়া-খাওয়া-শোওয়ার হিসেব রাখছে। কাজটি এককথায় খোচড়গিরি হলেও, পুঁজিপতি নাম বাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিকারির দল। রাতারাতি সিলিকন ভ্যালিতে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে গগনচুম্বী প্রাসাদ। কোন দেশে কে সরকার চালাবে, তা-ও ঠিক করে দিচ্ছে। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে পার্থিব, অপার্থিবর ভেতরের ফারাক ভুলতে বসেছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তাই ধুমধাম করে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির ৭৫ বছর পালন করলেও, নিজের অজান্তেই স্বীকার করে নিচ্ছেন আন্তর্জালের দাসত্ব।

খাতায়-কলমে ১৯৮৩ সালে উৎপত্তি ঘটে ইন্টারনেটের, যার বাংলা তর্জমা আন্তর্জাল। ভারতে এর আগমন আরও পরে, ১৯৯৫ সালে। কিন্তু পরাধীনতার শৃঙ্খল কাটিয়ে উঠতে ২০০ বছর লেগেছিল যে ভারতের, মাত্র আড়াই দশকে সেই ভারতকে ফের দাসত্ব স্বীকারে বাধ্য করে ফেলেছে এই আন্তর্জাল। তাতে বই বা খবরের কাগজের পাতা উল্টে জানার অভ্যাস ঘুচেছে ভারতবাসীর। বাজার দোকানে ঘুরে, দরদাম করে খাঁটি জিনিস কেনার অভ্যাস গিয়েছে। ফোনে আঙুল চালানো রপ্ত করে মিতভাষী হয়ে পড়েছেন মানুষ। তাই এককালের অভিন্নহৃদয় সম্পর্ক বন্দি হয়ে গিয়েছে হাই-হ্যালোর শব্দবন্ধে। মিটারে যাওয়া নিয়ে ট্যাক্সিওয়ালার সঙ্গে তর্কাতর্কি চেয়ে বেশি টাকায় ওলা, উবের ডেকে নেওয়া শ্রেয় বলে মনে হয় আজকাল।

এত প্রকার ঝক্কি থেকে মানুষকে নিস্তার দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মান্যিগন্যি না করে যান কোথায় সাধারণ মানুষ! কিন্তু তাতে যে ক্রমশ নজরদারির পুঁজিবাদ তাঁদের গ্রাস করে ফেলছে, তা বোঝেন কমজনই। ইতিহাস থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পুঁজিবাদ কথাটির সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে বার বার।। কিন্তু আন্তর্জালের মাধ্যমে নজরদারি পুঁজিবাদের রমরমা বেড়েছে বিগত কয়েক বছরে। আন্তর্জালের ওপর ভর করে টিকে রয়েছে এই নজরদারির পুঁজিবাদ। এর আওতায় প্রলোভনের ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে নিরন্তর। কারা হাতিয়ে নিচ্ছে এই তথ্য? গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, এমনকী, অ্যাপ ক্যাব এবং বাড়ির দরজায় খাবার সরবরাহকারী সংস্থাও।

সার্চ ইঞ্জিন বা সোশ্যাল মি়ডিয়া প্ল্যাটফর্মে কে, কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কী লিখছেন, তার ওপর সারাক্ষণ নজর রয়েছে এই সংস্থাগুলির। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ, কোথায় আনাগোনা, তাঁর পরিবারের সদস্য কারা, বন্ধুবান্ধবই বা কারা, সব জেনে নিচ্ছে তাঁরা। সেই অনুযায়ী ব্যক্তিবিশেষের ডেটাবেস তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে কারণে একবার যদি সাদা শার্ট কিনতে অনলাইন ঢুঁ মারা হয়, তারপর থেকে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে আরও শার্ট কেনার লোভনীয় অফার চোখে পড়ে। কোনও বিকেলে হয়তো অনলাইন থেকে মোমো অর্ডার করে খাওয়া হয়েছে, পরদিন আর কী খাওয়া যেতে পারে, তার ফিরিস্তি আসতে শুরু করে। তারপরেও অর্ডার না দিলে, প্রিয়জন যেমন ফোন করে খাবার কথা মনে করিয়ে দেন, ঠিক তেমনভাবে মেসেজ ঢুকতে শুরু করে। দ্বিতীয়বার অর্ডার না পেয়ে যে বুক ফেটে যাচ্ছে রেস্তোরাঁর মালিকের, বোঝানো হয়।

