বিজেপির উপর গোঁসা করেই তৃণমূলে! 'বহিরাগত' শত্রুঘ্ন এবারও জিতবেন?

Shatrughan Sinha Asansol: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, বিজেপি তাঁকে পটনা সাহেব আসন থেকে সরিয়ে দেয়

inscript
৩ মিনিট
বিজেপির উপর গোঁসা করেই তৃণমূলে! 'বহিরাগত' শত্রুঘ্ন এবারও জিতবেন?

প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হতে মাত্র ২ সপ্তাহ। অথচ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসনে এখনও প্রার্থী দিতেই পারেনি। অন্যদিকে, সিপিআইএম এবং তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করে লড়াই শুউর করে দিয়েছে। বামেদের হয়ে লড়ছেন জাহানারা খান। আর তৃণমূলের ভরসা এবারেও অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়বেন শত্রুঘ্ন। বিজেপির হয়ে লড়ে গত লোকসভায় জিতেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তারপর তিনি পদত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় এই আসন খালি হয়ে যায়। তারপর ২০২২ সালের উপনির্বাচনে তিন লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তিনবারের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।

১৯৪৫ সালের ৯ ডিসেম্বর শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম পটনায়। পটনা বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা শেষ করে চলে আসেন মহারাষ্ট্রে। পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই) থেকে স্নাতক হন তিনি। শত্রুঘ্ন সিনহা তাঁর বলিউডের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন দেব আনন্দের প্রেম পূজারি (১৯৭০) সিনেমা দিয়ে। এরপর মেরে আপনে, কালীচরণ, দোস্তানা এবং কালা পাথর-এর মতো সিনেমাম অভিনয়ের জন্য প্রশংসা অর্জন করেন, ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যাদবপুরে সততা বনাম দুর্নীতি! সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী সৃজন ভট্টাচার্য?

Srijan Bhattacharyya: যাদবপুরে এবার সৃজন বনাম সায়নী, সততা বনাম দুর্নীতির লড়াই।

রাজনীতিতে শত্রুঘ্নের প্রবেশ ১৯৮০ সালে। বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে নির্বাচনী আত্মপ্রকাশ করেন শত্রুঘ্ন। নয়াদিল্লি আসনের উপনির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরেক অভিনেতার বিরুদ্ধে, রাজেশ খান্না। কংগ্রেস প্রার্থী রাজেশ খান্নার কাছে ২৫,০০০ ভোটে হেরে যান শত্রুঘ্ন।

শত্রুঘ্ন সিনহা ১৯৯৬ এবং ২০০২ সালে দুই মেয়াদে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের অধীনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী (২০০২-০৩) এবং তারপর নৌপরিবহন মন্ত্রীর (২০০৩-০৪) দায়ভারও সামলেছিলেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বারুইপুর, যাদবপুর হয়ে দমদম! 'সুদিন' ফেরাতে পারবেন সুজন চক্রবর্তী?

Sujan Chakraborty CPIM: সুজন চক্রবর্তী বারবারই বলেছেন, তৃণমূলের ঘরেই বিজেপির লালন পালন। এ রাজ্যেও তৃণমূলের হাত ধরেই বিজেপির বাড়বাড়ন্ত।

২০০৯ সালে ফের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসেন তিনি। পটনা সাহেব লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন আরেক অভিনেতা, কংগ্রেস প্রার্থী শেখর সুমন। ২০১৪ সালে, যখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি দেশ জুড়ে গেরুয়া ঝড় বইয়ে দেয় তখন কংগ্রেস প্রার্থী কুণাল সিংকে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছিলেন শত্রুঘ্ন।

২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে, শত্রুঘ্ন সিনহা জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট অর্থাৎ এনডিএ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির চরম সমালোচনার করতে থাকেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, বিজেপি তাঁকে পটনা সাহেব আসন থেকে সরিয়ে দেয়, ওই আসনে প্রার্থী করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। শত্রুঘ্নকে টিকিট না দেওয়ায় তিন দশকের দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি থেকে বিদায় নেন শত্রুঘ্ন। কংগ্রেসের টিকিটে পটনা সাহেব আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ঠিকই কিন্তু রবিশঙ্কর প্রসাদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। ২০২২ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং সেবছর আসানসোল আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে লোকসভায় ফিরে আসেন।

আসানসোল লোকসভার মধ্যে রয়েছে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র, পাণ্ডবেশ্বর, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি, বারাবনি। ১৯৮৯ থেকে শুরু করে টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই আসন ছিল বামেদের দখলে। প্রথমে হারাধন রায়, তারপর বিকাশ চৌধুরী এবং বংশগোপাল চৌধুরী এই আসন সামলেছেন। ২০১৪ সালে বাবুল সুপ্রিয়র হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি এখানে খাতা খোলে। কিন্তু বাবুল দলবদল করায় উপনির্বাচনে তৃণমূলের শত্রুঘ্ন এখানে জিতে যান। অন্যদিকে জামুড়িয়ার জাহানারা খান দীর্ঘদিনের বামপন্থী নেত্রী। লড়াকু মনোভাবের জাহানারা এই অঞ্চলের মানুষও। বাংলায় বাংলাভাষীকে প্রার্থী করার দাবি নিয়ে বাংলাপক্ষর মতো সংগঠন সরাসরি জাহানানারা খানকে সমর্থন করছে। তাই কি প্রার্থী বাছাইয়ে এবার এত সময় নিচ্ছে বিজেপি? হারানো আসন ফিরে পাবে গেরুয়া বাহিনী?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।