পুঁজিবাদ বলতে আমরা বুঝি এমন এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে শিল্প-কারখানা, সম্পত্তি-সহ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর সামগ্রিক মালিকানা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ কুক্ষিগত করে রাখেন। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে লিপ্ত জনসাধারণকে নিজেদের সুবিধেমতো পরিচালনা করেন তাঁরা। আন্তর্জালকে ব্যবহার করে বর্তমানে ডানা মেলেছে নজরদারি পুঁজিবাদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অনলাইন আচরণ-বিচরণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য পণ্য বিক্রয়কারী বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলিকে মোটা টাকায় বিক্রি করা হয়। ব্যক্তি এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষ যতটাও বা সচেতন, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নিয়ে সেভাবে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি এখনও। তাই অনেকই বলে থাকেন, তাঁদের কিছু লুকনোর নেই। কিন্তু তা অজ্ঞতা বই কিছু নয়।

এর প্রমাণস্বরূপ কয়েক বছর আগে ভাইরাসের আকার ধারণ করা ‘পোকেমন গো’ গেম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। ওই গেমটির প্রতি আসক্তি জন্মে ছিল যাঁদের, পোকেমন ধরতে তাঁদের দূর-দূরান্তে পাড়ি দেওয়ার নজির রয়েছে। নেহাত স্বতঃস্ফূর্ত গেম ছিল না ‘পোকেমন গো’। কোন পর্যায়ে কতদূর টেনে নিয়ে যাওয়া যায় গ্রাহককে, রীতিমতো অঙ্ক কষে তৈরি রাখা হয়েছিল সবকিছু। ফলে পোকেমন কিনতে যাঁরা রেস্তরাঁ, পানশালায় পর্যন্ত ঢুকে পড়েছেন, সেখানে কিছু কিনতে হয়েছে তাঁদের। বিমান ভাড়া করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র উড়ে গিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মোটা টাকা গচ্ছা গিয়েছে। অর্থাৎ, খেলার ছলে শুধু দূর-দূরান্তে টেনেই নিয়ে যাওয়া হয়নি মানুষকে, অপ্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতেও বাধ্য করা হয়েছে। আর তার দৌলতে ‘পোকেমন গো’ বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় ভিডিও গেম হয়ে ওঠে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-এর জুন মাসের হিসেবে এখনও প্রতি মাসে ৮ কোটি মানুষ ‘পোকেমন গো’ খেলেন। ১০০ কোটির বেশি মানুষ ভিডিও গেমটি মোবাইলে ডাউনলোড করে খেলেছেন। এই বিপুল পরিমাণ ফুটফল (গ্রাহক সংখ্যা) দেখিয়ে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে ‘পোকেমন গো’-র স্রষ্টা, জাপানের ‘নিনটেন্ডো’ সংস্থা। ওই ভিডিও গেমটিকে নির্ভর করে তৈরি হয়েছে অ্যানিমে সিরিজ, পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছায়াছবি, খেলনা এবং অন্য পণ্যসামগ্রী। শুধুমাত্র ‘পোকেমন গো’ ভিডিও গেম তৈরি করেই ৬০০ কোটি ডলার উপার্জন করেছে ‘নিন্তেন্দো’। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে ওই সংস্থা।

নজরদারির এই পুঁজিবাদকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ফেসবুক কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ। নয়া ‘মেটাভার্স’ জগতের সূচনা করেছেন তিনি, যার মাধ্যমে হেডসেট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে একেবারে ভার্চুয়াল দুনিয়ার সঙ্গে মিশে যাবেন মানুষ। যা কিছু কল্পনা করবেন মানুষ, প্রায় সবকিছুর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এর ফলে ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বন্ধুবান্ধব থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই রয়েছেন বলে মনে হবে। ভিডিও বার্তা পাঠালে মনে হবে, সামনে বসেই কথা বলছেন প্রিয়জন। জুমকল শুধুমাত্র কম্পিউটার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা মুখ হয়ে থাকবে না, মনে হবে এক টেবিল ঘিরে পরস্পরের পাশে বসে কথা হচ্ছে। গেম খেলার সময় মনে হবে, কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ নেই, ওই জগতের মধ্যেই ঢুকে পড়া গিয়েছে। অর্থাৎ, শুধু ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনেই আর মানুষকে বেঁধে রাখবে না আন্তর্জাল, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মতোই ইচ্ছামতো পরিচালনাও করা যাবে।

এর আগে, ২০২০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে আসে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। জানা যায়, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি সংস্থার হাতে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের সম্পর্কে বিপুল তথ্য তুলে দেয় জাকারবার্গের সংস্থা। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা সংস্থার সঙ্গে আবার রিপাবলিকানদের গভীর সংযোগ ছিল। রিপাবলিকান শিবিরেরই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেসবুকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে তাই রিপাবলিকানদের তরফে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে আমেরিকার কংগ্রেসে হাজিরাও দিতে হয় জাকারবার্গকে। ব্রেক্সিট নিয়েও ফেসবুকের ভূমিকার কথা সামেন এসেছে। আবার ভারতের নির্বাচনেও বিজেপি-র প্রতি ফেসবুকের নরম অবস্থান নিয়ে কম টানাপোড়েন হয়নি।

তাই হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপিকা শোহশানা জাবফ আন্তর্জাল মাধ্যমের এই ব্যবসাকে নজরদারি পুঁজিবাদের গোত্রে ফেলেছেন। নিজের লেখা বই ‘দ্য এজ অফ সার্ভেইল্যান্স ক্যাপিটালিজম’-এ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিলিকন ভ্যালির তাবড় মুখ এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কার্যত ট‍্যাঁকশাল খুলে ফেলেছেন। নজরদারি পুঁজিবাদের এতটাই ব্যাপ্তি ঘটেছে যে, সামগ্রিকভাবে নয়, ব্যক্তিবিশেষকে এক এক করে চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন থেকে ব্যক্তিগত কথোপকথন, অনলাইন বিচরণ, কেনাকাটা, লোকেশন ট্র্যাকের মাধ্যমে গতিবিধি, সবকিছুর উপরই নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশ্বের তাবড় গণতান্ত্রিক দেশের সরকারও এই তথ্য আদানপ্রদানে যুক্ত।

নয়া তথ্য-প্রযুক্তি আইনের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেজ বক্সে কী কথা চালাচালি হচ্ছে, কে তা চালাচালি করছে, সেই তথ্য খোলসা করতে হবে বলে নিদান দিয়েছে ভারত সরকার। সেই নিয়ে টানাপোড়েন চলছে আজও। সেই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের নাগরিকদের কত শতাংশ নিজেদের সেই অধিকার সম্পর্কে অবগত। অনলাইন মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়া নিয়ে স্বাধীনতার ৭৫ বছরেও কোনও নির্দিষ্ট আইন তৈরি হলো না কেন, প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে গুটিকয়েক মানুষকেই। আর তাতেই ডালপালা মেলে আরও চারিয়ে বসছে নজরদারি পুঁজিবাদ। তাই তেরঙ্গা উড়িয়ে, জাতীয় সংগীত গেয়ে যতই স্বাধীনতার অমৃতকাল পালন করা হোক না কেন, দাসত্বের শৃঙ্খলে আজও বাঁধা পড়ে ভারত।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।